kalerkantho


২০১৮ বিশ্বকাপের ৩২

বাছাই শেষে এখন মূল টুর্নামেন্টের অঙ্ক

১৭ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বাছাই শেষে এখন মূল টুর্নামেন্টের অঙ্ক

পেরু-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শেষ হয়ে গেল রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষে নিশ্চিত হয়েছে ৩১টি দল, যারা রাশিয়া বিশ্বকাপে যোগ দেবে স্বাগতিকদের সঙ্গে।

লিমার স্তাদিও ন্যাসিওনালে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই পর্দা নেমে গেছে দীর্ঘ বাছাই পর্বের। এবার শিরোপার লড়াই শুরুর অপেক্ষা।

২০১০ সালের ২ ডিসেম্বর রাশিয়াকে ২০১৮ বিশ্বকাপের স্বাগতিক ঘোষণা করার মাধ্যমেই জানা হয়ে যায়, স্বাগতিক হিসেবে রুশরা বিশ্বকাপে থাকছেই। ২০১৫-র মার্চে শুরু হওয়া বাছাই পর্ব বাকি ৩১ দল বেছে নেওয়ার জন্য, যেটা শেষ হলো বাংলাদেশ সময় গতকাল।

দীর্ঘ এই বাছাই পর্বে দেখা গেছে অনেক উত্থান-পতন, নাটকীয়তা, ভাগ্যের খেলা, দীর্ঘ প্রতীক্ষা পূরণের আনন্দ আর বাদ পড়ার হতাশা। ইউরোপ থেকেই সবচেয়ে বেশি ১৩টি দল বাছাই পর্বের দেয়াল ডিঙিয়ে পায় বিশ্বকাপের টিকিট। অথচ এই এক ডজনেরও বেশি দলের ভেতর জায়গা হয়নি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির, গত বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া নেদারল্যান্ডসের এবং ইউরোর সবশেষ আসরে সেরা চারে থাকা ওয়েলসের। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া পাঁচ দলের ভেতর নেই কোপা আমেরিকার সবশেষ দুই আসরের শিরোপাজয়ী চিলির নাম! কোপা আমেরিকা জয়ী হিসেবে তারা এ বছর রাশিয়ায় কনফেডারেশনস কাপ বা বিশ্বকাপের মহড়ায় খেলে গেছে, অথচ জায়গা করে নিতে পারেনি মূলপর্বেই। ১৯৯০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সব আসরেই অংশ নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

তাদের ভাষায় ফুটবল মানে হাত দিয়ে সূচালো বল ধরার অন্য একটা খেলা হলেও স্প্যানিশভাষী অভিবাসী গোষ্ঠীর সুবাদে ‘সকার’ও কম জনপ্রিয় নয়। কনকাকাফ অঞ্চলে মেক্সিকো আর যুক্তরাষ্ট্রেরই একচেটিয়া দাপট। সেই যুক্তরাষ্ট্র এবার পারেনি মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে। তাদের বিদায় করে দিয়েই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছে পানামা।

এশিয়া মহাদেশ থেকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া দেশগুলোর নামে কোনো বড় পরিবর্তন নেই। ব্রাজিলে যে চার দলকে দেখা গিয়েছিল, এবারও তারাই। সঙ্গে যোগ হয়েছে সৌদি আরব, ২০০৬ সালের পর ফের তারা জায়গা পেয়েছে বিশ্বকাপে। বড় রদবদল হয়েছে আফ্রিকা মহাদেশে। প্রথাগতভাবে যেসব দলকে বিশ্বকাপে দেখা যেত, সেই ক্যামেরুন, আইভরি কোস্ট, ঘানার কাউকেই পাওয়া যাবে না রাশিয়ায়। তার বদলে এবার দেখা মিলবে মিসর, মরক্কো, তিউনিসিয়া ও সেনেগালের! ১৯৯৮-র ২০ বছর পর রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলবে মরক্কো, ১২ বছর পর খেলছে তিউনিসিয়াও আর ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছে মিসর। ২০০২ সালে বিশ্বকাপ অভিষেকেই চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে দেওয়া এবং কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে চমক জাগানো সেনেগালকে এরপর আর দেখা যায়নি বিশ্বকাপে। তেরাঙ্গার সিংহদের ফের দেখা যাবে রাশিয়াতে, ১৬ বছর পর। সুপার ইগল নাইজেরিয়ার অবশ্য ডানায় ক্লান্তি ভর করেনি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকেই তারা মূলপর্বে নিয়মিত, মাঝে শুধু বাদ গেছে ২০০৬ বিশ্বকাপটা।

দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ব্রাজিল রাশিয়ার টিকিট নিশ্চিত করেছিল সবার আগে। গতবারের রানার্স-আপ আর্জেন্টিনা রাশিয়া পৌঁছেছে ধুঁকে ধুঁকে। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হয়েছে বাছাই পর্ব শেষে। চূড়ান্ত হয়েছে ৩২ দল। সেই সঙ্গে অক্টোবরের ফিফা র‌্যাংকিং অনুযায়ী চূড়ান্ত পর্বে সুযোগ পাওয়া দলগুলো অবস্থান অনুযায়ী ঠিক হয়ে গেছে ড্রর ভাগাভাগিও। ‘এ ওয়ান’ বা শীর্ষ বাছাই রাশিয়ার সঙ্গে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ সাত দল আছে পট ‘এ’তে। র‌্যাংকিং টেবিলে এর পরের আট দল পট ‘বি’তে, এভাবে ক্রমান্বয়ে পট ‘সি’ ও ‘ডি’তে বিভাজন করা হয়েছে ৩২ দলকে। ১ ডিসেম্বর হবে ড্র। তাতে প্রতি পট থেকে একটি করে দল নিয়ে বানানো হবে গ্রুপ। তবে কোনো গ্রুপে একই মহাদেশের একাধিক দল থাকতে পারবে না। ব্যতিক্রম শুধু ইউরোপের দেশগুলোর বেলায়, কোনো গ্রুপে উয়েফার দুটি দলের বেশি থাকতে পারবে না। ১ ডিসেম্বর মস্কোর ক্রেমলিন প্রাসাদে হবে ড্র, সেটা ফিফার ওয়েবসাইট ছাড়াও সরাসরি দেখা যাবে ফিফার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও।

রাশিয়া বিশ্বকাপে একই গ্রুপে দেখা যেতে পারে ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়াকে। কারণ চারটি দলই যে চারটি ভিন্ন পটে! সেই সঙ্গে স্পেন, জার্মানিরও গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। আবার রাশিয়া, পেরু, তিউনিসিয়া ও সৌদি আরবও মুখোমুখি হতে পারে একই গ্রুপে। সে ক্ষেত্রে এই গ্রুপের খেলাগুলো হয়তো অনেকটাই আকর্ষণ হারাবে দর্শকদের। তবে এর সবই ঠিক হবে ১ ডিসেম্বরের ভাগ্যচক্রে। তার আগ পর্যন্ত অবশেষে বিশ্বকাপে পৌঁছাতে পারার তৃপ্তির আমেজই ঘিরে থাকবে বেশির ভাগ দলগুলোকে। ফিফা


মন্তব্য