kalerkantho


'হাতুরাসিংহে রানও করে না বা উইকেটও নেয় না’

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



'হাতুরাসিংহে রানও করে না বা উইকেটও নেয় না’

আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন যে রান করে দিয়েছে তামিম ইকবাল। আর উইকেট নিয়ে দিয়েছে সাকিব আল হাসান। চন্দিকা তো আর রান করতে পারবে না বা উইকেট নিয়ে দিতে পারবে না। রিচার্ড হালসাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ দলের হেড কোচের পদ ছেড়ে গিয়েও দিব্যি আছেন চন্দিকা হাতুরাসিংহে। বিশেষ করে দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়ার ঠিক পরের সিরিজেই শ্রীলঙ্কার কোচ হয়ে ঢাকায় ফিরেছেন বলে এই লঙ্কানকে ঘিরে বাংলাদেশের ক্রিকেট পরিমণ্ডলে আলোচনা এবং জল্পনা-কল্পনা আরো বেশি। মাত্রই এখান থেকে গেছেন বলে মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা ভালোই জানা তাঁর। কাজেই তিনি না আবার ২০ জানুয়ারির লড়াইয়ে কোনো চমক নিয়ে হাজিরা দেন, এই কৌতূহলও কম নয়।

তাই ঘুরেফিরে হাতুরাসিংহে প্রসঙ্গ উঠছেই। উঠল গতকাল বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ রিচার্ড হালসালের সংবাদ সম্মেলনেও। কিন্তু কিছুদিন আগেও হাতুরাসিংহের আস্থাভাজন সহকারী যা বললেন, তাতে মনে হলো বাংলাদেশ শিবির ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই অন্য এক খেলাও শুরু করে দিয়েছে। যেন ‘মাইন্ড গেম’ খেলে মাঠের লড়াইয়ের আগে এগিয়ে থাকার চেষ্টা। হালসালের যে চেষ্টার ভাবার্থ হলো, ‘যে চলে গেছে, তাকে গুরুত্ব কম দাও। কারণ আসল কাজটা তো সে করেনি।’

ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগে একই সুর শোনা গেছে ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির কণ্ঠেও। হাতুরাসিংহেকে ‘স্যালুট’ জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে তাঁর অবদানের কথা যেমন স্বীকার করেছেন, তেমনি বলতে ভোলেননি যে এই লঙ্কানের সময়ে সাফল্যের নিয়ামক ছিল খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই। হালসাল অবশ্য উদাহরণ টানলেন হাতুরাসিংহে-পরবর্তী সময়ের প্রথম ম্যাচ থেকেই, ‘চন্দিকা খুব ভালো কোচ। কিন্তু গত রাতে (ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ) আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন যে রান করে দিয়েছে তামিম ইকবাল। আর উইকেট নিয়ে দিয়েছে সাকিব আল হাসান। চন্দিকা তো আর রান করতে পারবে না বা উইকেট নিয়ে দিতে পারবে না।’

তবে খারাপ সময় যাচ্ছে বলে শ্রীলঙ্কাকে হেলাফেলার পাত্র বলেও মনে করছেন না হালসাল। তাঁদের প্রতি সমীহ রেখেই বললেন, ‘নিজেদের সেরা খেলাটা খেললে শ্রীলঙ্কা খুবই শক্তিশালী দল। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আমরা সেটি দেখেছিও। ওরা ভারতকে হারিয়েছে। সুতরাং আমি জানি যে ওরা কেমন খেলতে পারে। যদিও সাম্প্রতিক সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না ওদের। তার মানে এই নয় যে দিন তিনেক পরেও ওরা ভালো খেলবে না। ম্যাথুজ ও লাকমলের মতো দুর্দান্ত কিছু খেলোয়াড় ওদের রয়েছে। গত বছরটি হয়তো ওদের ভালো যায়নি, তবে ওরা বেশ ভালো দল।’

দুঃসময়ের মধ্যে থাকা শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হওয়ার আগে হেসেখেলে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর তৃপ্তিও খেলে গেল হালসালের কণ্ঠে। সেই সঙ্গে চেনা মাঠে ছন্দে ফেরার স্বস্তিও, ‘মিরপুরে আবার খেলতে নামাটা দারুণ। ছেলেরা এই মাঠে খেলতে উপভোগও করে। গত ম্যাচের পারফরম্যান্সও ছিল তৃপ্তিদায়ক। ক্রিকেটারদের মুখের হাসি দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে ওরা নিজেদের নিয়ে কতটা গর্বিত।’ ইনজুরির পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুস্তাফিজুর রহমানকে আগের মতো কার্যকর হয়ে উঠতে দেখাও কম সন্তুষ্টির ছিল না হালসালের কাছে।

বেসবল খেলার পিচারদের (যিনি বল ছোড়েন) উদাহরণ টেনে বোঝাতে চাইলেন যে তুলনামূলক কম সময়েই ‘কাটার মাস্টার’কে আগের চেহারায় ফিরতে দেখা যাচ্ছে, ‘বেসবলের দিকে তাকালে দেখবেন অনেক পিচারেরই এ রকম চোট থাকে। ওদের বল ছোড়ার গতি হয় ৯০ মাইলের মতো। এ রকম চোট পেলে সেটি কাটিয়ে আবার ৯০ মাইল গতিতে ফিরতে ওদের দুই বছরও লেগে যায়। মুস্তাফিজের সেখানে চোটের পর দেড় বছরের মতো হয়েছে। ওর গতি আস্তে আস্তে বেড়ে ৮৫ মাইল পর্যন্ত এসে গেছে।’ ধীরে ধীরে গতি বাড়ছে মুস্তাফিজের বোলিংয়ের। তাই কার্যকর হয়ে উঠছে তাঁর কাটারও, ‘ওর কাটার সব সময় দারুণ ছিল। গতিও বাড়ছে এখন। কাটারগুলোও তাতে আরো বেশি কার্যকর হয়ে উঠছে।’

এবার হাতুরাসিংহের দলের বিপক্ষেই কাটারের কার্যকারিতা আরো বেশি করে দেখতে চাইবেন হালসালরা!


মন্তব্য