kalerkantho


হাতুরাসিংহের নতুন শুরু

নতুন জুটিতে সাফল্যের খোঁজে শ্রীলঙ্কা

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নতুন জুটিতে সাফল্যের খোঁজে শ্রীলঙ্কা

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শিহান মাডুশাঙ্কার বয়স ২২ বছর। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরু মাত্র। খেলেছেন তিনটি করে প্রথম শ্রেণির এবং লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ। অমন আহামরি কোনো পারফরম্যান্স না। প্রথম শ্রেণির তিন ম্যাচে ৮ উইকেট, লিস্ট ‘এ’-তে ৪ উইকেট। তাতেই বাংলাদেশ সফররত দলে সুযোগ পেয়ে পান এই ফাস্ট বোলার। বলা ভালো, নির্বাচকদের কাছ থেকে তাঁকে এক রকম ‘চেয়ে’ নিয়েছেন চন্দিকা হাতুরাসিংহে। শ্রীলঙ্কার ২০১৯ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা এখনই যে শুরু করে দিয়েছেন নতুন কোচ!

একই কথা বলা যায় অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের ওয়ানডে অধিনায়কত্বে ফেরা নিয়েও। দায়িত্বটা ছাড়ার পর মাস ছয়েকও পেরোয়নি। কিন্তু হাতুরাসিংহে কোচ হওয়ার পর ৫০ ওভারের ফরম্যাটে অধিনায়ক হিসেবে চান তাঁকে। এই চাওয়ার মূল্য অনেক। কারণ হাতুরাসিংহে তো কেবল কোচ নন, ম্যাথুজের কাছে এর চেয়েও বেশি কিছু। তাঁকে সম্বোধন করেন ‘আইয়া’ হিসেবে, লঙ্কান ভাষায় ওই শব্দের অর্থ বড় ভাই। ওয়ানডে নেতৃত্বে ফেরা নিয়ে ম্যাথুজ তাই বলেছিলেন অমনটা, ‘পদত্যাগ করার সময় ভাবিনি যে আবার অধিনায়কত্ব নেব। কিন্তু ভারত থেকে ফিরে আসার পর বোর্ড প্রেসিডেন্ট আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। হাতু আইয়ার (ভাই) সঙ্গে কথা হয়েছে, নির্বাচকদের সঙ্গেও। সবাই আমাকে আবার ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব নিতে বলেলেন। আর কোচকে তো অনেক দিন ধরে চিনি, উনার কাজ করার ধরন সম্পর্কে জানি। তাঁর সঙ্গে কাজ করা দারুণ ব্যাপার হবে।’

হাতুরাসিংহে-ম্যাথুজ জুটির সেই নতুন মিশন শুরু হচ্ছে আজ। ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। কিন্তু দৃষ্টিটা যে আরো অনেক দূরে, নির্দিষ্ট করে বললে আগামী বছরের বিশ্বকাপে কাল সংবাদ সম্মেলনে তা খোলাসা করেই বলেছেন লঙ্কান অধিনায়ক, ‘আমরা সেরা হতে চাই। খেলতে চাই ভালো ক্রিকেট আর উন্নতি করতে চাই প্রতি ম্যাচে। এটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। জয় খুব গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু যখন ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য দল গঠন করা হচ্ছে, তখন সব দিকই আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে।’

শ্রীলঙ্কার আসলে ওভাবে না ভেবে উপায় নেই। ঘোর দুঃসময়ের চক্রে পড়ে গেছে যে দলটি! সর্বশেষ সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২৯ রানে ভারতের ৭ উইকেট তুলে নিয়ে সাড়া ফেলে দেয় তারা, শেষে ম্যাচ জেতে ৭ উইকেটে। আশ্চর্য এই যে সর্বশেষ ১৫ ওয়ানডের মধ্যে কেবল ওই একটি খেলাই জিতেছে লঙ্কানরা। পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা প্রতিনিয়ত বাড়ছিল তাই। হাতুরাসিংহকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সেই পরিবর্তনের পথে বড় এক পদক্ষেপ।

বাংলাদেশের কোচ হিসেবে ছিলেন সাড়ে তিন বছর। পরিকল্পনাটা যে হাতুরাসিংহে খুব ভালো করতে পারেন, এ তাঁর বড় শত্রুও স্বীকার করেন। শ্রীলঙ্কাকে কিভাবে এই দুঃসময়ের চক্র থেকে বের করে আনা যায়, তা নিয়েও বিস্তর পরিকল্পনা লঙ্কান বোর্ডকে জানিয়েছেন নতুন কোচ। দল নির্বাচনে বাংলাদেশের মতো স্বাধীনতা হয়তো পাবেন না; কিন্তু নিজের জোরালো মত রাখবেন ঠিকই। প্রথম সফরের স্কোয়াডেও এর প্রতিফলন। মাডুশাঙ্কাকে নেওয়া হয়েছে হাতুরাসিংহের চাওয়াতেই। এ নিয়ে তাঁর মত, ‘ওর বলে গতি আছে, যা কোচিং করিয়ে তৈরি করা যায় না। পরবর্তী বিশ্বকাপে যখন যাব, আমাদের সাত-আটজন ফাস্ট বোলার লাগবে, যারা অন্তত ১৫টি করে ওয়ানডে খেলেছে। মাডুশাঙ্কাকে নিয়েছি দীর্ঘমেয়াদের কথা চিন্তা করে।’

ওয়ানডে স্কোয়াডে ফিরেছেন দীনেশ চান্ডিমাল, কুশাল মেন্ডিস ও লেগস্পিনিং অলরাউন্ডার ওয়ানিনডু হাসারাঙ্গা। এর মধ্যে প্রথম দুজন নাকি হাতুরাসিংহের প্রেসক্রিপশনে। আর ম্যাথুজের নেতৃত্ব তো নিশ্চিতভাবেই কোচের চাওয়ায়। এ ক্ষেত্রে আশঙ্কার জায়গাও রয়েছে। গত ১৮ মাসে শ্রীলঙ্কার ৩৯ ওয়ানডের মধ্যে ম্যাথুজ ২০টি মিস করেছেন ইনজুরির কারণে। সর্বশেষ ভারত সফরও শেষ হয়েছে মাঝপথে। ‘আমি মনে করি, ওয়ানডে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অ্যাঞ্জেলো সেরা। তবে ওর ফিটনেস নিয়ে ভয় আছে। এ বিষয়ে ওকে সাহায্য করার পরিকল্পনা করা হয়েছে’—বলেছেন হাতুরাসিংহে।

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের টালমাটাল অবস্থায় কোচের কড়া হেড মাস্টারসুলভ ভাবমূর্তির প্রয়োজন রয়েছে বলে মত অনেকের। কোচের কারণে আলাদা চাপ নেই বলে কাল জানিয়েছেন অধিনায়ক। আর বাংলাদেশে আসার পরই তো বলেছিলেন ম্যাথুজ, ‘হাতুকে আমি ১০ বছরের মতো সময় ধরে চিনি। তাঁর কাজ করার নিজস্ব ধরন আছে। তিনি কড়া নন, তবে কখনো কখনো অমন হতে পারেন। আমাদের কোচ হিসেবে উনি মাত্র শুরু করলেন, তবে খেলোয়াড়দের সব কিছুই তাঁর জানা। হাতুরার সঙ্গে কাজ করায় আমি খুব রোমাঞ্চিত।’ পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের নতুন শুরুর ঘোষণা কাল অধিনায়কের কণ্ঠে, ‘এটি নতুন বছর। ২০১৭-কে পেছনে ফেলে আমরা নতুন করে শুরু করতে চাই।’

চন্দিকা হাতুরাসিংহের শ্রীলঙ্কা এটি। নতুন শুরু তো বটেই!



মন্তব্য