kalerkantho


ট্রফি থাকল ওমানেই, পারল না বাংলাদেশ

১৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ম্যাচ শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে থেকে বাংলাদেশ গ্যালারি পূর্ণ। শুধু পূর্ণ বললে পুরোটা বলা হবে না। রীতিমতো ফুটছে গ্যালারি। লাল-সবুজ পতাকায় ছেয়ে গেছে এ-মাথা থেকে ও-মাথা। ড্রাম বাজছে দ্রিম দ্রিম। উল্টোদিকের গ্যালারিতে ওমানিরা জড়ো হচ্ছিল ধীরে। আরবি গানে গ্যালারি মাতিয়ে রাখছিল। একদিকে বাংলাদেশিদের ড্রাম, অন্যদিকে ওমানিদের গান। এমন একটা আবহের মধ্যেই শুরু হয় দুই দেশের শিরোপার লড়াই। তাতে শেষ হাসি ওমানিদেরই। বাংলাদেশকে ২-০ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমস বাছাইয়ের ট্রফিটা রেখে দিয়েছে তারা নিজের দেশেই।

কানায় কানায় পূর্ণ বাংলাদেশ গ্যালারি অন্ধকারাচ্ছন্ন ম্যাচ শেষে। স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়েই ঘরে ফিরেছে প্রবাসী দর্শকরা। গ্রুপ পর্বে, সেমিফাইনালে কঠিন পরীক্ষা দিয়েই ফাইনালে উঠেছিল লাল-সবুজ। কিন্তু এই শেষ ম্যাচে আর শেষ রক্ষা হয়নি। ২৮ ও ৩১ মিনিটে ২ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর শেষ পর্যন্ত লড়েও আর ম্যাচে ফিরতে পারেননি রাসেল, মামুনুররা। খেলা শুরুর ৫ মিনিটের মধ্যেই পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এদিন শুরু থেকেই বৈচিত্র্যের চেষ্টা ছিল, মামুুনুর ফ্লিক না করে পেছনে দেন আশরাফুলকে, আশরাফুল ফরহাদ আহমেদকে, কিন্তু ফরহাদের হিট ফিরিয়ে দেন ওমানী গোলরক্ষক। পরের মুহূর্তেই কাউন্টার অ্যাটাকে ওমান সুযোগ করে নিয়েছিল, তবে ইমাদ আল হাসনি বল পোস্টে রাখতে পারেননি। পরের মুহূর্তে বাংলাদেশও আক্রমণে ওঠে, এবার রোমানের পাসে হাসান জুবায়েরের হিট ফেরান ওমান গোলরক্ষক।

দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরুটা আবার ওমানের পিসি দিয়ে। বাংলাদেশের ডিফেন্সই অবশ্য তা রুখে দিয়েছিল। গোলরক্ষক অসীম গোপকে প্রথম ১৫ মিনিটে তেমন চ্যালেঞ্জ সামলাতে হয়নি। ওমানি রক্ষণই বরং ব্যতিব্যস্ত ছিল। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরু থেকে ওমানিরা আক্রমণাত্মক চেহারায়। ২০ মিনিটে দ্বিতীয় পিসিও পেয়ে যায় তারা। অসীম দারুণ ফিরিয়েছেন সেবার। পরের মিনিটেই বাংলাদেশ গোল হজম করতে চলছিল প্রায়। ডানদিকে আক্রমণ ঠেকাতে পুরো ডিফেন্স সেদিকে ঝুঁকে পড়ায় মাঝখানে আল হাসানি ছিলেন আনমার্কড। কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে তিনি অবশ্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হিট নিয়েছেন।

আগের দুটি ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে লাল-সবুজরা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরেছিল। এ ম্যাচে সে মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশ পিসির সুযোগগুলোও কাজে লাগাতে পারছিল না। ৩৮ মিনিটে রাসেল নিজেই ফ্লিক করলেন, কিন্তু তাঁকেও ফিরিয়েছেন ওমানী গোলরক্ষক। ৪০ মিনিটে আম্পায়ারের এক সিদ্ধান্তে উত্তপ্ত হয়ে যায় মাঠ। হাসান জুবায়ের বল পোস্টে পাঠালেও আম্পায়ার বাজিয়েছেন ফাউলের বাঁশি। বাংলাদেশকে তা মেনে নিতে হয়। এর আগেও বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। ধারাভাষ্যে এসে বাংলাদেশের সাবেক খেলোয়াড় জামান কোরেশিও আম্পায়ারিংয়র সমালোচনা করেছেন। সব কিছু মিলিয়েই ম্যাচটা ক্রমে হাতছাড়া হচ্ছিল লাল-সবুজের। শেষ কোয়ার্টারে নামতে হয় ২-০ গোলের লিড কাটানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েই। কিন্তু এদিন আর দারুণ কিছু হয়নি। স্বাগতিকদের কঠিন বাধা শেষ পর্যন্ত পেরোতে পারেনি বাংলাদেশ।



মন্তব্য