kalerkantho


সেই ব্যাটিং ব্যর্থতা সেই বিশাল হার

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



সেই ব্যাটিং ব্যর্থতা সেই বিশাল হার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফিল্মের ভাষায় যাকে বলে ‘রিটেক’! অ্যান্টিগার পর জ্যামাইকা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট আর প্যাডের মাঝখানের বিশাল ফাঁক দিয়ে বোল্ড মুশফিকুর রহিম। অ্যান্টিগায় বোলার ছিলেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। বোলার আলাদা হলেও সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি মুশফিকের। যা এই মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রতীকী চিত্রও হয়ে উঠেছে। সাকিব আল হাসানদের কাছে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির ব্যবধান যেন মুশফিকের ব্যাট-প্যাডের ওই বিশাল ফাঁকের মতোই!

নাহ্, এই সিরিজের আগের তিন ইনিংসের যোগফল যাদের ৩৩৬ রান, তাদের কাছে ৩৩৫ রান তাড়া করে জেতার অলীক আশা কেউ করেনি। তাই বলে ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার মতো কিছু দেখার আশা নিশ্চয়ই বাড়াবাড়ি ছিল না। কিন্তু আবারও সেই বাজে ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী। অ্যান্টিগায় দুই দিন আর এক সেশনে হারের সঙ্গে খুব একটা পার্থক্য নেই। এবার বাংলাদেশ তিন দিনেই হারল ১৬৬ রানের বিশাল ব্যবধানেই। যাতে সিরিজও ২-০ তে জিতে নিল স্বাগতিকরা। এই জয়ে উজ্জ্বল ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন হোল্ডারও। প্রথম ইনিংসে ৪৪ রানে ৫ উইকেট নেওয়া এই পেসার এবার আরো বিধ্বংসী। ৫৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে করেছেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিংও। ম্যাচে এই প্রথম ১০ উইকেট নেওয়া হোল্ডার সব মিলিয়ে ১০৩ রান খরচায় শিকার ধরেছেন ১১টি। যা দেশের মাটিতে কোনো ক্যারিবীয় অধিনায়কের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও।

রেকর্ড একটি করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়কও। দ্বিতীয় ইনিংসে সাকিবের ৩৩ রানে ৬ উইকেট নেওয়া দেশের বাইরে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিংও। বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও দলের হয়ে একমাত্র প্রতিরোধ দেখা গেছে তাঁর ব্যাটেই। কিন্তু দিনের শেষে সব কিছুই মূল্যহীন হয়ে পড়েছে দলের বাজে ব্যাটিংয়ে। অথচ দিনের শুরুটা ভালোই ছিল সফরকারীদের। ১ উইকেটে ১৯ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস ১২৯ রানেই শেষ করে দেওয়াতে ছিল ভালো কিছুর লক্ষণই। সেই সম্ভাবনা অবশ্য পরে ফিকেই হয়েছে শুধু। এর শুরু ওপেনার তামিম ইকবালকে দিয়েই। হোল্ডারের ভেতরে ঢোকা বল প্যাডে লাগলে রিভিউ নিয়েও বাঁচেননি তিনি। ফিরে যান রানের খাতা খোলার আগেই। শুরুতে নড়বড়ে লিটন কুমার দাশ (৩৩ বলে ৩৩) পাল্টাআক্রমণে কিছু রান পেলেও শেষ পর্যন্ত বাইরের বল চালিয়ে গালিতে ক্যাচ দিয়ে তাঁর এতক্ষণের চেষ্টাকে পণ্ডশ্রম বলেই মনে করিয়ে যান। সিরিজে আগের ৩ ইনিংসে ১ রান করা মমিনুল হকও (১৫) টেকেননি বেশিক্ষণ। তবে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টিকটু ঠেকেছে দায়িত্বজ্ঞানহীন শটে মাহমুদ উল্লাহর (৪) উইকেট বিলিয়ে যাওয়াটা। এরপর পঞ্চম উইকেটে মুশফিক আর সাকিবের ৫৪ রানের সম্ভাবনাময় পার্টনারশিপ ভাঙতেই প্রতিরোধের সম্ভাবনাও প্রায় শেষ। এই টেস্টে জোড়ায় জোড়ায় আউট হওয়ার রীতি অব্যাহত দ্বিতীয় ইনিংসেও। মুশফিক আউট হওয়ার পরের বলেই গেলেন নুরুল হাসানও। সেটিও প্রথম ইনিংসের ‘রিটেক’। এবার হোল্ডারের সেই ভেতরে ঢোকা বলেই এলবিডাব্লিউ হওয়াটা নুরুলকে টুকে নিল অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের পাতায়ও। মাত্র দ্বিতীয় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে দুই ইনিংসেই প্রথম বলে আউট হয়ে ‘কিং পেয়ার’ পেয়েছেন যে! ততক্ষণে ব্যাটিংয়ের ‘টেইল’ এসে যাওয়ায় লড়াইটা হয়ে পড়েছিল একার সাকিবেরই। প্রতিপক্ষ অধিনায়কের ভেতরে ঢোকা বলে ৭৯ বলে ফিফটি করা সাকিবের (৫৪) স্টাম্পে আঘাত হানতেই ব্যাটিং ব্যর্থতার ষোলোকলাও পূর্ণ হয় বাংলাদেশের। সেই সঙ্গে কিছুদিন আগে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলেই টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের আটে ওঠা বাংলাদেশের আবার নয়ে ফিরে যাওয়াও নিশ্চিত হয়। দাপুটে জয়ে ক্যারিবীয়রা ফিরল র‌্যাংকিংয়ের আটে।



মন্তব্য