kalerkantho


কৃতিত্বটা ক্রিকেটারদেরই দিচ্ছেন মাহমুদ

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কৃতিত্বটা ক্রিকেটারদেরই দিচ্ছেন মাহমুদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজ চলছে। তবু কাল বাংলাদেশ ক্রিকেটাঙ্গনের মূল ব্যস্ততা ছিল কী নিয়ে? ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলবদল। কর্তারা ব্যস্ত তা নিয়ে; জাতীয় দলের অনুশীলন না থাকায় ক্রিকেটাররাও কান পেতে রেখেছিলেন ওই ‘প্লেয়ার বাই চয়েজ’-এ। কে কোন দলে যাচ্ছেন, কোন দল কেমন হলো—এ নিয়েই সরব আলোচনা সব দিকে।

ত্রিদেশীয় সিরিজের দুই ম্যাচ খেলেই বাংলাদেশ ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বলেই না সম্ভব হয়েছে তা!

জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দেওয়ার পর শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। দুই ম্যাচ খেলে, দুই ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত হয়ে গেছে ফাইনাল। দক্ষিণ আফ্রিকায় অমন বাজে সফরের পর, কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের হঠাৎ পদত্যাগের পর এমন ফলে কিছুটা অবাক হয়েছেন অনেকে। দুই খেলাতেই ম্যান অব দ্য ম্যাচ সাকিব আল হাসান, এ সাফল্যের রহস্য উন্মোচনে পরশু ম্যাচ শেষে বলেন গুরুত্বপূর্ণ এক কথা— ক্রিকেটাররা এখন নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে। টিম ডিরেক্টরের মোড়কে আদতে কোচের দায়িত্ব পালন করা খালেদ মাহমুদ ওই স্বাধীনতা তো দিয়েছেন মাশরাফি-সাকিব-মুশফিক-তামিমদের। দুই ম্যাচে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের পর সে কৃতিত্বটা দিতেই হবে তাঁকে।

কাল মাহমুদ অবশ্য পিঠ চাপড়ে দেন ক্রিকেটারদেরই। সাকিবের আগের দিনের কথার রেশ ধরে সিনিয়রদের প্রশংসায় ভাসান তিনি, ‘মাঠের সিদ্ধান্ত ক্রিকেটারদেরই নিতে হবে। তারা সবাই বেশ অভিজ্ঞ। আমার মনে হয় সাকিব, তামিম, মাশরাফি, মুশফিক, রিয়াদদের মিলিয়ে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে এখন প্রায় ৬০ বছরের অভিজ্ঞতা আছে। মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্য অবশ্যই তাদের আছে।’ বাইরে থেকে বার্তা পাঠালেও মাঠের সৈনিকদের ওপর আস্থা রাখার ঘোষণাও দেন তিনি, ‘এই ক্রিকেটারদের প্রায় সবাই ঘুরেফিরে ঢাকা লিগে বা জাতীয় দলে অধিনায়কত্ব করেছে। আমরা বাইরে থেকে তো অবশ্যই পরামর্শ পাঠাই। সেটা যদি তারা শুনতে চায়, শোনে। কিন্তু আসল ব্যাপারটা হচ্ছে, তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্তগুলো নেওয়াটা আসলে তাদের কাজ, যেহেতু তারা মাঠে খেলছে।’

এ জায়গায় নিজের কর্তৃত্ব ফলাতে গিয়ে কোনো সংশয়ের জায়গা তৈরি করতে চান না মাহমুদ, ‘বাইরে থেকে অনেক সময় উইকেট বোঝা যায় না, যারা খেলছে তারাই উইকেটটা ভালো বোঝে। হয়তো মাঠের বাইরে থেকে আমি যেই বোলারকে বল করাতে বলব, অধিনায়ক হয়তো তার ব্যাপারে খুব একটা আত্মবিশ্বাসী না। সেই সময়টায় ও অন্য কোনো বোলারের ওপর বিশ্বাস রাখছে। তখন আমি বার্তা পাঠালে অধিনায়কের মনে একটা সংশয় তৈরি হয়। সেই সংশয়টা আমি তৈরি করতে চাই না। মাশরাফি অনেক অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটার, সাকিবও অভিজ্ঞ। তারা দুজন মিলে মাঠের সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই ভালো।’ খেলাটা যে শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়রাই খেলেন, তা-ও মনে করিয়ে দেন তিনি, ‘ওরা আমাদের জিজ্ঞেস করলে তখন হয়তো বলতে পারি। হয়তো মাঝেমাঝে ফিল্ডিং পজিশন নিয়ে কথা বলি, প্রতিপক্ষকে আমরা কোথায় বল করব সেটা বলি। অনেক সময় হয়তো ক্রিকেটাররা মাঠে গিয়ে কিছু ব্যাপার ভুলে যায়, আমরা তা মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। তো আমি মনে করি যে, এটা আসলে ক্রিকেটারদেরই খেলা। ওরা মাঠে গিয়ে খেলে বলেই বাংলাদেশ ভালো করে।’

সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টিম ম্যানেজমেন্টের কথায় তখনকার টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকের বাউন্ডারিতে ফিল্ডিং করার স্মৃতিতে মরচে ধরেনি এখনো। এরপর এখনকার টিম ডিরেক্টরের কথাগুলো মেলালেই বোঝা যাবে কতটা বদলে গেছে বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমের আবহ। যার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে মাঠে। অন্তত প্রথম দুই ম্যাচে দেখা গেছে।



দুটি ড্রেসিংরুমের পার্থক্য মাহমুদের জানার কথা। নানা ভূমিকায় তো ছিলেন দুই জায়গাতেই। তবে এ নিয়ে খুব খোলাখুলি কিছু বললেন না, ‘এটা ক্রিকেটাররাই ভালো বলতে পারবে। কিন্তু আমি যেটা মনে করি, ড্রেসিংরুম এখন অনেকটা আত্মবিশ্বাসী। নিজেদের মধ্যে পরামর্শগুলো ভালো হয়। আমরা চেষ্টা করি সব কিছুতেই ক্রিকেটারদের ইনভলভড রাখতে। ড্রেসিংরুম একই আছে, বাংলাদেশ দলে খুব একটা পরিবর্তন হয় না। হয়তো বা স্বাধীনতার কথা যেটা বলা হয়েছে, সেই জিনিসটা একটু বেশি আছে।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের আবহে হাতুরাসিংহে আসছিলেন ঘুরেফিরে। তাদের বিপক্ষে রেকর্ড ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর তা কি চাপা পড়বে অবশেষে? মাহমুদ অবশ্য এ নিয়ে বেশি মাথা ঘামাতেই রাজি নন, ‘হাতুরাসিংহের ব্যাপারটাই দলের মধ্যে আনতে চাই না। আমি মনে করি, যে চলে গেছে তাকে নিয়ে আলাপ করাটাই বোকামি। উনি পেশাদার কোচ, ওনার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম খেলা বাংলাদেশে পড়েছে বলে হয়তো এত কথা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের মাথায় একটাই চিন্তা ছিল—দল কিভাবে আরো সামনে যাবে; কিভাবে আরো ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি।’ প্রথম দুটি ম্যাচে মাঠের ক্রিকেটে ছিল এর প্রতিফলন। কিন্তু করণীয় যে শেষ হয়নি, মাহমুদ তা ভালোই জানেন, ‘জয় একটা অভ্যাস। এ থেকে দূরে সরে গেলেই সমস্যা। আমরা এই দল নিয়েও হারতে পারি, সেরা একাদশ নিয়েও হারতে পারি। সামনে হয়তো একাদশে কিছু কৌশলগত পরিবর্তন থাকবে; পাশাপাশি উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, আমরা এখনো ফাইনাল জিতি নাই। ওই ফাইনাল জেতাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রথম দুটি ম্যাচ যেমন দাপটে খেলেছে বাংলাদেশ, তাতে ওই জয়টাকেও দূরের বাতিঘর মনে হচ্ছে না। তা সময়টা এখন টুর্নামেন্টের মাঝপথ হলেও!



মন্তব্য