kalerkantho


ঘরের মাঠ বলেই রোমাঞ্চিত তাঁরা

১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ক্রীড়া প্রতিবেদক : পরশু রাতেই ডেনমার্ক থেকে ফিরেছেন জামাল ভূইয়া। সামনের মৌসুমের জন্য সাইফ স্পোর্টিংয়ের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন এই মিডফিল্ডার। অথচ আগামী ঘরোয়া মৌসুমের আগেই মাঠে গড়াচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। জামালের ভাবনাজুড়ে তাই জাতীয় দলই থাকার কথা। সেটা হতোও হয়তো-বা, মাঝখানে অ্যান্ড্রু ওর্ডের পদত্যাগেই না তাঁদের রুটিন এলোমেলো হয়ে গেল।

তবে কাল ড্রয়ের পর আর দেরির সুযোগ দেখছেন না এই মিডফিল্ডার। ওর্ডের অধীনে যে ধারায় অনুশীলন চলছিল, একইরকমভাবে ক্যাম্পে ফিরতে তিনি মুখিয়ে, ‘লাওস ম্যাচের জন্য দারুণ ক্যাম্প হয়েছিল আমাদের। মাঝখানে ওর্ড চলে যাওয়াতেই তাতে একটা বিঘ্ন হলো, এটা ঠিক। তবে সাফের আগে এখনো আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে। যেমন ড্র হয়েছে তাতে আমরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েও সেমিফাইনালে উঠতে পারবো।’ বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের বাজি খেলোয়াড়দের ওপরই, ‘গত দশ বছর চেষ্টা করে আমরা পারিনি। এখন নতুন একটা প্রজন্ম এসেছে, তাদের নিয়েই এখন আমার আশা।’ ওর্ডের অধীনে লাওসের যে দলটা খেলেছে তাতে জাফর, সুফিল, আব্দুল্লাহ, মাসুকদের মধ্যে তরুণদের প্রাধান্য। তবে চার মাসের প্রস্তুতিতে তারা সাফ জেতার মতো একটা দল হয়ে যাবে জামাল, নাসিরউদ্দিন, মামুন খান, মামুনুলদের মতো সিনিয়রদের পাশে নিয়ে, জামালের নিজের অন্তত তেমনটাই বিশ্বাস, ‘নতুন কোচের অধীনে সাফের প্রস্তুতিতে আমাদের সিনিয়রদেরও বড় ভূমিকা নিতে হবে। এই দলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের খুব ভালো মিশেল হয়েছে। আমার মতে সেটাই আমাদের শক্তি, শুধু তারুণ্য।’ আরেকটি শক্তি অবশ্যই ঘরের মাঠ।

ডিফেন্ডার নাসিরউদ্দিন চৌধুরী ২০১০ এসএ গেমস জয়ী দলের সদস্য, সেই টুর্নামেন্ট দিয়েই তাঁর ক্যারিয়ারের শুরু। ঘরের মাঠে এবারের সাফেও দারুণ কিছু করার অনুপ্রেরণা তাঁর সেই টুর্নামেন্টটিই, ‘২০১০ সাফে আমরা দেখিয়েছিলাম ঘরের মাঠের শক্তি। এবারও কেন আমরা পারব না!’ ঘরের মাঠের শক্তির আরো বড় উদাহরণ তো ২০০৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। সেই আসরের সেমিফাইনাল, ফাইনালে গোল করা রোকনুজ্জামান কাঞ্চনও মনে করেন ঘরের মাঠের দর্শকদের এই প্রেরণায় অনেক বড় বাধাও ডিঙানো যায়, ‘ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে হেডে যে গোলটা করেছিলাম, আমার মনে হয় না দর্শক সমর্থন আমার পেছনে না থাকলে সেটা সম্ভব হতো। এত উঁচুতে লাফিয়ে গোল করতে পারি, নিজেই জানতাম নাকি! দর্শকের উন্মাদনাই আমার সেই গোলটা করিয়ে নিয়েছে। তাই এবারও আমি আশাবাদী। দলের যত সমস্যাই থাক ঘরের মাঠ খেলোয়াড়দের উদ্দীপ্ত করবেই।’ তেমন উদ্দীপনার এক আসর দেশের ফুটবলের রংটাও যে বদলে দিতে পারে।



মন্তব্য