kalerkantho


প্রাপ্তি কিছু প্রতিভা আর তৃণমূলের বাস্তবতা

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



প্রাপ্তি কিছু প্রতিভা আর তৃণমূলের বাস্তবতা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফুটবল দিয়ে পরশু বাংলাদেশ যুব গেমসের চূড়ান্ত পর্ব শুরু হয়ে গেলেও কাল জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হবে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা। তার আগে পেছন ফিরে তাকাতে চায় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। সেই জেলা পর্যায় থেকে এ পর্যন্ত আয়োজনটা কেমন হয়েছে, কী-ই বা পেয়েছে সেসব জানানোর চেষ্টা করেছে। প্রাপ্তির ঘরে খুব বেশি কিছু নেই। মিলতে পারে কয়েকজন প্রতিভা আর সঙ্গে খেলাধুলাহীন তৃণমূলের কঠিন বাস্তবতা।

কাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হবে যুব গেমসের চূড়ান্ত পর্ব। ১৮ ডিসেম্বর থেকে প্রথমবারের মতো দেশে অনূর্ধ্ব-১৭ বছর বয়সীদের নিয়ে জেলা পর্যায়ে শুরু হয় এই গেমস। সেখানকার বিজয়ীরা পরের পর্ব অর্থাৎ বিভাগীয় পর্যায়ে খেলেছে জানুয়ারিতে। দুটি পর্ব শেষে বিওএর হয়েছে অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতা। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বিওএ সহসভাপতি ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান শেখ বশির আহমেদ মামুন বলেছেন, ‘আমরা হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলোকে চাঙ্গা করা এবং কিছু প্রতিভা খুঁজে বের চেষ্টা করেছি এই গেমসের মাধ্যমে। আমরা কতটুকু পেরেছি জানি না, সেটা চূড়ান্ত পর্বের পারফরম্যান্সে বোঝা যাবে। এই গেমস করতে গিয়ে অনেক কিছুই আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে। কিছু কিছু জেলায় সংগঠকের অভাব, অবকাঠামোগত সমস্যা এবং সাংগঠনিক তত্পরতার অভাব দেখেছি। এই জেলাগুলোকে আমরা চিহ্নিত করেছি।’ প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই গেমস খুব জোরেশোরে না হলেও কিছুটা সাড়া ফেলেছে জেলায়। গত পাঁচ বছরে খেলা না হওয়ার জায়গায়ও এবার ধুলো উড়েছে।

খুব শঙ্কার কথা হলো, নিবেদিত সংগঠকদের হারিয়ে যাওয়া। তৃণমূলের খেলাধুলা ঠিক করপোরেট কালচারে হয় না। স্থানীয় সংগঠকদের তত্পরতায় খেলাধুলায় মাতে উৎসাহী কিশোররা। সেই সংগঠকদের অভাব ভীষণভাবে অনুভব করেছেন গেমস আয়োজকরা। প্রকৃত সংগঠকদের অভাবে জেলার ক্রীড়াঙ্গন থেকে যে খেলাধুলা হারিয়ে যাচ্ছে, এই সত্যটা বিওএ গেমসে তুলে ধরবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া পরিষদের কাছে। পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর কর্মকাণ্ডও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বেশির ভাগ ফেডারেশনের সঙ্গেই জেলার ইতিবাচক যোগাযোগ নেই, খেলা বাদে শুধু নির্বাচন এলেই জেলার প্রতি তারা সদয় হয়। এটাও বাস্তবতা। এ ছাড়া ছিল অনেক সীমাবদ্ধতা, তার মধ্য দিয়ে হওয়া যুব গেমসের ভুলত্রুটিগুলো সহজভাবে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা বলেছেন, ‘প্রথম আয়োজন হয়েছে অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে। ভুলত্রুটিও হতে পারে, তবে আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না।’ এরপর যোগ করেন, ‘চূড়ান্ত পর্ব থেকে যাদের বাছাই করব, তাদের আমরা হারিয়ে যেতে দেব না। ফেডারেশনগুলোকে নিয়ে বাছাইকৃতদের কিভাবে সার্বক্ষনিক তত্ত্বাবধানে রাখা হবে সেটি ঠিক করব। আশা করি এর জন্য অর্থ কোনো সমস্যা হবে না।’

চূড়ান্ত পর্বে দলগত ডিসিপ্লিনগুলো হলো ফুটবল, কাবাডি, বাস্কেটবল, ভলিবল, হ্যান্ডবল, হকি, অ্যাথলেটিকস সাঁতার, টেবিল টেনিস, ভারোত্তোলন, রেসলিং, উশু, শ্যুটিং, আর্চারি, ব্যাডমিন্টন, বক্সিং, দাবা, জুডো, কারাতে, তায়কোয়ান্দো ও স্কোয়াশ। সর্বমোট ১৫৯টি ইভেন্টে ৩৪২টি স্বর্ণপদকের লড়াই হবে। এ জন্য লড়বে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে আসা দুই হাজার ৬৬০ জন অ্যাথলেট। তবে ফু্টবলের চূড়ান্ত পর্ব শুরু হয়ে গেছে পরশু থেকেই। তরুণীদের ফুটবলে চলছে হ্যাটট্রিকের ছড়াছড়ি। গতকাল কমলাপুল স্টেডিয়ামে সাদিয়া ও সাহিদার হ্যাটট্রিকে ঢাকা ১১-০ গোলে বরিশালকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় দল রনি আক্তারের একমাত্র গোলে রংপুরকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় দলটি সেমিতে ওঠার ম্যাচে ১২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সিলেটকে, হ্যাটট্রিক করেছেন চম্পা মারমা ও থুইমা চিং মারমা। খুলনা সরাসরি খেলবে সেমিফাইনালে। দুটি সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম-খুলনা।


মন্তব্য