kalerkantho


উৎসবের মঞ্চে বিবর্ণ বাংলাদেশ

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



উৎসবের মঞ্চে বিবর্ণ বাংলাদেশ

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির আনন্দের ৭০ বছর উদ্‌যাপনে শ্রীলঙ্কার সঙ্গী ব্রিটেনের আরো দুই সাবেক উপনিবেশ, বাংলাদেশ ও ভারত। তিনে মিলে খেলছে ক্রিকেট, যেটা ব্রিটিশদেরই আবিষ্কার। আরো স্পষ্ট করে বললে টি-টোয়েন্টি, যেটার আবিষ্কারই হয়েছিল ফুটবলের সঙ্গে জনপ্রিয়তায় পাল্লা দিয়ে দর্শক মাঠে টানতে! এতগুলো স্ববিরোধিতার উদাহরণ যতটা বিরল, ঠিক ততটাই বিরল বাংলাদেশের ইনিংসে টি-টোয়েন্টিসুলভ বৈশিষ্ট্য। এ যেন এস্রাজ দিয়ে বেস গিটার বাজানোর চেষ্টা, অথবা সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে ফর্মুলা ওয়ানে নেমে যাওয়া। যেকোনো খেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অনিশ্চয়তা আর রোমাঞ্চ। টি-টোয়েন্টিতে তো সেটা আরো বেশি। তবে নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে সেই অনিশ্চয়তা আর রোমাঞ্চের আয়ু গ্রীষ্মদিনের সকালের শিশিরের মতোই। দ্রুতই যেমন রোদের তাপ বেড়ে গিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে যায় শিশির, তেমনি ১২০ বলের ইনিংসের অর্ধেক হতে না হতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ঠিক কী জুটতে যাচ্ছে কপালে।

৩৫ হাজার ধারণক্ষমতার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে মেরে কেটে ৩৫০০ লোক। তাও এক জায়গায় বসলে সেটাকেও ক্যামেরার কারসাজিতে বেশ ভিড় বলেও চালিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু উঁচু উঁচু দুটি টিয়ারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসা দর্শকদের কারণে খাঁ খাঁ শূন্যতাটাই বরং স্পষ্ট হয়ে উঠল। বাংলাদেশ থেকে বেশ কিছু সমর্থক এসেছেন, বাঘ সেজে গ্যালারি থেকে ক্রমাগত চিৎকার করে যাওয়া শোয়েব আলীও এসেছেন পতাকা হাতে। ক্রিকেটপাড়ার কজন চেনামুখও আছেন। সব মিলিয়েও সংখ্যাটা ৫০ ছাড়াবে না। জাতীয় সংগীতের সময় তাঁরাই বুকে হাত দিয়ে পরম আবেগে ঠোঁট মেলালেন। এরপর দ্রুতই আনন্দ আর আবেগ বদলে গেল হতাশায়।

মাঠের চার কোনায় চারটা মিনি স্টেজ। তাতে ওভারের বিরতিতে, চার-ছয় হলে কিংবা উইকেট পড়লে উঠে পড়ে চটুল গানের সঙ্গে একপাক নেচে যান চিয়ারলিডাররা। আইপিএলে এসব উঠে গেলেও এখানে আছে। যদিও তাদের নাচের তারিফ করার মতো খুব বেশি দর্শক ছিলেন না। তবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা খুব বেশি নাচার সুযোগ করে দিতে পারেননি তাদের। কারণ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় যে রানের চাকাটা গতিই পায়নি। যখনই কেউ একটু অ্যাক্সিলেটর চাপার চেষ্টা করেছেন, সঙ্গে সঙ্গেই সামনে চলে এসেছে উইকেটের স্পিডব্রেকার।

জয়দেব উনাদকাটের করা ওভারের প্রথম বলেই ফাইন লেগের ওপর দিয়ে ছয় মেরে একটা রোমাঞ্চ জাগিয়েছিলেন সৌম্য সরকার। একই রকম শট আবার চেষ্টা করতে গিয়ে লেন্থের গড়বড়ে ক্যাচ দিলেন ফাইন লেগে। তামিম ইকবাল একবার কভারে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে বেঁচেছেন, এরপর শার্দুল ঠাকুরের বলে মাঠের আম্পায়ার এলবিডাব্লিউর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন রিভিউ নিয়ে। কিন্তু তবু শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর। লেগ স্টাম্পের বাইরে বল পড়েছে, এই আইনে রিভিউতে বেঁচে যান; পরের দুটি বল বাউন্ডারি মারার পর তৃতীয়টির প্রচেষ্টায় সেই ফাইন লেগেই উনাদকাটের হাতে ধরা পড়া। মুশফিক আউট হয়েছেন ওয়াইড বলে ডাউন দ্য উইকেটে মারতে এসে ব্যাটের কানা লাগিয়ে। আম্পায়ার শুরুতে আঙুল না তুললেও দীনেশ কার্তিকের আত্মবিশ্বাসী আবেদনে রিভিউ নিয়েছিলেন রোহিত শর্মা, আল্ট্রা এজ প্রযুক্তি দেখিয়েছে বল লেগেছিল ব্যাটে। ৯ ওভারে ৬৬ রানে নেই ৩ উইকেট, সুরেশ রায়না ও ওয়াশিংটন সুন্দর দুটি ক্যাচ না ছাড়লে স্কোরবোর্ডে উইকেটের ঘরে সংখ্যাটা আরো বড় হতো। ম্যাচের ভাগ্য মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছে প্রথম ১০ ওভারেই। টি-টোয়েন্টির মূল আকর্ষণই তো অনিশ্চয়তা, যে কথাটা সংবাদ সম্মেলনে মুখস্থ বুলির মতো আউড়ে যান অনেক অধিনায়ক। কিন্তু বাংলাদেশ যেন সেই বৈশিষ্ট্যকে দ্রুতই মিথ্যা প্রমাণ করতে ব্যস্ত!


মন্তব্য