kalerkantho


রংপুর-খুলনার টিকে থাকার লড়াই

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রংপুর-খুলনার টিকে থাকার লড়াই

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ক্রিস গেইল আংশিক দিয়েছেন, পুরোটা এখনো নয়। আর ব্রেন্ডন ম্যাককালাম? তাঁর কাছে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ এখনো সেভাবে মেলেইনি।

তবে এখন সেই সময় এসে উপস্থিত, যখন দুজনের কাছেই পুরোটা পাওয়ার দাবি রংপুর রাইডার্সের। কারণ জীবন-মরণ ম্যাচে পারফরম না করলে করবেন কখন? আজ যে এলিমিনেটর ম্যাচ। খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে আজ দুপুরে অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচ হারলেই তো টুর্নামেন্ট থেকে পত্রপাঠ বিদায়। জিতলে সুযোগ আছে ফাইনালে যাওয়ার। সন্ধ্যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ও ঢাকা ডায়নামাইটসের মধ্যকার প্রথম কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়া দলের সঙ্গে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জিতে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত রাখতেই গেইল-ম্যাককালামদের চেনা ছন্দে দেখাটা জরুরি রংপুর রাইডার্সের।

খুলনা টাইটানসে তাঁদের মতো অত বড় মহাতারকা নেই, আবার বিদেশি নির্ভরতাও এই দলটার খুব বেশি নেই। কারণ তাদের স্থানীয় ক্রিকেটাররাও আছেন দারুণ ছন্দে। ডাবল লিগভিত্তিক পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে হারিয়ে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচের আগে দারুণ আত্মবিশ্বাসও সঙ্গী খুলনার। সেই সঙ্গে আছে বিপিএলের গত আসরের প্রেরণাও।

সেবার এলিমিনেটর ম্যাচ জিতে ফাইনালের পথে আরেক ধাপ এগিয়েছিল তারা। যদিও রাজশাহী কিংসের কাছে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হেরে টুর্নামেন্টে তৃতীয় হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাদের।

এবার তার চেয়েও এগোতে মরিয়া খুলনার জয় চাই-ই চাই। আবার নতুন মালিকানায় যাওয়া রংপুর রাইডার্সও বাজিমাত করতে চায়। তারকা মূল্যে বাজিমাত অবশ্য তাদের আগেই করা হয়ে গেছে। কিন্তু তারকাসুলভ বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে এখনো সেভাবে কোনো দলই ছারখারও হয়ে যায়নি। গেইল ইতিমধ্যে দুটি ফিফটি করেছেন বটে, তবে তাঁর কাছে আরো বড় ইনিংসের চাহিদা অস্বাভাবিক কিছু নয়। একেই বিপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ তিনটি সেঞ্চুরির মালিক তিনি, তার ওপর এর দুটিই করেছেন ২০১২ সালে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের হয়ে বিপিএলের প্রথম আসরে। একই দলের হয়ে পরের আসরেও করেছেন আরেকটি। বিপিএল সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসটিও (১১৬ বনাম বরিশাল বার্নার্স) তাঁরই।

অথচ সেই গেইলেরই এবার সবশেষ পাঁচ ম্যাচের স্কোর ১৬, ৩৩, ৫, ০ ও ৩৮! এখনো একটিও ফিফটি না পাওয়া ম্যাককালামের সর্বোচ্চ ইনিংসটি ৪৩ রানের। এখানকার উইকেটের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে লম্বা সময় নিয়ে ফেলা ম্যাককালামের কাছে বড় কিছু দেখাটা এখন সময়ের দাবি। সেই দাবি এত দিন মেটাতে না পারলেও রংপুর ঠিকই সেরা চারে উঠে এসেছে নানা জনের বিচ্ছিন্ন পারফরম্যান্সে। দুই ম্যাচে খোদ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে ব্যাট হাতে দলকে জেতানোর দায়িত্ব নিতে হয়েছে। কখনো সে দায়িত্ব নিয়েছেন রবি বোপারা তো কখনো মোহাম্মদ মিঠুন। তাতেই ফাইনালে যাওয়ার দৌড়ে রংপুর অগ্রবর্তী দলের সদস্য হয়েছে।

তাদের মতো খুলনা অবশ্য বিদেশিদের দিকে অতটা তাকিয়ে নেই। কারণ তাদের স্থানীয় খেলোয়াড়রা পারফরম করছেন। অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ অন্তত দুটি ম্যাচে দলকে জেতাতে রেখেছেন বড় ভূমিকা। ঘরোয়া ক্রিকেটের চেনা মুখ আরিফুল হকও ‘ম্যাচ উইনার’ হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছেন এই আসরে। সাকিব আল হাসানের পর উইকেট শিকারের দিক থেকে এই আসরের দ্বিতীয় সেরা বোলার আবু জায়েদ রাহিও দলকে সেরা চারে তুলে আনার ক্ষেত্রে রেখেছেন দারুণ অবদান। তরুণ নাজমুল হোসেন এবং আফিফ হোসেনরাও সময়ে সময়ে দলের সাফল্য চিন্তার সঙ্গে মানানসই পারফরম্যান্স করেছেন।

এ জন্যই পুরো দলকে নিয়ে কাল ভীষণ উচ্ছ্বসিত শোনাল খুলনা টাইটানসের বোলিং কোচ আলফনসো থমানের কণ্ঠ, ‘টুর্নামেন্ট কিন্তু আমরা আন্ডারডগ হিসেবেই শুরু করেছিলাম। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই এখন আমরা প্লে-অফ খেলতে নামছি। ’ নামার আগে তাদের অন্যতম ভরসাস্থল মাহমুদ উল্লাহর নেতৃত্বও, ‘আমাদের মাহমুদ উল্লাহ ঠাণ্ডা মাথার অধিনায়ক। সামনে থেকে দলকে দারুণ নেতৃত্ব দিচ্ছে। পুরো দলকে একত্রিত করায় ওর দারুণ ভূমিকা। ’

একই ভূমিকায় দারুণ সফল মাশরাফিও। কখনো বল হাতে, কখনো ফিল্ডার হিসেবে, আবার কখনো ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের স্বাদ এনে দেওয়া মাশরাফি ১১ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ সেরা বোলার। আবার টুর্নামেন্টে ষষ্ঠ সেরা ব্যাটসম্যান মাহমুদ উল্লাহও। ম্যাচভাগ্য গড়ে দেওয়ায় তাই দুই অধিনায়কও হয়ে উঠতে পারেন বড় প্রভাবক। অবশ্য গেইল-ম্যাককালাম চেনা ছন্দে দেখা দিয়ে ফেললে হয়তো রংপুরের খুব বেশি কিছুর দরকারও হবে না আর!


মন্তব্য