kalerkantho


’৯৮-এর ফ্রান্স এখনো চ্যাম্পিয়ন

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



’৯৮-এর ফ্রান্স এখনো চ্যাম্পিয়ন

বল পায়ে কারিকুরি করেছেন জিদান, গোলও করেছেন। ’৯৮-এর ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল ছিল জিজুর। পরশু করলেন একটি, থিয়েরি অঁরিও গোল পেলেন। আর্সেন ওয়েঙ্গারের অলস্টার ইলেভেনের বিপক্ষে ’৯৮-এর সতীর্থরা জিতলেন ৩-২ ব্যবধানে।

ফাবিয়েন বার্থেজ, লিলিয়ান থুরাম, লরা ব্লঁ, মার্সেল দেসাই, বিসেন্তে লিজারাজু, জিনেদিন জিদান...নামগুলো একে একে পড়ে গেলেই ’৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলটা মূর্ত হয়ে ওঠে চোখের সামনে। পরশু নঁতের ইউ এরেনা স্টেডিয়ামের দর্শক আসনে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের কথা ভাবুন। সেই জিদান, দেসাই, ইমানুয়েল পেতিতদের যে আবার চোখের সামনেই ছুটতে দেখেছেন তাঁরা।

বল পায়ে কারিকুরি করেছেন জিদান, গোলও করেছেন। ’৯৮-এর ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল ছিল জিজুর। পরশু করলেন একটি, থিয়েরি অঁরিও গোল পেলেন। আর্সেন ওয়েঙ্গারের অলস্টার ইলেভেনের বিপক্ষে ’৯৮-এর সতীর্থরা জিতলেন ৩-২ ব্যবধানে। সেই বিশ্বকাপ জয়ের ২০ বছর পূর্তিতেই আবার একসঙ্গে হয়েছিলেন জিদান সতীর্থরা। একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে তা-ই স্মরণীয় করে রাখলেন। প্রতিপক্ষে ছিলেন রিস্টো স্টয়েচকভ, প্যাট্রিক ক্লুইভার্ট, এডগার ডাভিডসদের মতো সেই সময়ের অন্য তারকারা। অলস্টার দলে এক ফাঁকে নেমেছেন উসাইন বোল্টও। কয়েক দিন আগেই ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে চ্যারিটি ম্যাচ খেলেছেন ফুটবলপ্রেমী জ্যামাইকান এই গতি তারকা, মিস করতে চাননি তিনি জিদানদের এই প্রীতি ম্যাচটাও। গত মৌসুমে আর্সেনালকে বিদায় বলা ফরাসি কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার ছিলেন তাঁদের কোচের ভূমিকায়। অন্য ডাগ আউটে সেই চ্যাম্পিয়ন কোচ এইমে জ্যাক। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে ফের্নান্দো মরিয়েন্তেসের গোলে প্রথম এগিয়ে গিয়েছিল অবশ্য অলস্টার দলই। ৯৮’- এর চ্যাম্পিয়নদের সমতায় ফেরান অঁরি। জিদানের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে দারুণ বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেছেন সাবেক আর্সেনাল তারকা। বিরতির আগেই জিদান পেয়েছেন গোল, সরাসরি ফ্রিকিক থেকে লক্ষ্যভেদ করে এই প্রীতি ম্যাচেও নিজের ছাপ রেখে দিয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই মিডফিল্ডার । বিরতির পর অলস্টারকে অবশ্য আবার সমতায় ফিরিয়েছেন গায়িজকা মেনদিয়েতা। কিন্তু শেষ হাসি চ্যাম্পিয়নদেরই। এদিন জয়সূচক গোলটা করলেন বিসেন্ত কানদেলা। ’৯৮-এর ফাইনালে জিদানের জোড়া গোলের পর ব্রাজিলের কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকে দিয়েছিলেন পেতিত।

এদিন গোল না পেয়েও স্মৃতির সরণিতে হেঁটে বেরিয়েই তৃপ্ত তিনি। কয়েক দিন আগেই রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়া জিদানও ছিলেন ফুরফুরে মেজাজে পুরনো সঙ্গীদের কাছে পায়ে। আগের দিনই জানিয়েছিলেন পরের গন্তব্য নিয়ে এখনো ভাবছেন না বরং এই বিরতিটাই উপভোগ করছেন। এর মাঝেই এভাবে ৯৮-এ ফেরা। ম্যাচের আগে-পরে মধুর সেই সময়ের স্মৃতিচারণায়ও মেতেছেন তাঁরা। ৯৮’ এর দলের এদিন ছিলেন না শুধু দুজন। সে দলের অধিনায়ক, ফ্রান্স দলের বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশম আর স্ট্রাইকার দাভিদ ক্রেজেগে। মিডফিল্ডে দেশমের জায়গা নিয়েছেন এদিন ক্রিশ্চিয়ান কারেম্বু। ফরোয়ার্ডে অঁরির সঙ্গে স্তিফেন গুইভার্চ। পোস্টে বার্থেজ, তাঁর সামনের চার প্রহরী ব্লঁ, দেসাই, লিজারাজু, থুরাম সোনালী দিনই ফিরিয়ে এনেছিলেন। এইমে জ্যাক ঠিক ফাইনালের দল দাঁড় করাননি প্রথম একাদশে। বরং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলা ১১ জনের দশজনকেই রেখেছিলেন তাঁর, দেশমের জায়গাটাই শুধু খালি ছিল। সে হিসেবেই ফাইনালে না খেলা অঁরিও এদিন শুরুর একাদশে। জিদানের সঙ্গে তাঁর ‘নো লুক’ ওয়ান টু খেলা তরুণ সেই অঁরিকেও যেন ফিরিয়ে এনেছিল এদিন। মেইলঅনলাইন



মন্তব্য