kalerkantho


অঁরির আনন্দ-বেদনা

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



অঁরির আনন্দ-বেদনা

থিয়েরি অঁরি কি জিতলেন না হারলেন? দুটিই হয়তো বা। ফ্রান্সের জয় তো তাঁরও জয়। কিন্তু হারলেন নিজের পেশাদারি জায়গায়। ২০১৪-তে বুটজোড়া তুলে রাখার পর ফুটবল বিশ্লেষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন স্কাই স্পোর্টসে। ২০১৬-তে রবার্তো মার্তিনেস যখন বেলজিয়ামের দায়িত্ব নিলেন, তখন সহকারী হিসেবে তিনি ডাকলেন টিভি পর্দায় ক্ষুরধার বিশ্লেষণী নিয়ে হাজির হওয়া অঁরিকেই।

মার্তিনেসের এভারটনের সহকারী গ্রায়েম জোন্স তো ছিলেনই তাঁর সঙ্গে। অঁরি হলেন দ্বিতীয় সহকারী, আসলে অ্যাটাকিং কোচ। এডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনের মতো তারকাদের নিয়ে কাজ শুরু হলো তাঁর। মার্তিনেস বলেছিলেন, ‘অঁরিকে আমি নিয়েছি মূলত দলের মধ্যে জয়ের মানসিকতাটা তৈরি করতে।’ পেশাদার ক্যারিয়ারে চার শর ওপর গোল করা অঁরি আর্সেনাল, বার্সেলোনায় সম্ভাব্য প্রায় সব কিছু জিতেছেন। সবচেয়ে বড় কথা ফ্রান্সের ’৯৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য তিনি। দারুণ প্রতিভাবান একঝাঁক খেলোয়াড় নিয়ে কাজ শুরুর আগে মার্তিনেস সেই অঁরিরই স্মরণ নিয়েছিলেন। দুজন হাতে হাত ধরে লক্ষ্যের কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিলেন। ব্রাজিলের মতো দলকে হারিয়ে বেলজিয়াম ৩২ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গিয়েছিল। কিন্তু হারটা হলো সেই ফ্রান্সের কাছেই। এক অন্য রকম রাত ছিল পরশু অঁরির জন্য। ’৯৮-এর সাফল্যের পুনরাবৃত্তির অপেক্ষার মাঝে ২০ বছর পেরিয়ে গেছে। এবার আরেকটি দারুণ প্রজন্মের পায়ে যখন সেই প্রতিশ্রুতি দেখা গেল, তখন সেই অঁরিই কিনা দাঁড়িয়ে গেলেন প্রতিপক্ষ ডাগ আউটে। পেশাদারি জগতে কেউ তাঁর এই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি। কিন্তু অঁরির নিজের মনের ভেতর কি ঝড় বয়ে যায়নি পরশু খেলার শুরুতে যখন জাতীয় সংগীত বাজছিল, তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন উল্টোপাশে, ফরাসিদের গৌরবকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে।

ম্যাচ শেষেও তো এমন মিশ্র এক অনুভূতির মাঝ দিয়ে গেছেন। নিজের শিষ্যদের নিয়ে যে হেরে গেলেন সেমিফাইনালের লড়াইয়ে, বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের স্বপ্ন সত্যি হলো না। কিন্তু অন্যদিকে নিজের দেশের জয়, ’৯৮ ছুঁতে চলা আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানদের উচ্ছ্বাস। সে উচ্ছ্বাস নিশ্চয় তাঁর বুকের ভেতরও খেলা করেছে। কিন্তু পেশাদারি পোশাকে সেই আবেগ দেখানোর সাধ্য তাঁর ছিল না। তাই এমবাপ্পে, গ্রিয়েজমানদের বুকে জড়িয়ে অভিনন্দিত করার সময়ও থাকলেন কিছুটা নিস্পৃহ। তবে এদিনই নিশ্চয় শেষবার। পেশাদারি শৃঙ্খল থেকে এই ম্যাচ শেষেই যে মুক্ত হয়ে যাওয়ার কথা তাঁর। কারণ বেলজিয়ামের আর কোনো স্বার্থ থাকছে না ফাইনালে। সেখানে মন উজাড় করে দিয়ে লে ব্লু’দের জন্য এখন গলা ফাটাতে পারবেন অঁরি। ভাসতে পারবেন উত্তরসূরিদের সাফল্যের আনন্দে। মেইল অনলাইন



মন্তব্য