kalerkantho


ইংল্যান্ডের মিশন ইম্পসিবল

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ইংল্যান্ডের মিশন ইম্পসিবল

রুনি-ল্যাম্পার্ড-টেরি-জেরার্ডদের সোনালি প্রজন্মই পারেনি। এবারের ইংল্যান্ড দলটা এক অর্থে বিশ্বকাপে ‘নবাগত’।  তরুণদের আধিক্য এতটাই বেশি যে দলের সবচেয়ে বড় তারকা সেই হ্যারি কেইনের বড় আসরে এখনো পর্যন্ত কোনো গোল নেই। গত ইউরোতে আইসল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেওয়া ইংলিশ দলটাকেই কিছুটা ভেঙেচুরে এবারের বিশ্বকাপের দল দাঁড় করিয়েছেন গ্যারেথ সাউথগেট।

অনেক তারকা কোচরাও এসে ব্যর্থতার ঝুলি হাতে পাততাড়ি গুটিয়েছেন ইংলিশ কোচের পদ থেকে। রয় হজসনের অধীনেই তো ইউরো বিপর্যয়। আরো আগে ফ্যাবিও ক্যাপেলো, সভেন গোরান এরিকসনরাও পারেননি ইংলিশদের সোনালি দিন ফিরিয়ে দিতে। তাঁদের তুলনায় সাউথগেট লো প্রোফাইল। তাঁর দলটাতে অভিজ্ঞতার অভাব, তবে ছড়িয়ে রয়েছে প্রতিভা। হ্যারি কেইন বলছেন তাতেও একটা সুবিধা হতে পারে তাঁদের রাশিয়ায়, ‘আমরা তরুণ আর অনভিজ্ঞ বলেই এই আসরে খেলব কোনো চাপ ছাড়া, নিজেদের প্রমাণের জন্যও আমরা মুখিয়ে।’ এই তরুণ দলটা বিশ্বকাপে আক্রমণের তুবড়ি ছোটাবে বলেই বিশ্বাস টটেনহাম তারকার, ‘আক্রমণাত্মক ও সাহসী পজেশনাল ফুটবল খেলব আমরা রাশিয়ায়। এটাই দলের মূল সুর বেঁধে দেবে। মাথা উঁচু করে পারফর্ম করাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এমন বড় টুর্নামেন্টে কঠিন সময় আসে, তাতে না হারা বা নেতিবাচক ফুটবল খেলারও প্রবণতা তৈরি হয়। কিন্তু আমরা তা করব না, আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাটাই আমাদের দর্শন। প্রথম ম্যাচটা জিততে চাই, এরপর দ্বিতীয়, তৃতীয়—এভাবেই আমরা এগোব।’

হজসনের বিপর্যয়ের পর স্যাম অ্যালারডাইসের কেলেঙ্কারির ধাক্কায় টালমাটাল ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এরপর সাবধানী পথেই হেঁটেছে সাউথগেটকে দায়িত্ব দিয়ে। ৪৭ বছর বয়সী কোচ এখনো হতাশ করেননি। ইউরো ব্যর্থতার পর কোনো রকম শঙ্কা তৈরি না করেই ইংলিশদের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের বাধা পার করে দিয়েছেন তিনি। ওয়েইন রুনির মতো তারকা খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারে ইতি পড়েছে তাঁর সময়ে, কোনো রকম বিতর্ক ছাড়াই। বিশ্বকাপের সবচেয়ে তরুণ ও অনভিজ্ঞ স্কোয়াড ঘোষণার মতো দৃঢ়তাও দেখিয়েছেন তিনি। সেই দল নিয়ে কেইনের ‘মিশন ইম্পসিবল’। ক্লাব ফুটবলে গোলের ফোয়ারা ছোটে তাঁর পায়ে। ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ টানা দুই মৌসুম প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট জিতেছেন, গত মৌসুমে মোহামেদ সালাহর দুর্দান্ত নৈপুণ্যের কারণে ‘হ্যাটট্রিক’ হয়নি তাঁর। সেই কেইন ২০১৬- এর ইউরোটা গোলশূন্য কাটিয়েছেন, আগের বছর অনূর্ধ্ব-২১ ইউরোতেও তাঁর কোনো গোল নেই। রাশিয়ায় সেই বন্ধ্যাত্ব ঘোচানোর মিশনও তাঁর। দলের মতো নিজের ব্যক্তিগত এই লক্ষ্য নিয়েও যথেষ্ট ইতিবাচক ২৪ বছর বয়সী তারকা, ‘আমিও চাই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এই গোলের বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে। তবে এটা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায়ও নেই আমি। কারণ কখনো এমন সময় আসে যখন গোল ধরা দেয় না, কখনো আবার তা উপচে পড়ে। আমি শুধু চেষ্টা চালিয়ে যেতে চাই নিজের খেলাটাকে আরো উন্নত করতে। নিশ্চিতভাবে রাশিয়াতেও আমার লক্ষ্য দলকে সাফল্য এনে দেওয়া। সে জন্য গোল দরকার, আমি তো তা চেষ্টা করবোই।’

নিশ্চয় চেষ্টা করবেন গত ইউরোর ব্যর্থতাও ভুলে যেতে। আইসল্যান্ডের কাছে হেরে শেষ ষোল থেকে বিদায় নেওয়া সেই ইংল্যান্ড দলের অনেকেই আছেন এবারের দলে। কেইন তাঁদের হয়ে একরকম প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছেন এবার ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার, ‘সেটা ছিল পতনের সময়, জঘন্য একটা মুহূর্ত। আমি আত্মবিশ্বাসী এমন কিছু এবার আর হবে না। হৃদয়টা এই ইংলিশ জার্সিতে পুরে নিয়েছি আমরা, কিছুতেই তা ভাঙতে দেব না।’ দ্য গার্ডিয়ান

 

 



মন্তব্য