kalerkantho



নিরানন্দ শততমে রুবেলের স্বপ্ন

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নিরানন্দ শততমে রুবেলের স্বপ্ন

দিনের সেরা ছবি সীমানাদড়ির পাশে এ মাঠের সূচনালগ্নের মাঠকর্মী মতিনের সঙ্গে মাশরাফির সেলফি। অবশ্য আচমকা সচেতন বিসিবিই চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম থেকে ‘সম্মানিত’ করার জন্যই অভিজ্ঞ এই মাঠকর্মীকে উড়িয়ে এনেছে।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এ দেশে ভুল স্বীকারের কোনো সংস্কৃতি নেই। শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের শততম ওয়ানডেতে যে স্বাগতিকরা অতিথি হয়ে থাকল ত্রিদেশীয় সূচি তৈরির সময় গুবলেট পাকিয়ে ফেলায়, সেটির দায় কেউ নেননি। ‘দায়’ ব্যাপারটাতেই অবশ্য ঘোর আপত্তি কর্তাব্যক্তিদের। বিসিবি সভাপতি আমতা আমতা করে যে ব্যাখ্যা দিলেন বিকেলে, তার সারবেত্তা হলো, বিসিবির সর্বাত্মক ফোকাস ট্রফি জয়ে। শততম ওয়ানডে উদ্‌যাপনের বিষয়টি সেকেন্ডারি। তাই বলে প্রেসিডেন্ট বক্স একেবারে হাত-পা ছেড়ে বসে থাকেনি। ম্যাচ রেফারি ডেভিড বুনকে (এ দায়িত্বে তাঁরও এটা শততম ম্যাচ) স্মারক দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান। আবার সভাপতির হাতেও উঠেছে একটি স্মারক। আত্মশ্লাঘা থেকেই কিনা, অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানটি হলো কাচঘেরা প্রেসিডেন্ট বক্সে, জনতার দৃষ্টির আড়ালে।

অবশ্য জনতা কোথায়? সকাল থেকে জনবিরল স্টেডিয়ামের চারপাশ। গেটে অলস সময় কাটিয়েছেন অন্য দিনের ব্যতিব্যস্ত নিরাপত্তাকর্মীরা। বিকেলের আগে এমন একটা পরিস্থিতি যেন বিনা টিকিটের দর্শকদেরও সাদরে প্রবেশাধিকার দিতে রাজি তারা। তাতে শততম ম্যাচে গ্যালারিতে এক শ দর্শক হয়েও থাকতে পারে।

এ নিয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মনে মর্মবেদনা আছে। প্রতিটি ল্যান্ডমার্ক ম্যাচেই যে অর্জনের গল্প আছে মাশরাফি বিন মর্তুজাদের। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে নিজেদের শততম ওয়ানডে খেলেছিল বাংলাদেশ। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বরের সে ম্যাচে ভারতকে হারানো ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন বাংলাদেশের বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক। শততম টেস্টটা দেশের বাইরে, শ্রীলঙ্কায় খেললেও জয়ে সেটি উদ্‌যাপন করেছিল মুশফিকুর রহিমের দল। মাঝে শততম ওয়ানডে জয়ের দিনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। আর মিরপুরের শততম ওয়ানডের দিনে সকালে ইনডোরে প্র্যাকটিস করেই হোটেলে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। এ নিয়ে সরকারিভাবে মৃদু আক্ষেপ ঝরেছে পেসার রুবেল হোসেনের কণ্ঠে, ‘একশতম ম্যাচে বাংলাদেশ খেলতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগত। সুযোগটা খুব ভালো হতো।’ আর এমন দিনের সেরা ছবি সীমানাদড়ির পাশে এ মাঠের সূচনালগ্নের মাঠকর্মী মতিনের সঙ্গে মাশরাফির সেলফি। অবশ্য আচমকা সচেতন বিসিবিই চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম থেকে ‘সম্মানিত’ করার জন্যই অভিজ্ঞ এই মাঠকর্মীকে উড়িয়ে এনেছে। আপাতত আশা করা ছাড়া গত্যন্তর নেই যে, ভবিষ্যতে এ জাতীয় ব্যাপারগুলো দৃষ্টি এড়াবে না যথাযথ কর্তৃপক্ষের।

অবশ্য মিরপুরের স্মারক ম্যাচে অনন্য একটি রেকর্ডও হয়েছে। ল্যান্ডমার্ক ম্যাচে স্বাগতিক দলের দর্শক হয়ে থাকার এটাই প্রথম এবং একমাত্র হয়ে থাকারও জোর সম্ভাবনা রয়েছে!

পেশাদার ক্রিকেটে এ জাতীয় আবেগে ডুবে থাকার সুযোগ নেই। বসে থাকেনি বাংলাদেশ দলও। সকাল ৯টা থেকে টানা তিন ঘণ্টার অনুশীলনে শ্রীলঙ্কাবধের প্রস্তুতি চলেছে ইনডোরের ভেতরে-বাইরে। তবে নেটে গিয়ে ক’টা বল খেলেই ইমরুল কায়েসের বেরিয়ে পড়া দেখে এটা প্রায় নিশ্চিত যে, আগামীকালের ম্যাচেও নামা হবে না তাঁর। আঙুলের চোট সারেনি বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের। ফেরার পথে মাশরাফি পরামর্শও দিলেন সতীর্থকে, “নিজেকে খুব বেশি ‘পুশ’ করিস না।” মানে, ম্যাচ খেলার জন্য নিজের ওপর ইমরুলকে জবরদস্তি করতে নিষেধ করেছেন অধিনায়ক। তার মানে, শুক্রবারের ম্যাচেও তামিম ইকবাল, এনামুল হক আর সাকিব আল হাসানকে নিয়েই বাংলাদেশের টপ অর্ডার। তার পরও সে ম্যাচে পরিবর্তন অবধারিত। ত্রিদেশীয় এই সিরিজে বাংলাদেশের সাফল্যে সহজ একটি ফর্মুলা অনেক আগেই অনুমোদিত হয়ে আছে। জিম্বাবুয়ে সামনে এলেই দুই বাঁহাতি স্পিনার খেলাও আর লঙ্কানদের জন্য এক বাঁহাতি ছেঁটে বিশেষজ্ঞ অফস্পিনার নামিয়ে দাও। সে ফর্মুলায় গতকালের অনুশীলনে যারপরনাই নজরদারি হলো মেহেদী হাসান মিরাজের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ভালো বোলিং করা সাঞ্জামুল ইসলামও অনুশীলন করেছেন। তবে প্রতিপক্ষ বিবেচনায় শ্রীলঙ্কা ম্যাচে তাঁর বদলে থিংকট্যাংকে মেহেদী মিরাজই যে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন, সেটি দৃশ্যমান। শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং অর্ডারে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের আধিক্যই স্বাগতিকদের এমন রণপরিকল্পনার কারণ। সঙ্গে যদি প্রতিপক্ষের বোলিং শক্তির কারণে ব্যাটিং অর্ডারের দৈর্ঘ্য বাড়ানোর চিন্তা ডালপালা মেলে, তাহলে এক পেসার ছেঁটে একজন পেসার-অলরাউন্ডার খেলিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশ। সাইফ উদ্দিন আর আবুল হাসানের মধ্যে কোনো একজন একাদশে ঢুকে পড়লে কপাল পুড়বে রুবেল হোসেনের।

জিম্বাবুয়ে ম্যাচে যিনি দলের দাবি মিটিয়েছেন প্রয়োজনের সময়ে। তবে প্রতিপক্ষ বদলের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় পরিকল্পনা রং বদলায় বলেই তো সাঞ্জামুলের পরিবর্তে মেহেদী মিরাজকে খেলানোর চিন্তা বেগবান হয়েছে। তো, রুবেল নিজে অবশ্য যেকোনো চ্যালেঞ্জের জন্যই তৈরি, ‘মিরপুরের উইকেটটা কালো মাটির। তাই জোরে বল করলে বলের একটা দিক দ্রুতই খারাপ হয়ে যায়। এতে রিভার্স সুইংটা ভালো হয়। নতুন বলে আমিও বোলিং করতে চাই। তবে দলের প্রয়োজনটা আগে। আমি সব সময়ের জন্য প্রস্তুত। আলহামদুলিল্লাহ, ভালোও করছি।’

তার পরও প্রায় ৯ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মাত্রই গত ম্যাচে শততম উইকেট নিয়েছেন রুবেল। তবে তাঁর স্বপ্ন, ‘২৫০-৩০০ উইকেট।’ সম্পূরক প্রশ্নে তাঁকে বলতে হলো, ‘মানুষ তো স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে থাকে। আমি না হয় স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে থাকলাম।’



মন্তব্য