kalerkantho


নিজেদের মাঠে ‘অতিথি’ আবাহনীর ড্র

২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



নিজেদের মাঠে ‘অতিথি’ আবাহনীর ড্র

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হোম ম্যাচটা কাদের? মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে দেখলে নিশ্চিতভাবেই আবাহনীর ছিল না। ঢাকায় এসে দাপটের সঙ্গে খেলে গেছে ভারতের আইজল। ওদের মাঠে ওদেরকে উড়িয়ে দেওয়া আবাহনী কাল ১-১ গোলে ড্র করে জয়ের প্রত্যাশা ধুলোয় লুটিয়েছে।

খুবই সংগত প্রত্যাশা ছিল। যে দল প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে ৩-০ গোলে হারায়, সেই দল এখানেও জিতবে—এটাই স্বাভাবিক ধারণা। বাস্তবে আবাহনীর পারফরম্যান্স ছিল না তার ধারেকাছে। ওই যে এ দেশের ফুটবল আর ফুটবলারদের নিয়ে আগেভাগে কিছু বলা যায় না। নিজেদের মাঠেও তারা উজাড় করে দিতে জানে না। বরং অতিথি হয়ে নেতানো ফুটবল খেলে। সেটাই খেলেছে। এমেকার পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর পুরো মাঠ প্রতিপক্ষকে ছেড়ে দিয়ে তারা ডিফেন্স আগলেছে। আট-দশজনে মিলে প্রহরা দিয়েছে। এর পরও পারেনি ওই গোল ধরে রাখতে। ৬৫ মিনিটে আন্দ্রেই ইউনেস্কোর ফ্লিক জালে জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন খুলে গেল আইজলের পয়েন্টের খাতা। কারণ স্বাগতিকদের খেলায় যে জয়ের কোনো লক্ষণ ছিল না। শেষ ৫ মিনিট বাদ দিলে বাকি সময়টুকুও তারা ঘুরেছে প্রতিপক্ষের পেছনে। তাই ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে সবিস্ময়ে প্রশ্নটি উঠেছিল, এরাই কি সে দল যারা গুয়াহাটিতে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল আইজলকে। আবাহনী কোচ সাইফুল বারীর কণ্ঠেও হতাশার সুর, ‘এই ম্যাচ দেখে আমিও হতাশ। তাদের আক্রমণে উঠতে নিষেধ করেছি কিংবা ডিফেন্স করতে বলেছি, ব্যাপারটা এমন নয়। আমার দলের সবাই একই রিদমে খেলতে পারেনি। কেউ দৌড়েছে, কেউ দাঁড়িয়ে থেকেছে।’

শুরু থেকে আইজলের দাপট বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। এ মাঠ যাদের চেনা এবং এখানকার আলো-হাওয়ায় যারা বেড়ে উঠেছে তারা কুঁকড়ে গেছে। প্রথম ২০ মিনিটে তিনটি চমৎকার সুযোগ থেকে তারা একটি গোল পেলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। ১৫ মিনিটে গোলরক্ষক শহীদুল ফিস্ট করে বাঁচিয়েছেন। ঠিক পরের মিনিটে তাঁর গ্রিপ ফসকে যাওয়া বলে আলফ্রেডের নিখুঁত শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে অ্যালিসন উদোকা লড়াইয়ে রাস্তা খোলা রাখেন। ম্যাচে ধরে রাখেন স্বাগতিকদের। এরপর ধারার বিপরীতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও পেয়ে যায় ২০ মিনিটে। কিন্তু নাইজেরিয়ান সানডে চিজোবার দুর্দান্ত ফ্রি-কিকটি ঠেকিয়ে দেয় ক্রসবার। ১০ মিনিট বাদে এই হতাশা মুছে যায় রেফারির পেনাল্টির বাঁশিতে। আইজলের এক ডিফেন্ডার এমেকাকে ফাউল করায় এই দণ্ড, সুবাদে এই নাইজেরিয়ানের গোলেই আবাহনীর লিড। এর পরও তাদের খেলার চেহারা বদলায়নি, ব্যবধান বড় করার চেষ্টাও দেখা যায়নি।

বিরতির পরও বদলায়নি তাদের চরিত্র। প্রতিপক্ষের পোস্টের লক্ষ্য বদলে নিজেদের পোস্ট নিয়েই মরিয়া। ফুটবল না খেলে পোস্ট প্রহরা দিলেই যেন জিতে যাবে। জিততে হলে খেলতে হয়, আক্রমণে উঠতে হয়, গোল করতে হয়। তা না করায় ওই পেনাল্টি গোলটিও ধরে রাখতে পারেনি। ডান দিক থেকে আইভরি কোস্টের দোদজের বাড়ানো বলে ফ্লিক করে রোমানিয়ান আন্দ্রেই ইউনেস্কো ম্যাচ ফেরান আইজলকে। এর সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় আবাহনীর জয়ের স্বপ্ন। তাদের কোচ সাইফুল বারীও বিস্মিত হয়ে দেখেছেন তাঁর দলের পারফরম্যান্সের আকাশ-পাতাল ফারাকটা, ‘আমার দলের কাটাছেঁড়া আমি মিডিয়ার সামনে করব না, তবে অনেক জায়গায় আমাদের ঘাটতি ছিল। তারই মাসুল দিতে হয়েছে।’

আবাহনীর মরিয়া ভাবটা দেখে গেছে শুধু শেষ ৫ মিনিটে। তখন তেড়েফুঁড়ে আক্রমণ শানিয়েছে, সানডে ও অ্যালিসন উদোকা দু-দুটি শট বারে লাগিয়েছেন। তাতে অর্থাৎ সুযোগ-সম্ভাবনার দিক থেকে ম্যাচটি নাকি ‘ফিফটি-ফিফটি’ হয়েছে। নিজেদের মাঠে অতিথি আবাহনীর সন্তুষ্টি এটাই!



মন্তব্য