kalerkantho


মুখোমুখি

দেড়শ মিলিয়ন পাউন্ডের ত্রিভুজ

১৫ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



দেড়শ মিলিয়ন পাউন্ডের ত্রিভুজ

পল পগবা, এনগোলো কান্তে আর ব্লাইস মাতুইদি—এই তিনজনের সবশেষ ট্রান্সফার ফির যোগফল কত? দেড় শ মিলিয়ন পাউন্ডের কাছাকাছি। জুভেন্টাস থেকে পগবা ম্যানইউতে এসেছেন ১০৫ মিলিয়ন ইউরোতে, সঙ্গে বোনাস আছে আরো ৫ মিলিয়ন। এনগোলো কন্তেকে লিস্টার সিটি থেকে চেলসিতে নিতে রোমান আব্রামোভিচের খরচ হয়েছে ৩২ মিলিয়ন পাউন্ড। আর ব্লাইস মাতুইদিকে প্যারিস সেন্ত জার্মেই থেকে জুভেন্টাসে নিতে ট্রান্সফার ফি দিতে হয়েছে ২০ মিলিয়ন ইউরো, সঙ্গে তাঁর মাঠে উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আরো ১০.৫ মিলিয়ন ইউরো সম্ভাব্য বোনাস। অর্থাৎ এই তিনজন যদি একসঙ্গে একই ক্লাবে খেলতেন, তাহলে তাঁদের দলে আনতে অন্তত দেড় শ মিলিয়ন ইউরো খরচা করতেই হতো! দিদিয়ের দেশম তো এই বহুমূল্য ত্রিভুজ এঁকেছেন বলতে গেলে বিনে পয়সায়।

প্রকৃতিই বোধ হয় ফ্রান্সের পতাকায় মিলিয়ে দিয়েছে এই ত্রিভুজ। পল পগবার বাবা-মা আফ্রিকার গিনি থেকে এসেছেন ফরাসি দেশে, কান্তের বাবা-মা আশির দশকে মালি থেকে অভিবাসন করেছিলেন ফ্রান্সে আর মাতুইদির বাবা অ্যাঙ্গোলার, মা কঙ্গোর। কন্তে আর মাতুইদি বেড়ে উঠেছেন প্যারিসের কাছাকাছি এলাকাতেই, পগবার জন্মস্থান প্যারিসের বাইরে। তাঁদের সবার জীবনের গল্পটাই একই রকম। কারো বাবা গৃহযুদ্ধের সময় পালিয়ে এসেছেন, কেউ সাবেক ফরাসি উপনিবেশ থেকে রুটি-রুজির আশায় ছুটে এসেছিলেন ফ্রান্সে। আফ্রিকান নেশনস কাপে মালির হয়ে খেলার প্রস্তাব পেয়েছিলেন কান্তে, পগবার ভাই খেলেন গিনির হয়ে। দৈবসংযোগই বোধ হয় তাঁদের এক করেছে ফরাসি পতাকাতলে! হয়তো বিশ্বকাপটা জেতানোর জন্যই?

প্রতিভার সঙ্গে পরিশ্রমটা ছিল বলেই পায়ের নিচে জমি খুঁজে পেয়েছেন পগবা-কান্তেরা। নইলে কবেই তাঁদের ঠিকানা হতো অন্ধকার জগতে, ফ্রান্সে বেশির ভাগ আফ্রিকান অভিবাসীদের যেমনটা হয়। ফরাসি গণমাধ্যমে কান্তের তুলনা হচ্ছে ক্লদ ম্যাকেলেলের সঙ্গে, যদিও কান্তে লাসানু দিয়ারার ভক্ত! ২০১৬ সালে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন বলেছিলেন, কান্তে হচ্ছে লিগের সেরা খেলোয়াড়। লিস্টার সিটির রূপকথা গড়ে শিরোপা জেতায় জেমি ভার্ডি আর রায়াদ মাহরেজের সঙ্গে কান্তের অবদানটাও কোনো অংশে কম নয়।

পল পগবার কাজটা গোল করা বা গোল বাঁচানোর মতো স্পষ্ট নয় বলেই সেটা অনেক সময় চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে হয়। পগবা ১২টি ফাউল করেছেন, নিজে ১৪টি ফাউলের শিকার হয়েছেন, ৬টি ট্যাকল করেছেন, ১৫ বার ট্যাকলের শিকার হয়েছেন, ৩৩ বার বল হারিয়েছেন আর ১৮ বার বল কেড়ে নিয়েছেন প্রতিপক্ষের পা থেকে। মাঝমাঠে এই ব্যক্তিগত লড়াইগুলোয় হার-জিত হয়তো স্কোরশিটে গোলের মতো দেখা যায় না, কিন্তু এই খণ্ডযুদ্ধগুলো যারা বেশি জেতে, বেশির ভাগ সময় ম্যাচের ফলও তাদের পক্ষেই যায়। ৫ ম্যাচে পগবা প্রায় ৫০ কিলোমিটারের মতো দৌড়েছেন, ২৬৪টি পাসের ভেতর ২১৮টি পাস ঠিক নিশানায় পাঠিয়েছেন, আটবার প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে বল পাঠিয়েছেন। পরিশ্রমী এই মিডফিল্ডারের সরাসরি পাস থেকে হয়তো গোল হয়নি, কিন্তু মাঝমাঠের লড়াইগুলো জিতে সামনে বল বাড়িয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার কাজটা তো পগবারই করতে হয়।

মাতুইদিকে বলা হয় ‘হিংস্র ও শক্তিশালী’ ট্যাকলার। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের ফুটবলারদের ওপর চাপ তৈরি করা, বল কেড়ে নেওয়া, আক্রমণে বল বাড়ানো—এসব কাজের জন্যই তো দেশম ভরসা করেন মাতুইদির ওপর। রক্ষণে তিনি এই পর্যন্ত ৭টি ট্যাকলে ৩টায় হেরেছেন, ৪টায় জিতেছেন। পা থেকে বল ছুটেছে ১৭ বার, বলের দখল ফিরে পেয়েছেন ১৯ বার, ফাউল করেছেন ৫টি আর নিজে ফাউলের শিকার হয়েছেন ১০ বার।

সব মিলিয়ে শক্তপোক্ত, দৃঢ় আর আফ্রিকান ঐতিহ্য মেনে লড়াকু মাঝমাঠ ফরাসিদের। যেখানে সৌরভের চেয়ে ঘামের গন্ধ বেশি হলেও শতভাগ কার্যকর। ফাইনাল জিততে যেটা সবচেয়ে বেশি দরকার! ফিফা



মন্তব্য