kalerkantho



নতুন সুয়ারেসকে দেখবে বিশ্ব

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



নতুন সুয়ারেসকে দেখবে বিশ্ব

তিনি উরুগুয়ের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। করেছেন ৯৮ ম্যাচে ৫১ গোল। অথচ একেকটা বিশ্বকাপ দুঃস্বপ্ন হয়ে আসে লুই সুয়ারেসের ক্যারিয়ারে! ২০১০ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে দেখেন লাল কার্ড। একটি আক্রমণ থেকে নিশ্চিত গোল পেতে যাচ্ছিল ঘানা। সুয়ারেস হাত দিয়ে বল আটকে বাঁচান উরুগুয়েকে। তিনি অবশ্য বাঁচেননি। দেখেছেন লাল কার্ড, খেলা হয়নি সেমিফাইনালে। সান্ত্বনা একটাই, হ্যান্ডবলটা না করলে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিতে পারত উরুগুয়ে।

গত বিশ্বকাপে আরো বড় ঝামেলায় সুয়ারেস। ইতালির জর্জিও কিয়েল্লিনিকে কামড়ে নিষিদ্ধ হন ৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আজ রাশিয়ায় শুরু হচ্ছে আরো একটি বিশ্বকাপ। এবারও কি এমন খারাপ কিছু তাড়া করবে সুয়ারেসকে? তিনি মানছেন না। ৩১ বছর বয়সে আরো পরিণত হওয়া সুয়ারেস বরং নিজের করে নিতে চাইছেন বিশ্বকাপটা, ‘জানি, লোকে আমাকে বিচার করে সেই ঘটনা দিয়েই। কিন্তু আমি স্মরণীয় হতে চাই অন্য কারণে। এই বিশ্বকাপটা কি আমার হবে? আমি আশা করছি হবে।’

১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। ১৯৩৪ আর ১৯৩৮ সালে তারা অংশই নেয়নি। ফিরে আসে ১৯৫০-এ। ফিরে চ্যাম্পিয়ন আবারও। এরপর আর শিরোপা না জিতলেও ১৯৭০ পর্যন্ত ছিল সমীহ জাগানিয়া নাম। ’৭০ বিশ্বকাপে খেলেছিল সেমিফাইনালে। এর পর থেকে ২০১০-এর আগ পর্যন্ত শেষ চারে পৌঁছানো হয়নি আর। লুই সুয়ারেস, এদিনসন কাভানি, ডিয়েগো ফোরলানদের সোনালি প্রজন্ম ২০১০ বিশ্বকাপে আবারও নিয়ে যায় সেমিফাইনালে। কিন্তু অধরা রয়ে যায় শিরোপা। এবার কি আক্ষেপ কাটবে? স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সুয়ারেস, ‘আমাদের দলটি শক্তিশালী। এই দলের ওপর বিশ্বাস আছে। সমর্থকরাও আছে আমাদের সঙ্গে। উরুগুয়ের হয়ে এই বিশ্বকাপে বিশেষ কিছুর সাক্ষী হতে চাই।’

বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে এবার তিনটি ম্যাচ খেলেছে উরুগুয়ে। চায়না কাপে চেকপ্রজাতন্ত্রকে ২-০ আর ওয়েলসকে হারিয়েছিল ১-০ গোলে। সবশেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের সঙ্গে জয় ৩-০ গোলে। এই তিন ম্যাচের দুটিতে গোল করেছেন সুয়ারেস। চেকপ্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে লক্ষ্যভেদ করে উরুগুয়ের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে পা রাখেন ৫০ গোলের মাইলফলকে। সবশেষ উজবেকিস্তানের সঙ্গে গোল পেনাল্টি থেকে। তাঁর এই ফর্ম স্বপ্ন দেখাচ্ছে উরুগুয়েকে। স্বপ্ন দেখছেন তিনি নিজেও, ‘বার্সেলোনায় ক্লাব মৌসুমটা ভালো কেটেছে। লা লিগা আর কোপা দেল রে জিতেছি আমরা। ভালো করছে আমাদের জাতীয় দলও। চায়না কাপে হারিয়েছি ইউরোপের দুই দলকে। নিজেও গোল পাচ্ছি। সব খেলোয়াড় বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখে। আমিও ব্যতিক্রম নই। ২০১০ আর ২০১৪ অতীত, এবার নতুন গল্প লিখতে চাই।’

লাতিন অঞ্চলের কঠিন বাছাই পর্বে এবার রানার্স-আপ উরুগুয়ে। ব্রাজিলকে রুখে দিয়েছে তাদেরই মাঠে। ২-২ ড্র ম্যাচে একবার করে লক্ষ্যভেদ সুয়ারেস ও কাভানির। ফিরতি লেগে অবশ্য হেরে গিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও এক ম্যাচে ০-১ গোলে হার, গোলশূন্য ড্র আরেকটিতে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার মতো বড় দলগুলোকে হারাতে না পারলে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখা বাড়াবাড়ি। সেটাও ভালো জানা সুয়ারেসের, ‘কিছু জায়গায় সমস্যা রয়ে গেছে। সব দলেরই থাকে। আশা করছি, সেগুলো কাটিয়ে উঠব বিশ্বকাপে।’ ডেইলি মেইল



মন্তব্য