kalerkantho


ফ্রান্সের গায়ে শিরোপার সুরভি

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ফ্রান্সের গায়ে শিরোপার সুরভি

খুব কঠিন হার্ডল পেরিয়ে ফ্রান্স পৌঁছে গেছে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের দোরগোড়ায়। আর সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়া বেলজিয়াম শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়ে গিয়ে আমাদের সুন্দর একটা সেমিফাইনাল উপহার দিয়ে গেছে।  

ম্যাচের পর দেখলাম, এটাকে সুন্দর ম্যাচ হিসেবে মানতে চাইছে না কেউ কেউ। আমি বলি, এখনকার ফুটবলে ট্যাকটিকসের চর্চা এত বেশি, সেখানে ‘ওপেন’ ম্যাচ আশা করা যায় না। তার ওপর এটা সেমিফাইনাল, ফাইনালের ঠিক আগের ম্যাচ! এমন ম্যাচের চাপ-তাপ উপেক্ষা করে ফুটবলাররাও সব সময় সেরাটা দিতে পারে না। তাই এই ম্যাচগুলো অনেকখানি ফলসর্বস্ব ম্যাচ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এর মধ্যেও সৌন্দর্য খুঁজে নিতে হয় দ্বিপক্ষীয় লড়াইয়ে, চমকে দেওয়া মুভমেন্টে কিংবা দু-একজনের পায়ের জাদুতে। ফ্রান্স-বেলজিয়াম ম্যাচে এই ঝলকগুলো ছিল ভালোভাবেই।

দুর্ভাগ্য, ওসব মুভে কোনো গোল হয়নি। হতেই পারত। প্রথমার্ধে একটা কাউন্টারে কিলিয়ান এমবাপ্পে দুরন্ত গতিতে বেলজিয়ামের বক্সে ঢুকেও পারেননি। কিংবা এডেন হ্যাজার্ডের শটটি দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে না গিয়ে গোলেও থাকতে পারত। তা ছাড়া দুই গোলরক্ষকই করেছেন অসাধারণ সব সেভ। দুই নিক্তিতে পারফরম্যান্স এ রকম সমান সমান হলে তো কেউ হারবে না কখনো। তাই বোধহয় একটুখানি ভুল করে বসেন ফেলাইনি, কর্নার কিকে ঠিক মার্কিংয়ে রাখতে পারেননি উমতিতিকে। এই ফ্রেঞ্চ ডিফেন্ডারের এক হেডেই ফাইনালে পৌঁছে যায় ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে গোল খেয়েছে বেলজিয়াম, ম্যাচে ফেরার মতো অনেক সময় ছিল তাদের। হ্যাজার্ড নিজেকে উজাড় করে দিয়ে চেষ্টা করেও পারেননি। সেন্টার ফরোয়ার্ড লুকাকু ছিলেন একদম নিষ্প্রভ। তাঁকে এবং দে ব্রুইনকে ঠিকঠাক মার্কিং না করে ব্রাজিল যে ভুল করেছিল সেটা করেননি দেশম। ‘বল প্লেয়ার’ হ্যাজার্ডকে আটকে রাখা কঠিন হলেও সব সময় তাঁর গায়ে লেগেছিলেন এক ডিফেন্ডার। পাশাপাশি ফ্রান্সের ডিফেন্স অর্গানাইজেশন খুব ভালো ছিল। দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের সঙ্গে পগবা-কন্তে যোগ হয়ে কঠিন করে তোলে বেলজিয়ামের গোলের স্বপ্ন। এই এনগোলো কন্তে যেন রোবট, চাবি দিয়ে ছাড়ার পর সারা মাঠ দাপিয়ে বেড়ান। এমন পরিশ্রমী খেলোয়াড়দের সঙ্গে গ্রিয়েজমান-এমবাপ্পের প্রতিভা যোগ হওয়ার কারণেই তো ফ্রান্স আগে থেকেই ফেভারিট। আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ের পর শক্তিশালী বেলজিয়ামকে হারিয়ে তারাই ফাইনালে পৌঁছেছে। 

শক্তির বিচারে গেলে বেলজিয়ামও হয়তো-বা খুব পিছিয়ে থাকবে না। কিন্তু ম্যাচে যে আগে পিছিয়ে পড়েছে, সেটাই কাল হয়েছে। ব্রাজিলের ম্যাচের মতো লিড নিতে পারলে তারাও রক্ষণাত্মক খেলত এবং ম্যাচ জেতার অবস্থায় থাকাত। এবার তাদের পথে হেঁটে দেশমের দল ফাইনালে পৌঁছে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। শক্তির বিচারে এই তরুণ দলের সেই সামর্থ্য আছে। তবে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড হলে লড়াই হবে। ‘চ্যাম্পিয়নস লাক’ কার দিকে থাকবে, সেটাও একটা ব্যাপার। শিরোপা জিততে খেলার পাশাপাশি ভাগ্যও লাগে।

♦ জাতীয় দলের সাবেক তারকা ♦



মন্তব্য