kalerkantho


আমি পারফরম্যান্সে বেশি বিশ্বাস করি

২৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



আমি পারফরম্যান্সে বেশি বিশ্বাস করি

ঠিক দুই বছর আগে আজকের ব্রাজিলকে কল্পনা করা কঠিন ছিল। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে ব্রাজিল জন্ম দেয় ‘মিনেইরাজো’র। ফুটবলের পুণ্যভূমিতে হাহাকার ওঠে। ওই চূড়ান্ত হতাশাই বুঝি নতুন শুরুর প্রেরণা জোগাবে। সে হলো কই। দুবছর বাদে ইকুয়েডরের সঙ্গে ড্র করে আর পেরুর কাছে হেরে কোপা আমেরিকা থেকে বিদায় নেয় দুঙ্গার ব্রাজিল। ১৯৮৭-র পর এই অঘটনও ছিল প্রথম। দুই বছর বাদে সেই দল রাশিয়া বিশ্বকাপে যাচ্ছে শিরোপার সম্ভাবনা জাগিয়ে! অবিশ্বাস্য রূপান্তরের নায়ক তিতে বলছেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ছেলেদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে তারা। ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এখন দারুণ আনন্দের। মাঠে এবং মাঠের বাইরে সবাই তাদের মত প্রকাশ করতে পারে।’

গত বিশ্বকাপে দলটি ছিল লুই ফেলিপে স্কলারির অধীনে। ভরাডুবির পর দায়িত্ব নেন দুঙ্গা। এর পরও দুর্দশা জারি থাকলে সেলেসাওদের মুক্তির পথ দেখাতে আসেন আদেনর লিওনার্দো বাচ্চি, ডাকনাম তিতে। কোরিন্থিয়ানস ছেড়ে যেন জাদুর কাঠি হাতেই জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ভোজবাজির মতো চরিত্র বদলে গেল ব্রাজিল ফুটবলের। দুর্দশা ঝেড়ে আগের ঐতিহ্য নিয়ে উঠে দাঁড়াল দলটি। তাঁর অধীনে ১৯ ম্যাচ খেলে জিতেছে ১৫টি, গোল করেছে ৪২টি আর খেয়েছে মাত্র পাঁচটি। সেখানে জার্মানির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলের জয়ও আছে। এমন ফুটবল-সুফলা সময়েও বারবার ঘুরেফিরে আসছে জার্মানির কাছে সেই ৭-১ গোলে হারের দুঃস্মৃতি। তাঁর কাছে ‘এটা অঘটন যা বারবার ঘটে না।’ কিন্তু ২০১৬ থেকে সেই দলের অমন ঘুরে দাঁড়ানো এবং জয়ের ধারায় থাকাও তো বিস্ময়কর। তার জবাবে ৫৭ বছর বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফুটবল দার্শনিক বলছেন, ‘ফলের চেয়ে আমি পারফরম্যান্সে বেশি বিশ্বাস করি। আপনি ম্যাচের ফল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না, পারবেন পারফরম্যান্স নিয়ন্ত্রণ করতে। এটার ওপরই জোর দিই আমি। দল কিভাবে খেলবে, সেটা ঠিক করা আপনার কাজ এবং খেলোয়াড়দের সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়েই তা করা উচিত। সেভাবেই আমরা একটা স্টাইল তৈরি করেছি।’ এই স্টাইলে ব্রাজিলীয় ফুটবলের রূপ-রসের সঙ্গে ফলটাও আছে। সুবাদে দুই বছর আগের দুর্দশাগ্রস্ত ব্রাজিল আবার বিশ্বকাপের বড় দাবিদার হয়ে উঠেছে।

তবে গ্রুপ পর্ব মোটেও সহজ নয়। তাদের সঙ্গী সুইজারল্যান্ড, সার্বিয়া ও কোস্টারিকার সম্পর্কে ব্রাজিল কোচের বিশ্লেষণ হলো, ‘সুইজারল্যান্ড কাউন্টার অ্যাটাক এবং সেটপিস দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চেষ্টা করবে। তবে সার্বিয়ানরা প্রতিপক্ষকে খেলতে দেওয়ার পাশাপাশি নিজেরাও ছোট পাসে খেলার চেষ্টা করে। কোস্টারিকা গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। কোনো ম্যাচ না হেরেই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে বাদ পড়েছিল। তাই সুইস ও কোস্টারিকান ডিফেন্স ভাঙা যেকোনো দলের জন্যই কঠিন হয়ে যাবে।’ এরই মধ্যে অবশ্য গ্রুপের প্রতিপক্ষদের খোঁজখবর নিতে গোয়েন্দাগিরি শুরু করে দিয়েছে ব্রাজিল। বেশ কিছু স্কাউটকে নিয়োগ করেছে তারা এ কাজে। ব্রাজিল আগে গ্রুপের বাধা টপকাতে চায়, এরপর নকআউটের চিন্তা। গ্রুপের তিন ম্যাচের পর বাকি থাকে চার ম্যাচ। তিতে বিশ্বকাপকে দেখছেন এভাবে, ‘এটা সাত ম্যাচের টুর্নামেন্ট যেখানে অন্তত ছয়টি ম্যাচ জিততেই হবে। গ্রুপ পর্বে শুধু একটি হারের ধাক্কা আপনি সামলে নিতে পারবেন, তবে পরের চারটি ম্যাচ জিততেই হবে। তাই আমাদের প্রথম কাজ হলো, তিন গ্রুপ ম্যাচ থেকে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে নকআউটে পা রাখা। এরপর চ্যাম্পিয়ন হতে হলে কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গেও পারফরম্যান্সের ধারা বজায় রাখতে হবে।’ ইন্টারনেট



মন্তব্য