kalerkantho


বাজল সাফের ঘণ্টা

১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



বাজল সাফের ঘণ্টা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : চার মাস আগে বিশ্বকাপের ড্র হয়ে গেছে। সবাই এখন জুনে মাঠে খেলা গড়ানোর অপেক্ষায়। দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত সাফ শুরু হবে এর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে। কাল তার ড্র হয়ে গেল। পট থেকে বল তোলার আগেই জানা হয়ে গেছে আসরের সবচেয়ে সফল দল ভারত আর স্বাগতিক বাংলাদেশ থাকছে ভিন্ন গ্রুপে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও স্বাগতিক হিসেবে তাদের আলাদা করা হয়েছে। আর মূল ড্র শুরু হতেই জানা হয়ে গেছে, বছর দুয়েক ধরে এ দেশের ফুটবলে সবচেয়ে আলোচিত ভুটান পড়েছে বাংলাদেশেরই গ্রুপে।

সাত দলের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের গ্রুপেই চারটি দল। ভুটানের পর পাকিস্তানের নাম উঠিয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। পরের ড্রটি নিয়ে ছিল সবচেয়ে বেশি উত্কণ্ঠা। কারণ অন্য গ্রুপে শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ভারত বেশ সুবিধাজনক অবস্থায়। মালদ্বীপ ও নেপালের মধ্যে মালদ্বীপকে পেলেই গ্রুপ অব ডেথ হয়ে পড়ে বাংলাদেশের গ্রুপটি। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বাংলাদেশ পেয়েছে নেপালকে। ভারত, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এই অঞ্চলে বড় শক্তি হয়ে ওঠা মালদ্বীপ। শেষ এই ড্রয়ের পর সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে একদফা হাততালিও পড়ল গ্রুপে মালদ্বীপকে এড়াতে পেরে। ভুটান বিপর্যয়ের আগে প্রস্তুতির জন্য সেসময়ের কোচ টমাস সেইন্টফিট গিয়েছিলেন মালদ্বীপে। ৫-০তে বিধ্বস্ত হয়ে ফিরেছিলেন। গ্রুপিং শেষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি হিসেবে সাফ সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলো। সালাউদ্দিনের মন্তব্য, ‘চ্যাম্পিয়ন হতে হলে গ্রুপ সহজ না কঠিন ভেবে কাজ নেই। আমাদের সবাইকেই পেছনে ফেলতে হবে।’ অন্যভাবেও বলা যায়, সাফে বাংলাদেশের এখন যে হাল তাতে সব দলই আসলে শক্তিশালী। ভুটানের কাছে হারের পর এই কথা নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর লোকও নেই!

দেখুন না, কাল ড্র হয়ে গেল অথচ জাতীয় দল প্রস্তুতির মধ্যে নেই, কোচও নেই। অথচ নেপাল গত মার্চেই জাপানি কোচ কোজি গোয়োতোকোর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে। এই কোজির অধীনে এএফসি সলিডারিটি কাপও জিতেছে তারা। ভুটানের কাছে হেরে এশিয়ান কাপ বাছাই থেকে ছিটকে পড়া বাংলাদেশেরও সুযোগ ছিল এই টুর্নামেন্ট খেলার। তা না করে বাফুফে নিয়েছে দুই বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন। সাফ সামনে রেখে সেই নির্বাসন থেকে ফিরতে না ফিরতেই আবার কোচহীন হয়ে গেল জাতীয় দল। ফেডারেশন জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ কালও কোচের ব্যাপারে চূড়ান্ত কিছু জানাতে পারেননি। সাফের আগে বাংলাদেশ প্রস্তুতির জন্যও কোনো সূচি নেই তাঁর হাতে, ‘আগামী সাত থেকে ১০ দিনের ভেতর আমরা কোচ চূড়ান্ত করে ফেলব। এরপর তাঁর সঙ্গে বসেই আমরা প্রস্তুতির জন্য কোথায় কয়টি ম্যাচ খেলব, তা ঠিক করে ফেলব।’ জাতীয় দল প্রস্তুতির মধ্যে নেই—এটাও তিনি মানতে চান না, ‘ওদের নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আমরা কাতারে ক্যাম্প করে থাইল্যান্ডে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে লাওসে গিয়ে খেলেছি। এখন আমরা পরের ধাপে যাব।’ তার আগে খেলোয়াড়রা অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে। মাসখানেকের অলস সময়ে তাঁরা কতটা ফিট রেখেছেন নিজেদের, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। খেলোয়াড়দের অনেকে ক্লাবের সঙ্গেও নেই। নতুন কোচ এলে চার মাস হাতে নিয়ে তাঁকে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে সব কিছু।

আয়োজক হিসেবেও কি তৈরি বাংলাদেশ? আগামী ২৫ এপ্রিলই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আবাহনীর এএফসি কাপের ম্যাচ আইজলের বিপক্ষে। ফ্লাডলাইটের সমস্যায় সেই ম্যাচ সন্ধ্যার মধ্যে শেষ করতে হবে। ঘরোয়া আসরগুলো কম আলোর মধ্যেই হয়েছে। কিন্তু সাফে তো তা সম্ভব নয়। কাজী সালাউদ্দিন বলেছেন যে খুব শিগগির তাঁরা ক্রীড়া পরিষদ ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই ফুটবল আসর সফলভাবে শেষ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। সাফের দ্বাদশ আসর হতে যাচ্ছে এটি। বাংলাদেশে হতে যাচ্ছ তৃতীয়বারের মতো। ২০০৩ সালে প্রথমবারই শিরোপার উৎসবে ভেসেছিল বাংলাদেশ। সেই দলের তারকা আরিফ খান এখন ক্রীড়া উপমন্ত্রী। বাফুফেতেও কাজী সালাউদ্দিন, আব্দুস সালাম মুর্শেদীর মতো কিংবদন্তি ফুটবলাররা আছে। তবু বিশ্বকাপের ড্রয়ে যেমন হয় কিংবদন্তিদের একটা মেলা বসে, সোনারগাঁও হোটেলে সাফ সুজুকি কাপের ড্রয়ে তেমনটা দেখা যায়নি। উপমন্ত্রী আরিফ খানও ছিলেন না। ২০০৩ সালের চ্যাম্পিয়ন দলের কিংবা বাফুফের কমিটির বাইরে অন্য কোনো সাবেক খেলোয়াড়ও উপস্থিত ছিল না ড্র অনুষ্ঠানে। স্পন্সরদের উপস্থিতিতে সাদামাটা আয়োজনেই ঠিক হয়ে গেল ৪ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাফের ফিক্সচার। ৪ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনী দিনই তো মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ-ভুটান। ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-পাকিস্তান আর ৮ সেপ্টেম্বর গ্রুপে স্বাগতিকদের শেষ ম্যাচ নেপালের বিপক্ষে।



মন্তব্য