kalerkantho


পেসারদের ধারাবাহিক হওয়ার পাঠ

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পেসারদের ধারাবাহিক হওয়ার পাঠ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এমনও কেউ কেউ আছেন, যাঁদের সেভাবে ভালো করে চেনেনই না কোর্টনি ওয়ালশ। আবার হাতের তালুর মতো করে চেনা অনেকেও এসে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিং কোচের সামনে। যদিও সেই চেনা পেসারদের নিয়ে অনেক খাটুনি খেটেও সুফল তেমন তুলতে পারেননি এই বোলিং কিংবদন্তি। দুঃসহ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর সম্প্রতি দেশের মাটিতেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পেসাররা নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। সে জন্যই তাঁদের বোলিং সামর্থ্য ঝালাই করে নেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা। সবশেষ জাতীয় দলে থাকা এবং ছিটকে পড়া পেসাররা তো আছেনই, তাঁদের সঙ্গে নতুন অনেককে জুড়ে দিয়ে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় নিদাহাস ট্রফিকে সামনে রেখে ৯ দিনের বিশেষ অনুশীলন শিবির গতকাল থেকেই শুরু করে দিলেন ওয়ালশ। ক্লাসের শুরুতেই যিনি শিষ্যদের ফেলে আসা দিন ভুলে সামনে তাকাতে বলে দিয়েছেন।

প্রথম দিনের অনুশীলনের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে এসেও সেটি জানিয়ে গেলেন, ‘একেই নিজেদের ডেরায় আমরা ভালো করিনি, তার ওপর সামনে শ্রীলঙ্কায় আমাদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি সিরিজও অপেক্ষা করে আছে। এই অবস্থায় শেষ সিরিজে যা হয়েছে, তা আমাদের ভুলে যেতে হবে। একই সঙ্গে সামনে যা আসছে, সেদিকেও মনোযোগ দিতে হবে।’ ফাস্ট বোলিং কোচ হিসেবে এই মুহূর্তে ওয়ালশের সবচেয়ে মনোযোগের জায়গা হলো ধারাবাহিকতা। পুরনোদের সঙ্গে বিশেষ অনুশীলন শিবিরে ডাক পাওয়া নতুনদেরও তিনি বোলিংয়ে ধারাবাহিক হওয়ার দীক্ষাই দেবেন।

সব মিলিয়ে এই শিবিরে ডাক পেয়েছেন ১৪ জন পেসার। যদিও পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়া মুস্তাফিজুর রহমানকে যে এখানে পাওয়া যাবে না, সেটিও নিশ্চিত ছিল আগে থেকেই। রুবেল হোসেনের সঙ্গে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া তাসকিন আহমেদ ও কামরুল ইসলামরা (রাব্বি) যেমন আছেন, তেমনি ওয়ালশের ক্লাসে রাখা হয়েছে হোসেন আলী, কাজী অনিক, রবিউল হক এবং হাসান মাহমুদদের মতো তরুণ পেসারদেরও। পুরনো আর নতুনের সংমিশ্রণ ঘটলেও তাঁদের নিয়ে বোলিং কোচের গুরুত্বের জায়গাটা একই থাকছে। গত মাসে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শুরুর দিকে কিন্তু ছন্দেই দেখা গিয়েছিল পেসারদের। এরপর সেই ছন্দ হারিয়ে ফেলার প্রসঙ্গ টেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ফাস্ট বোলার বললেন, ‘ধারাবাহিকতার ওপরই মনোযোগ দিচ্ছি আমরা। যতটা চেয়েছিলাম, শেষের দিকে আমাদের বোলিংয়ে ততটা ধারাবাহিকতা কিন্তু ছিল না। সুতরাং এই অনুশীলন শিবিরে কাজ করা হবে এটি নিয়েই। আসন্ন চ্যালেঞ্জে ওদেরকে যার যার ভূমিকাটা বুঝতে হবে। তাই বলে বিষয়টি আমরা জটিলও করে ফেলব না। সব কিছু সরলই রাখার চেষ্টা করছি আমরা।’ সবশেষ সিরিজে বোলারদের এলোমেলো হয়ে যাওয়ার কারণটিও ধরতে পেরেছেন ওয়ালশ, ‘এই অনুশীলন শিবিরে আমরা পেসারদের মানসিক দিক নিয়েও কাজ করব। আমার মূল্যায়ন হলো সবশেষ সিরিজে ওরা ব্যাপারটি সরল রাখতে পারেনি, একটু বাড়তি চেষ্টা করতে গিয়েছিল। যা হিতে বিপরীত হয়েছে। ওদের বুঝতে হবে যে কোন পরিস্থিতিতে কোন কাজ করতে হবে এবং সেটি কিভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।’ অর্থাৎ ওয়ালশ এটিই বোঝাতে চেয়েছেন যে উইকেটের ধর্ম বুঝে বোলিং করতে হবে পেসারদের। ধীরগতির উইকেটে গতির ঝড় তোলার চেষ্টা বৃথা। সেখানে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বল করে যাওয়াই সাফল্যের দেখা পাইয়ে দিতে পারে। আবার দ্রুতগতির উইকেটে গিয়েও বোলিংয়ের কৌশল কিছুটা বদলানো চাই। ওয়ালশ জানাচ্ছেন, সব ধরনের উইকেটে বোলিংয়ের শিক্ষাও এই অনুশীলন শিবিরে দেবেন তিনি, ‘যেকোনো কন্ডিশনেই বোলিংয়ের শিক্ষাটা এই অনুশীলন শিবিরে পেসারদের দেওয়া হবে। আমাদের সব কিছুর জন্যই প্রস্তুত থাকতে হবে। তাই দক্ষতার ওপরও জোর দেওয়া হবে। কারণ যেখানেই খেলি না কেন, দক্ষতাটা থাকতে হবে এবং তা প্রয়োগও করতে হবে।’ হুট করে জ্বলে উঠে আবার যাতে কেউ নিভে না যায়, সর্বাধিক মনোযোগ সে জন্য ধারাবাহিকতায়, ‘ওরা যদি ধারাবাহিক হতে পারে, তাহলে ১০ বারের মধ্যে আটবারই ফল ওদের অনুকূলে আসবে।’ নিদাহাস ট্রফি সামনে রেখে তাই ৯ দিনের ক্লাসে পেসারদের ধারাবাহিক হওয়ার তন্ত্র-মন্ত্রই বেশি পড়াবেন ওয়ালশ!


মন্তব্য