kalerkantho


যুদ্ধ শেষে উড়ল শান্তির পতাকা!

১৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



যুদ্ধ শেষে উড়ল শান্তির পতাকা!

কলম্বো থেকে প্রতিনিধি : শুক্রবার রাতে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ম্যাচের শেষ ওভারের সময় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে সাকিব আল হাসান ও নুরুল হাসানকে। সেই সঙ্গে তাঁদের নামের পাশে যোগ করা হয়েছে ১ ডিমেরিট পয়েন্ট।

ম্যাচের শেষ ওভারে নো বল বিতর্কে ঘটনার সূত্রপাত। যেখান থেকে জল গড়িয়েছিল অনেক দূর। মাঠে পানি নিয়ে আসা দ্বাদশ ব্যক্তি নুরুল হাসানও কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক থিসারা পেরেরার সঙ্গে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, থিসারা পেরেরাই অশালীন শব্দ ব্যবহার করে মাঠ থেকে চলে যেতে বলেছিলেন নুরুলকে। মাহমুদ উল্লাহও আম্পায়ারের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান, সাকিব তো সীমানারেখার বাইরে থেকে বারবার রুবেল ও মাহমুদ উল্লাহকে চলেই আসতে বলছিলেন। থিসারা পেরেরা যে নুরুল হাসানকে ধাক্কা দিয়েছেন, সেই ফুটেজও দেখিয়েছে বেশ কিছু গণমাধ্যম। যদিও এসবের চেয়ে সাকিবের আচরণ নিয়েই নানা জায়গায় প্রশ্ন উঠেছে বেশি। সামাজিক যোগাযোগের সাইট টুইটারে ছড়িয়ে পড়ে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমের কাচের দরজা ভেঙে ফেলার ছবি। কাল সংবাদ সম্মেলনে আসা সাকিবকে এসব প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়েই যেতে চেয়েছেন, ‘যা হয়ে গেছে সেটা সেখানেই শেষ হয়ে গেছে। এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাচ্ছি না, মনেও রাখতে চাচ্ছি না।’ অবশ্য ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ড্রেসিংরুমের ক্যাটারিং কর্মী সাকিবকে দেখেছেন দরজার কাচ ভেঙে ফেলতে। তবে ম্যাচ রেফারি তাঁর সাক্ষ্য বিশ্বাস করেননি। বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের তরফ থেকে বলা হয়েছে যে জয়ের পর উৎসবে মেতে উঠতে ড্রেসিংরুম থেকে বেশ কয়েকজন একসঙ্গে দৌড়ে বের হতে গেলে দরজায় ধাক্কা লেগে কাচ ভেঙে যায়।

সাকিবও কাল জানিয়েছেন, দুই বোর্ডের ভেতর দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ককে যেন এ ঘটনা প্রভাব না ফেলে সে জন্য তাঁরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। মাঠের ঘটনার মীমাংসা মাঠেই করে ফেলতে চেয়েছেন। বিসিবির তরফ থেকে ই-মেইল বার্তাতেও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য, ‘নিদাহাস ট্রফির শুক্রবারের শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ ম্যাচে যেসব অপ্রীতিকর ঘটনা হয়েছে, সে জন্য বিসিবি দুঃখ প্রকাশ করছে। বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটারের মাঠে আচরণ যে অগ্রহণযোগ্য ছিল, সেটাও বিসিবি মেনে নিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে ম্যাচের টানটান উত্তেজনায় স্নায়ুর চাপের বশবর্তী হয়েই কেউ কেউ এমনটা করেছে। বোর্ডের তরফ থেকে খেলোয়াড়দের তাদের আচরণবিধি ও দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

কাল বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসানও। ম্যাচের আগের দিনই শ্রীলঙ্কার বোর্ড প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে নৈশভোজে গিয়েছিলেন নাজমুল হাসান ও ক্রিকেটাররা। পরদিনই খেলার শেষ পর্যায়ে এমন ঘটনায় বেশ অপ্রস্তুত অবস্থাতেই তিনি পড়ে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্টস বক্সে, ‘আরেক জায়গায় বসে খেলা দেখছি, বুঝতেই তো পারছেন। আশপাশে সব শ্রীলঙ্কান, আমরা হাতে গোনা কয়েকজন বাংলাদেশের। অবশ্য আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে খেলা বন্ধ করে চলে আসুক, এটাও যেমন চাচ্ছিলাম না; তেমনি আম্পায়ারের ভুলও তো কাম্য নয়। তবে বিশ্বাস ছিল জিতব কারণ রিয়াদ (মাহমুদ উল্লাহ) ক্রিজে ছিল।’ ম্যাচের পর বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে গিয়ে ভাঙা কাচ দেখেছেন নাজমুল, তবে জানতে পারেননি এ জন্য কে দায়ী, ‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমি যখন ড্রেসিংরুমে যাই, তখন অনেক ভাঙা কাচ দেখি। পরিস্থিতি এমন ছিল, কী হয়েছে না হয়েছে বিস্তারিত কিছু জানি না। আমরা অবশ্যই এটা জানার চেষ্টা করব। আমাদের কোনো খেলোয়াড় হয়তো করেছে। তবে বাংলাদেশ যে মানে পৌঁছেছে, তাদের কাছে এটা প্রত্যাশিত নয়।’

মাঠের আচরণ, ড্রেসিংরুমে কাচ ভাঙা; এসব কিছু মিলিয়ে অনেকেই সাকিব আল হাসানের বড় কোনো শাস্তির আশঙ্কাই করছিলেন। তবে দুই বোর্ডের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণে আপস মীমাংসায় ১ ডিমেরিট পয়েন্ট আর ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা দিয়েই পার পেয়ে যাচ্ছেন সাকিব ও নুরুল। নিষেধাজ্ঞার মতো বড় কোনো শাস্তি না হওয়াতে আজ ফাইনাল খেলতে আর কোনো বাধাই নেই তাঁর।



মন্তব্য