kalerkantho


এবার কারস্টেনের অপেক্ষায় বিসিবি

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



এবার কারস্টেনের অপেক্ষায় বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : রিচার্ড পাইবাস আগেই সাক্ষাত্কার দিয়ে গেছেন। গত পরশু রাতে ঢাকায় আসা ফিল সিমন্সও গতকাল দুপুরে বোর্ড সভা শুরুর আগেই সাক্ষাত্কার দিয়ে গেলেন। সন্ধ্যায় বোর্ড সভা শেষ হওয়ার ঠিক আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক এই অলরাউন্ডারকে আবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কার্যালয়ে ঢুকতে দেখে অনেকে দুয়ে দুয়ে চার মেলাতে চাইলেন। কারণ এটা তো মোটামুটি ঠিকই ছিল যে কালকের সভায়ই চন্দিকা হাতুরাসিংহের উত্তরসূরি চূড়ান্ত করে ফেলবে বিসিবি। কিন্তু আচমকাই সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জাতীয় দলের হেড কোচ নিয়োগের বিষয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখল দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসন।

কোচ নিয়োগের অঙ্কটা হুট করেই বদলে যাওয়ার কারণ বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে এভাবেই ব্যাখ্যা করছিলেন সভাপতি নাজমুল হাসান, ‘সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো আজকেও দুটো বায়োডাটা এসেছে। তাঁরা আগ্রহ জানিয়েছেন এবং তাঁরা ভালো লেভেলের কোচ। দুটো বায়োডাটা এসেছে গতকালও (পরশু)। কাজেই আমরা সাড়া পাচ্ছি।’ বাজারে ভালো কোচের সংকটে যখন সাড়া মিলতে শুরুই করেছে, তখন তড়িঘড়ি না করে একটু ‘ধীরে চলো’ নীতি অবলম্বনেই একমত হয়েছেন বোর্ড কর্তারা। তা ছাড়া আগের দিন যখন জাতীয় দলের শীর্ষ ক্রিকেটার থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফের সদস্যরাও হেড কোচ ছাড়াই আসন্ন শ্রীলঙ্কা সিরিজ চালিয়ে দিতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন, তখন আরেকটু অপেক্ষা করা যেতে পারে বলেই মনে করছে বিসিবি।

সেই অপেক্ষা কার জন্য? একাধিক কোচের জন্য অবশ্যই নয়। নাজমুল নাম না বললেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে কোচ নিয়োগে হঠাৎ করেই বিসিবির অবস্থান বদলের কারণ গ্যারি কারস্টেন। ২০১১ সালে ভারতকে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতানো এই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচের সঙ্গে হাতুরাসিংহের পদত্যাগের পরপরই যোগাযোগ করেছিল বিসিবি। কিন্তু তখন ‘না’ বলে দেওয়া এই সাবেক ক্রিকেটার আবার নিজেই বাংলাদেশের হেড কোচ হতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। খুব স্বাভাবিক যে তাঁকে পাওয়া গেলে আর অন্য কারো দিকেই তাকাবে না বিসিবি। কিন্তু তাঁকে দ্রুতই পাওয়ারও উপায় নেই কোনো। সে জন্যই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে নাজমুলদের।

সে অপেক্ষার কথা তিনি বলেছেনও, ‘আমরা সংক্ষিপ্ত একটি তালিকা করেছি। একজন আছে, যাঁর সঙ্গে মোটামুটি সবই ঠিক হয়ে গেছে। তাঁর পারিশ্রমিক এবং কবে তিনি কাজে যোগ দিতে পারবেন, সেই ব্যাপারটি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। তাই আমাদের আরো কিছুদিন সময় লাগতে পারে।’ অপেক্ষা যে কারস্টেনের জন্যই, তেমন ইঙ্গিতও আছে নাজমুলের কথায়, ‘আরেকটি জিনিস আমরা আলোচনা করেছি। পরের সিরিজ (শ্রীলঙ্কা) শুরুর আগে আমরা যদি কাউকে চূড়ান্ত করতে না পারি, সেক্ষেত্রে কী হবে? কিংবা এমনও তো হতে পারে যে চূড়ান্ত করে ফেললাম কিন্তু তিনি পরে আসলেন। এই যেমন একজন আছেন, যিনি বিগ ব্যাশ শেষ হওয়ার আগে আসতে পারছেন না। তিনি কাজে যোগ দিতে পারবেন ২৩ ফেব্রুয়ারি।’

১৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসরে গ্যারি কারস্টেন হোবার্ট হারিকেনসের কোচ। পারিশ্রমিক নিয়ে বনিবনা হলে বিসিবি তাঁর জন্য অপেক্ষাও করবে বলে কাল নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। সে ক্ষেত্রে বর্তমান কোচিং স্টাফ ও অধিনায়ক দিয়েই চালাবে বিসিবি। সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার কথা আছে বোর্ড পরিচালক খালেদ মাহমুদকেও, ‘এখন যে কোচিং স্টাফ আছে তাঁরা এবং অধিনায়করা কাজ চালাবেন। বোর্ড থেকে কাউকে সুপারভাইজ করতে দেব। এই সিরিজের জন্য কাউকে হেড কোচ করার কোনো দরকার নেই।’

অবশ্য আচমকা গ্যারি কারস্টেন দৃশ্যপটে চলে আসায় ইতিমধ্যে সাক্ষাত্কার দেওয়া সবার সম্ভাবনাই শেষ হয়ে যায়নি। হেড কোচ পদে না হলেও অন্য কোনো ভূমিকায় দেখা যেতে পারে এঁদের কাউকে। যেমন পাইবাসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও খুব মনে ধরেছে বিসিবির। খেলোয়াড়রা অবশ্য তাঁকে চাননি। আবার বোর্ডে কাল এমন আলোচনাও হয়েছে যে জাতীয় দলের হেড কোচের পাশাপাশি পাইবাসের মতো কাউকে ডিরেক্টর অব ডেভেলপমেন্ট পদ দিয়েও আনা যেতে পারে। তাঁর সুযোগও তাই শেষ হয়ে যায়নি। এদিকে আবার যে বা যাঁরা যোগাযোগ করেছেন, তাঁদের মধ্যে শ্রীলঙ্কার সাবেক ব্যাটসম্যান হাসান তিলকরত্নেও আছেন। এঁদের আগ্রহও ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখলেন নাজমুল, ‘হয়তো হেড কোচ না হলেও কোনো না কোনোভাবে আমরা তাঁদের আনতে পারি।’ বিসিবি তো পাশাপাশি ব্যাটিং উপদেষ্টাও খুঁজছে।

তবে আসল খোঁজ যাঁর জন্য, সেই হেড কোচকে পেতে হয়তো অপেক্ষা করতে হতে পারে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কারস্টেন যে এর আগে আসতেই পারবেন না!



মন্তব্য