kalerkantho


রোনালদোকে পড়া শেষ দে গেয়ার!

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



রোনালদোকে পড়া শেষ দে গেয়ার!

ফুটবল আদ্যন্ত টিম গেম। তার পরও যুগে যুগে এমন কারো আর্বিভাব হয় মাঠে, যাদের নিয়ে আলাদা ছক কষতে হয় প্রতিপক্ষকে। লিওনেল মেসিকে তাই দলীয় পরিকল্পনার আলাদা টেবিলে ফেলে কাটাছেঁড়া করে আসছেন প্রতিপক্ষ কোচেরা। ২০১০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেনের ভাবনার একটা অংশজুড়েও যেমন আছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ১৫ জুন ‘সিআরসেভেন’য়ের পর্তুগালের বিপক্ষেই যে এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে স্প্যানিশরা। দে গেয়া অবশ্য আশ্বস্তও করেছেন অনুসারীদের যে রোনালদোকে বোতলবন্দি করে রাখার কার্যকর ছক কেটে ফেলেছেন তাঁদের কোচ ইউলেন লেপেতেগুই।

স্প্যানিশ গোলরক্ষক দে গেয়ার নিজের ফর্ম অবশ্য খুব সুবিধার নয়। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে হতাশই করেছেন তিনি ভক্তদের। অবশ্য পর্তুগালের বিপক্ষে প্রথম একাদশে থাকা নিয়ে কোনো সংশয় নেই দে গেয়ার। তাতে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের সবচেয়ে আলোচিত স্পেন-পর্তুগাল ম্যাচে রোনালদোকে হতাশ করার গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে দে গেয়াকেই। স্পেনের বিখ্যাত ক্রীড়া দৈনিক মার্কার এসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে তিনি অভয়ই দিয়েছেন, ‘ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তবে আমরা ওকে খুব ভালো করে পড়ে ফেলেছি। আর রোনালদোর দলটাও খুব ভালো। ওরা ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। তাই ভালো করেই জানি ম্যাচটা খুব কঠিন হবে।’

শত্রুপক্ষের একজনের ওপরই শুধু নজরদারি করতে গেলে অভাবিত আক্রমণে ধরাশায়ী হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। তেমনি বিশ্বকাপের মতো আসরের শুরুতে একটিমাত্র দলকে নিয়ে ভাবলেও বিপদের সমূহ সম্ভাবনা। স্পেনের তো এবারের বিশ্বকাপের দায় আরো বেশি। শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় ব্রাজিল বিশ্বকাপে যে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়তে হয়েছিল তাদের। দে গেয়ার ফোকাস তাই পুরো আসরে, ‘আমাদের সব মনোযোগ বিশ্বকাপে, আর কিছু নিয়ে ভাবছি না। আমরা যদি সব ঠিকঠাক করি তাহলে শিরোপা জয়ের অনেক সুযোগ পাব। তাই বলে প্রতিপক্ষ কোনো দল কিংবা খেলোয়াড়কে অবহেলা করা যাবে না।’

দে গেয়া সবটুকু মনোযোগ বিশ্বকাপে রাখতে চাইলে কী হবে, সমালোচকরা যে পিছু ছাড়ছে না তাঁর। বিশেষ করে তাঁর ভুলেই যে প্রস্তুতি ম্যাচে ড্র করেছে পিছিয়ে থাকা সুইজারল্যান্ড। অবশ্য সেসব মেনেও নিচ্ছেন দে গেয়া, ‘সমালোচনা নিতে জানতে হবে আপনাকে, বেঁচে থাকতে হবে। ফুটবলে গোলরক্ষকদের ভুলগুলো খুব বেশি চোখে পড়ে, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে যেমনটা দেখা গেছে। তবে ওটা ছিল প্রীতি ম্যাচ। বিশ্বকাপের মূল আসরের চেয়ে ওসব ম্যাচে ব্যর্থ হওয়াই ভালো। প্রীতি ম্যাচের অভিজ্ঞতা আসল মঞ্চে আমাকে আরো পরিণত করবে। আমার বয়স তো খুব বেশি নয়, এখনো শিখছি।’

দে গেয়ার ফর্ম নিয়ে উচাটন সমালোচকরা। ওদিকে পর্তুগালের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির শেষ ল্যাপে বারবারই অনাহুতের মতো উঠে আসছে রোনালদোর ক্লাব বদলের প্রসঙ্গটি। মহাতারকাকে তো আর প্রতিদিন হাতের কাছে পাওয়া যায় না। তাতে কী, প্র্যাকটিস সেশনের পর পর্তুগালের কেউ না কেউ নিয়ম করে আসছেন সংবাদমাধ্যমের সামনে। গত পরশু যেমন এসেছিলেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার মানুয়েল ফের্নান্দেস। তাঁকে বলতেও হলো, ‘রোনালদোকে নিয়ে নেতিবাচক বলার মতো কিছু আমার চোখে পড়েনি। তার সব মনোযোগ বিশ্বকাপে, একবারের জন্যও মনে হয়নি নিজের ক্লাব ভবিষ্যৎ নিয়ে সে চিন্তিত।’

অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদের উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের হ্যাটট্রিক করার রাত থেকেই চলছে রোনালদোর ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন। কিয়েভের সে ম্যাচে নিজে ভালো খেলেননি, দর্শকরা ক্রগামত দুয়ো দিয়েছে। এরপর তাঁর কিছু মন্তব্যে নাকি বিরক্ত মাদ্রিদসংশ্লিষ্ট অনেকেই। ইদানীং কোন মাত্রা যোগ হয়েছে রিয়াল-রোনালদো টানাপড়েনে। স্প্যানিশ ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, নেইমারকে ঘিরে রিয়াল মাদ্রিদের সাম্প্রতিক ‘আকর্ষণ’ মন পোড়াচ্ছে রোনালদোর! মার্কা

 



মন্তব্য