kalerkantho


সেরার সঙ্গে সেরার টক্কর

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সেরার সঙ্গে সেরার টক্কর

‘সালাহর জন্য শুভ কামনা। আমি চাই উরুগুয়ের বিপক্ষে ও খেলুক। সেরা খেলোয়াড়দের অবশ্যই থাকা উচিত ফুটবলের সেরা মঞ্চে’—আর কেউ নন, চোট পাওয়ার পরপরই সালাহকে মাঠে দেখতে চাওয়ার এমন আকুতি জানিয়েছিলেন উরুগুয়ের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা লুই সুয়ারেস। সেরার সঙ্গে সেরার টক্কর না হলে হয় নাকি! প্রতিপক্ষের শুভ কামনা, দেশবাসী-ভক্তদের প্রার্থনা আর ‘যোদ্ধা’র মতো লড়াইয়ে অনেকটা ফিট সালাহ। শঙ্কার চাদর সরিয়ে করছেন অনুশীলনও। এখন শুধু মাঠে নামার অপেক্ষা। সেটা আজই হবে কি না, অনিশ্চয়তা এখানেই।

গত মাসে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনই জানায় সেরে উঠতে তিন সপ্তাহের বেশি লাগবে না সালাহর। তাতে উরুগুয়ের বিপক্ষে আজ তাঁর সেরা একাদশে খেলতে পারারই কথা নয়। কোচ হেক্তর কুপার জানালেন, ‘দেখুন, মিসর জাতীয় দল মানে শুধু সালাহ না। এটা সালাহর মিসর না। দলে আরো অনেকে আছে। সবার বোঝাপড়াটা দারুণ। মিসর ভাগ্যবান যে সালাহর মতো একজন তাদের দলে আছে।’

সালাহ ছাড়া সবশেষ খেলা প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর একটিও জেতেনি মিসর। এ জন্য অন্তত বিরতির পর কিছু সময়ের জন্য হলেও তাঁকে চাইবেন সমর্থকরা। লিভারপুলের হয়ে এক মৌসুমে ৪৪ গোল করার ছন্দটা জাতীয় দলেও ধরে রেখেছিলেন সালাহ।  বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে আফ্রিকান অঞ্চলে করেছেন সর্বোচ্চ ৫ গোল। কঙ্গোর বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেই রাশিয়ার টিকিট পায় মিসর। সেই ম্যাচের দুটি গোলই তাঁর, এর একটি শেষ বেলার নাটকীয় পেনাল্টিতে। তাতে ঘানাকে পেছনে ফেলে এক ম্যাচ হাতে রেখে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে মিসর। রাশিয়ায় এসে অবশ্য কিছুটা বিতর্কে সালাহ। এক ভক্ত প্রায় কাঁধের ওপর এসে পড়ায় তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ছিটকে দিয়েছিলেন রাগে। এরপর চেচনিয়ার দুজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার সঙ্গে ছবি তোলায় পাশ্চাত্যের সংবাদমাধ্যমে হচ্ছেন সমালোচিত।

এদিকে বিশ্বকাপ মানেই যেন সমালোচনা সুয়ারেসকে ঘিরে! ২০১০ সালে ঘানার বিপক্ষে বল পোস্টে যাওয়ার ঠিক আগে আটকেছিলেন হাত দিয়ে। পরিণামে লাল কার্ড আর নিষিদ্ধ এক ম্যাচ। গত বিশ্বকাপে জর্জিয়ো কিয়েল্লিনিকে কামড়ে নিষিদ্ধ হন আন্তর্জাতিক ৯ ম্যাচ। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল লিভারপুল থেকে বার্সেলোনায় আসা। সেই অধ্যায়টা পেছনে ফেলে সুয়ারেস এখন পরিণত। জাতীয় দলে ফিরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন উরুগুয়েকে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দিতে। বাছাই পর্বে সালাহর মতোই করেছেন ৫ গোল। লাতিন অঞ্চলের বাছাই পর্বে সর্বোচ্চ ১০ গোল তাঁর সতীর্থ এদিনসন কাভানির। বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে উরুগুয়ের সবশেষ তিন ম্যাচে সুয়ারেস লক্ষ্য ভেদ করেছেন দুইবার। দেশের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে পা রেখেছেন ৫০ গোলের মাইলফলকে। তাই বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী সুয়ারেস। টুর্নামেন্টা করতে চান নিজের, ‘বিশ্বকাপটা কি আমার হবে? আশা করছি হবে।’

 

 



মন্তব্য