kalerkantho



লাতিনের চেয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবল বেশি এগিয়েছে

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন দাভিদ ত্রেজেগে। ২০০০ থেকে ২০১০—ক্যারিয়ারের সোনালি সময়টা কাটিয়েছেন জুভেন্টাসে। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো তাঁর পুরনো ক্লাবে নাম লেখানোয় অভিনন্দন জানিয়েছেন তাঁকে। স্প্যানিশ দৈনিক মার্কায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে জানালেন ইউরোপের এগিয়ে যাওয়ার কথা। তাঁর নজর এড়ায়নি আজেন্টিনার ব্যর্থতাও।

 

প্রশ্ন : ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর আপনার পুরনো ক্লাব জুভেন্টাসে আসার কারণ কী?

দাভিদ ত্রেজেগে : রোনালদোর সিদ্ধান্তটা বিস্ময়কর। আমি মনে করি ওর আগমনে ইতালিয়ান ক্লাব ফুটবলের ভাবমূর্তি বাড়বে অনেক। রোনালদোর প্রতিভা পুরো দলকে উদ্দীপ্ত করবে। সবাইকে উৎসাহ জোগাবে আরো ভালো খেলতে। নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে জুভেন্টাসে এসেছে রোনালদো। হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করে সেটা করেও দেখাবে। এটাকে পেছনের দরজা দিয়ে পালানো বলব না, ইতিবাচকই বলব আমি। ও যখন রিয়াল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিশ্চয়ই এর পেছনে ভালো কারণ আছে।

প্রশ্ন : এ নিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্স...

দাভিদ ত্রেজেগে : গত ছয় মাস ধরে দারুণ খেলছে ফ্রান্স। অতীতের মতো এই দলেও দারুণ আক্রমণাত্মক কিছু খেলোয়াড় আছে। আধুনিক ফুটবলে রক্ষণ দৃঢ় রাখাটাও জরুরি। কর্নার, ফ্রিকিক থেকে অনেক বেশি গোল হয় এখন। ইউরো ফাইনাল খেলার পর বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছে ফ্রান্স। এমন সাফল্যই বলছে দলের গভীরতার কথা।

প্রশ্ন : ফাইনালের ফলের ওপর কি আগামী ব্যালন ডি’অর নির্ভর করছে?

দাভিদ ত্রেজেগে : অবশ্যই। বিশ্বকাপজয়ী দলের কোনো খেলোয়াড়ের এটা পাওয়া উচিত। আমার মনে হয় আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান, কিলিয়ান এমবাপ্পে বা লুকা মডরিচের কারো এটা পাওনা। এমবাপ্পের কথা বলব আলাদা করে। ওর বয়স মাত্র ১৯ বছর আর অসাধারণ ফুটবল খেলছে। দারুণ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে এমবাপ্পের সামনে।

প্রশ্ন : এবার অল-ইউরোপিয়ান ফাইনাল দেখল রাশিয়া বিশ্বকাপ...

দাভিদ ত্রেজেগে : লাতিনের চেয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবল এগিয়েছে বেশি। এ জন্যই এবার শুধু ফাইনাল নয় সেমিফাইনালের চার দলই ইউরোপিয়ান। ফ্রান্স শুরু থেকে ফেভারিট ছিল। ইংল্যান্ড এবার চমকে দিয়েছে আমাকে। বেলজিয়ামের সেমিফাইনালে পৌঁছানোটাও বলছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের ভিত কত মজবুত এখন।

প্রশ্ন : ইউরোপের এই শৃঙ্খলা ছিল না বলেই কি ব্যর্থ হয়েছে আর্জেন্টিনা?

দাভিদ ত্রেজেগে : আর্জেন্টিনা ব্যর্থ হয়েছে এ জন্যই। ওদের খেলোয়াড়রা মাঠে ছন্দ খুঁজে পায়নি। মাঠে অস্বচ্ছন্দ্য ছিল সবাই। কোচিং স্টাফ বদল আর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কোনো ঝামেলা থাকলে আপনি সমস্যায় পড়বেনই। অথচ ওদের দলে বিশ্বের সেরা ফুটবলার মেসি ছিল।

প্রশ্ন : কী করলে আর্জেন্টাইন ফুটবল সঠিক পথে ফিরতে পারে?

দাভিদ ত্রেজেগে : শুধু আর্জেন্টিনার একার সমস্যা না। লাতিন অঞ্চলের বেশির ভাগ দলেই উন্নতির ছোঁয়া লাগেনি। ইউরোপিয়ান দলগুলো এখন বেশি কাজ করছে যুব দলগুলো নিয়ে। ফাইনালে পৌঁছানো ক্রোয়েশিয়ার কথাই ধরুন। ওদের দলের প্রায় সবাই উঠে এসেছে অনূর্ধ্ব-১৭, ১৮, ২০ বা ২১ দল থেকে। রাতারাতি ফাইনালে পৌঁছেনি ক্রোয়েশিয়া। ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া দুই দলের যে ঐক্য, সেটা দেখিনি আর্জেন্টিনার মধ্যে।

প্রশ্ন : জুভেন্টাস বা ফ্রান্স, জিনেদিন জিদানকে দুই দলের কোনোটির কোচ হিসেবে দেখার সম্ভাবনা আছে কি?

দাভিদ ত্রেজেগে : এখন জুভেন্টাস বা ফ্রান্স দুই দলেরই কোচ আছে। তাদের পরিকল্পনাও আছে কোচ নিয়ে। তবে জিদানকে অন্য ভূমিকায় দেখতে চাইব আমি।



মন্তব্য