kalerkantho


আজ শুরু যুব গেমস

প্রতিভা সন্ধানের সঙ্গে জাগরণেরও স্বপ্ন

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



প্রতিভা সন্ধানের সঙ্গে জাগরণেরও স্বপ্ন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জেলায় জেলায় জ্বলে উঠেছে বাংলাদেশ যুব গেমসের মশাল। এই মশালের আলো সব অবসাদ পুড়িয়ে আবার উচ্ছলতা ফেরাবে জেলার ক্রীড়াঙ্গনে। বেরিয়ে আসবে নতুন প্রতিভা। এ জন্যই বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের এই মহাযজ্ঞ আয়োজন।

১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১টি ডিসিপ্লিন নিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত বাংলাদেশ যুব গেমসের খেলা শুরু আজ থেকে। জেলা পর্যায়ে খেলা চলবে আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত, এরপর বিভাগীয় পর্যায়ের খেলা ৬ জানুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হবে ১৫ জানুয়ারি। মার্চে ঢাকায় হবে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। প্রাথমিক চিন্তা ছিল আরেকটু তৃণমূলে গিয়ে, অর্থাৎ উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করার, যেন মূলে গিয়ে নাড়া দেয় এই গেমস। কিন্তু অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতায় সেই চিন্তা বাদ দিতে হয়েছে। এ রকম এক মহাযজ্ঞ শুধু অর্থ দিয়ে সুসম্পন্ন করা যায় না। লাগে অভিজ্ঞ সংগঠক, অবকাঠামো এবং সঠিকভাবে খেলা পরিচালনার জন্য ‘টেকনিক্যাল পারসন’। একটির ঘাটতি হলেই গেমস আয়োজন কঠিন হয়ে যায়। আর এটা আয়োজন করতে গিয়ে বিওএ কর্মকর্তারা দেখেছেন জেলা পর্যায়ে ক্রীড়ার করুণ হাল। বছরের পর বছর খেলাধুলাহীন কাটিয়ে দেওয়া জেলারও খোঁজ মিলেছে। যেমন নীলফামারী জেলাকে গেমসমুখী করতে নাকি গলদঘর্ম হতে হয়েছে তাঁদের। জেলায় খেলাধুলাটা আর আবশ্যিক বিষয়ের মধ্যে নেই। সেটা কোথাও নেই, খেলা চালানোর দায়িত্ব যাদের সেই জেলা ক্রীড়া সংস্থায় আন্তরিকতায় অভাব, স্কুলগুলোও ভুলে যাচ্ছে শিশু-কিশোরদের মনোবিকাশে ক্রীড়া অবদানের কথা। বিওএ সহসভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুনের কথায় জেলার চিত্রটা স্পষ্ট হয়েছে, ‘ছোটবেলায় আমরা স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দিকে তাকিয়ে থাকতাম। এই গেমস আয়োজনের উদ্দেশ্য জেলার ক্রীড়াকে জাগানোর পাশাপাশি সংগঠক শ্রেণিটাকে ফিরিয়ে আনা।’ নিবেদিত সংগঠকদের বিদায় দিয়ে জেলার ক্রীড়া এখন একদল লুটেরা শ্রেণির হাতে, যাদের ক্রীড়া অনুরাগ না থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব প্রবল। তাই জেলার খেলার আজ হতশ্রী চেহারা।

নইলে দেশের ৪৯১টি উপজেলার মধ্যে কেন ৩৬০টি উপজেলা ফুটবলে অংশ নেবে! ফুটবল তো আমজনতার খেলা, ফুটবলে লাথি মারেনি এমন ছেলে সম্ভবত খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো, সেই খেলোয়াড়দের সংগঠিত করার লোকের অভাব। নেই প্রকৃত সংগঠক। তাই ১৩১টি উপজেলা অংশ নেয়নি যুব গেমসের ফুটবলে। এ ছাড়া অ্যাথলেটিকসে ৩১৫টি উপজেলা, ব্যাডমিন্টনে ২৮২ উপজেলা, দাবা ও সাঁতারে ১৮৮টি উপজেলা, হ্যান্ডবলে ১২৩টি উপজেলা, হকিতে ৩৮টি উপজেলা এবং বাস্কেটবলে ২০টি উপজেলা অংশ নিচ্ছে। অ্যাথলেটিকসে কুমিল্লা সাড়া ফেলেছে। ১৬টি উপজেলার সবকটিই অংশ নিচ্ছে অ্যাথলেটিকসে। শ্যুটিং, আর্চারি, স্কোয়াশের মতো অপ্রচলিত খেলাগুলোও রাখা হয়েছে। আবার সাইক্লিং-রাগবি গেমসের অন্তর্ভুক্ত হতে চেয়েও পারেনি। বিওএ যুগ্ম মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকুর দাবি, ‘ডিসিপ্লিন চূড়ান্ত করার আগে আমরা সার্ভে করেছি। বিভিন্ন ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছি তাদের উপজেলা এবং জেলাভিত্তিক কোনো কার্যক্রম আছে কি না। উত্তর যা পেয়েছি তা মোটেই সন্তোষজনক ছিল না। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জেলা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই আমরা ২১টি ডিসিপ্লিন চূড়ান্ত করেছি। মূলত যেসব খেলার সম্ভাবনা আছে এবং যেসব খেলা আয়োজন করা সহজ এবং কম ব্যয়বহুল সেসব খেলাকেই আমরা বেছে নিয়েছি।’ এটা অনূর্ধ্ব-১৭ বছরের অ্যাথলেটদের লড়াই। বয়স পরীক্ষা-নিরীক্ষারও জন্য একটি কমিটি আছে, যারা স্থানীয় ডাক্তারদের সাহায্য নিয়ে অ্যাথলেটদের বয়স নির্ধারণ করবে।  

প্রথমাবেরর মতো এই আয়োজন। কোনো খেলা এবার সুযোগ না পেলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আগামীবার সুযোগ মিলবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিওএ। বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা বারবার বলেছেন, ‘প্রথম আয়োজন, ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকবেই। আমরা শুরু করি, কয়েকটি আসরের পর একটা স্ট্যান্ডার্ড দাঁড়িয়ে যাবে।’ তাই প্রথম বাংলাদেশ যুব গেমসের কাছে বেশি প্রত্যাশাও নেই। এখানে থেকে বিশাল প্রতিভা বেরিয়ে আসবে, যারা এসএ গেমসে পদকের স্বপ্ন দেখাবে—এমন কল্পনা করাও ঠিক হবে না। কারণ এ দেশ থেকে খেলাধুলার চলই উঠে যাচ্ছে। মাঠে-ময়দানে খেলার পরিবর্তে শিশু-কিশোররা এখন ভার্চুয়াল গেমসে বেশি মনোযোগী। তারুণ্য মেতে থাকে নিষিদ্ধ নেশায়। চারদিকে চলছে অবক্ষয়ের প্রতিযোগিতা। সামাজিক অসুখ সারানোর একমাত্র উপায় খেলাধুলা। শিশু-কিশোরদের মাঠে ফিরিয়ে ক্রীড়া আনন্দ উপভোগ করতে শেখানো। এই নির্ভেজাল নেশাটা ধরিয়ে দেওয়া গেলেই যুব গেমস সার্থক।



মন্তব্য