kalerkantho


সালাহকে চায় উরুগুয়েও

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সালাহকে চায় উরুগুয়েও

এমনিতে মিসরকে নিয়ে আগ্রহের পারদটা তেমন উঁচুতে থাকার কথা নয়। ২৮ বছর পর, মাত্রই তৃতীয়বারের মতো চূড়ান্ত পর্ব খেলতে আসা একটা দলকে নিয়ে কারই বা আগ্রহ থাকবে? কিন্তু বাস্তবতা হলো, শুক্রবার উরুগুয়ের বিপক্ষে ‘ফারাও’দের প্রথম ম্যাচটা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। সেই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সেরা খেলোয়াড় মোহামেদ সালাহ। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পাওয়া চোট সারিয়ে তিনি কি আদৌ মাঠে নামতে পারবেন? একসময় যেটাকে প্রায় অলৌকিক মনে হচ্ছিল, এখন কিন্তু সেটাই মনে হচ্ছে খুব সম্ভব! রাশিয়ায় পৌঁছে দলের সঙ্গে অনুশীলনে যেভাবে ঘাম ঝরাচ্ছেন, মিসরীয়রা আশা করছে প্রথম দিন থেকেই মাঠে নামতে পারবেন সালাহ। ওই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ উরুগুয়ের গোলরক্ষক ফের্নান্দো মুসলেরার চাওয়াও তেমনটাই!

ভূমিকা ছিল। বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচে তাঁর পেনাল্টি গোলেই কঙ্গোকে হারিয়ে রাশিয়ার টিকিট পেয়েছে ফারাওরা। তবে তখন পর্যন্ত ২৫ বছর বয়সী এই তরুণকে ঘিরে আগ্রহটা ছিল শুধুই তাঁর দেশে। সেটা বিশ্বজোড়া পরিচিতি পেয়েছে ইংলিশ লিগে অসাধারণ একটা মৌসুম কাটানোর সুবাদে। লিভারপুলের হয়ে মৌসুমে ৪৪ গোল করা সালাহর পায়ের জাদু বিশ্বকাপে দেখার অপেক্ষায় যখন সবাই, ঠিক তখনই নেমে এসেছিল বিপর্যয়। মৌসুমের শেষ ম্যাচ, চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলতে নেমে রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার সোর্হিও রামোসের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে কাঁধে এমনই চোট পেলেন, যে তাঁর বিশ্বকাপ খেলা নিয়েই জেগেছিল সংশয়।

এ নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি, রামোসের সঙ্গে তাঁর কথার লড়াই চলছে এখনো। কিন্তু এরই ফাঁকে এতটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন ‘ফারাওদের রাজা’, যে সোমবার গ্রজনিতে দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পুরো আধাঘণ্টা জগিং করতে দেখা গেছে তাঁকে। তারপর দলের সঙ্গে অফিশিয়াল ফটো সেশনেও অংশ নিয়েছেন তিনি, সেখানে ক্যামেরার দিকে চোখ টিপে ইঙ্গিত দিয়েছেন অন্য রকম কিছুর। মিসর দলের চিকিৎসক মোহামেদ আবুয়েলেলাকেও বেশ আশাবাদীই মনে হলো, প্রথম ম্যাচেই সালাহকে পাওয়ার আশা করছেন তিনি, ‘এখনো সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়নি, তবে হয়তো (প্রথম ম্যাচে) বেঞ্চে বসে শুরু করবে সে।’ দলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এইহাব লেহেইতা আরো পরিষ্কার করে শুনিয়েছেন আশাবাদ, ‘এখন কাঁধের চোটে ফিজিওথেরাপি নিচ্ছে সে, আর জিমে অনুশীলন করছে দলের সঙ্গে। আশা করি, উরুগুয়ের বিপক্ষে আমাদের সঙ্গেই থাকবে।’ 

লেহেইতা জানিয়েছেন, সালাহর ক্লাব লিভারপুলের চিকিৎসক দলেরও একজন প্রতিনিধি আছেন মিসরের বিশ্বকাপ ক্যাম্পে, সাহায্য করছেন তাঁর সেরে ওঠায়। অলরেডরা সালাহকে খেলতে দিতে চায় না, এই জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি, তবে সে সঙ্গে এটাও জানিয়েছেন, ‘ওকে নিয়ে কোনো রকম তাড়াহুড়া করব না আমরা। দিন শেষে ও তো আমাদের সন্তানেরই মতো।’

একাতেরিনবার্গের ম্যাচটি ভাবনায় আছে সালাহর নিজেরও। সেই ম্যাচে দেখা হয়ে যেতে পারে লিভারপুলে তাঁর পূর্বসূরি লুইস সুয়ারেসের সঙ্গে। কিন্তু এ দুই স্ট্রাইকারের লড়াই নয়, সালাহ মনে করেন, ম্যাচটিতে আসলে হবে দুই দলের জমাট রক্ষণভাগের, ‘ওরা দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ২০১০ সালেও খেলেছে সেমিফাইনাল। সুয়ারেস, কাভানিদের মতো ফরোয়ার্ড আছে ওদের। কিন্তু ওদের খেলার ধরন দেখে যেমনটা বুঝেছি, ওরা প্রতিপক্ষকে খেলার জন্য জায়গা দিতে চায় না খুব একটা। ম্যাচটা তাই বেশ কঠিনই হবে। যদি স্কোর করতে পারি, ওদের পক্ষেও কিন্তু কঠিন হবে আমাদের ডিফেন্স ভাঙা।’ তবে এই ম্যাচে খেলতে পারুক আর না-ই পারুক, বিশ্বকাপে খেলতে এসেই খুশি সালাহ, ‘বিশ্বকাপ খেলা সব ফুটবলারের কাছেই স্বপ্নের মতো। বাছাই পর্ব পেরোনোর পর খেলতে না পারলে ব্যাপারটা খুবই খারাপ হতো। তবে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, তিনি একটা সুযোগ দিয়েছেন এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে আমার স্বপ্ন পূরণের। আমি বিশ্বকাপে খেলতে এসেছি, এটাই সবচেয়ে ভালো খবর।’

লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমারদের মতো বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে তাঁর। সালাহ কিন্তু এ নিয়ে একান্তই বিনয়ী, ‘ওঁরা সবাই বিশ্বসেরা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আর আমি আল্লাহর অনুগ্রহে সবে ইউরোপিয়ান ফুটবলে যাত্রা শুরু করেছি। আরো কয়েক বছর এ রকম খেলতে চাই, এখনই ওঁদের মতো সর্বকালের সেরাদের সঙ্গে আমার তুলনা করা উচিত হবে না।’

প্রতিপক্ষ উরুগুয়ের গোলরক্ষক মুসলেরা অবশ্য তাঁকে গ্রেটদের দলেই ফেলতে চান। নিঝনি নভোগোরদ শহরে নিজেদের অনুশীলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা চাই, ও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠুক। সুয়ারেসের সঙ্গে আমি একমত, সেরাদের সঙ্গে খেলতে পছন্দ করি, সেরাদের সঙ্গে অনুশীলন করতেও। তাই চাই সেরা খেলোয়াড়রা মাঠে থাকুক।’ টাইমস নিউজ নেটওয়ার্ক, এএফপি 

 



মন্তব্য