kalerkantho


জমজমাট সুপার ফোরের প্রত্যাশা

১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



জমজমাট সুপার ফোরের প্রত্যাশা

ভারতের দাপট : এশিয়া কাপে আসার আগেও ভারত চমৎকার খেলছিল, সেই ফর্ম ধরে রেখে তিনটি ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অনায়াসে। গ্রুপে পাকিস্তান থাকলেও ঠিক পরাশক্তির চেহারা নেই। স্টিক-ওয়ার্কের বিলাসী শিল্প বাদ দিয়ে ইউরোপের নির‌্যাস নিয়ে ভারতীয় হকির নতুন সাজ দেখেছে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়াম।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : গ্রুপের লড়াইয়ে হিসাব-নিকাশ এদিক-ওদিক হয়নি। ঢাকায় পা রেখে যারা শিরোপার দাবি জানিয়েছিল সেই চার দলই পৌঁছে গেছে এশিয়া কাপ হকির সুপার ফোরে। আজ থেকে শুরু হচ্ছে তাদের লড়াই, রাউন্ড রবিন লিগ শেষে সেরা দুই দল মুখোমুখি হবে আগামী ২২ তারিখের ফাইনালে। প্রথম ম্যাচে আজ মালয়েশিয়ার সঙ্গে লড়বে পাকিস্তান, অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও কোরিয়া।

এটা মূলত চার ফেভারিটের মধ্যে দুই ফাইনালিস্ট বাছাইয়ের খেলা। দল চারটি হলো ভারত, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও কোরিয়া। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ হওয়ার সুবাদে তারা সুপার ফোরে এলেও ঠিক একই ব্রাকেটে রাখা যাবে না চার দলকে। গ্রুপ ম্যাচের পারফরম্যান্সই আলাদা করে দিচ্ছে ভারত ও মালয়েশিয়াকে। সম্বোধন করা যায় টপ ফেভারিট বলেও। এখানে আসার আগেও ভারত চমৎকার খেলছিল, সেই ফর্ম ধরে রেখে তিনটি ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অনায়াসে। গ্রুপে পাকিস্তান থাকলেও ঠিক পরাশক্তির চেহারা নেই। স্টিক-ওয়ার্কের বিলাসী শিল্প বাদ দিয়ে ইউরোপের নির‌্যাস নিয়ে ভারতীয় হকির নতুন সাজ দেখেছে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়াম। আগের সেই ড্রিবল নেই, গতি ও শক্তি ভর করেছে তাদের খেলায়। ফুটবলের মতো সে কী ঝোড়ো কাউন্টার অ্যাটাক। নিজেদের প্রান্ত থেকে হঠাৎ এক লং বল দেখে ডিফেন্সের ‘ক্লিয়ার’ মনে হতে হয়েছিল; কিন্তু সেটি জালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পোস্টের পাশে যে আরেকজন অপেক্ষা করছে। তাদের খেলা হয়ে গেছে ছকে বাঁধা ইউরোপিয়ান স্টাইলে। তাতে ভারতের খেলার যেমন রং বদল হয়েছে তেমনি সাফল্যমুখীও হয়েছে।

চমকে দেওয়া ঘটনা হলো মালয়েশিয়ার উত্থান। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কোরিয়াকে হারিয়ে তারা হয়েছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জনারণ্যে মিলিয়ে যাওয়া মালয়েশিয়ার শিরোপার দাবিটা চলে এসেছে সামনে। আসলে ভারত-পাকিস্তান-চীনের উপস্থিতিতে তারা গুরুত্বহীন ছিল সে সময়। মাঠের খেলা শুরু হতেই জায়গা বদল হয়ে গেছে। দুর্দান্ত খেলে মালয়েশিয়া গ্রুপের সবকটি ম্যাচ জিতে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে নিজেদের। তাদের ডাচ কোচও মালয়েশিয়ান হকির মান উত্তরণের কথা বলেছেন, ‘আগের দলগুলোর চেয়ে এই দলের খেলায় গতি বেশি। কম্বিনেশন-পাসিং ভালো, এই পারফরম্যান্স দিয়েই মালয়েশিয়া বিশ্বকাপ হকির টিকিট পেয়েছে। মালয়েশিয়ার হকি এখন এশিয়ার চূড়ায় ওঠার স্বপ্ন দেখছে।’

আর এশিয়া কাপের সর্বোচ্চ চার শিরোপাজয়ী কোরিয়া আছে বড় বেহাল অবস্থায়। পড়তি ফর্ম নিয়েই এখানে এসেছে। ফর্মে ফেরার প্রতিজ্ঞা থাকলেও সুবিধা করতে পারছে না। ঢাকার গরমে কোরিয়ানদের কাহিল অবস্থা। অথচ এশিয়া কাপ তাদের খুব দরকার। এই টুর্নামেন্ট জিতলেই তাদের বিশ্বকাপ হকির রাস্তা খুলে যাবে। সুপার ফোরে তারা আরেকটি সুযোগ পাচ্ছে ঢাকার কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজেদের মেলে ধরার। পাকিস্তানের অবস্থা আরো খারাপ। গ্রুপে একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দলের বিপক্ষে ছড়ি ঘোরাতে পারেনি। প্রথম ম্যাচ ছিল বলেই কিনা বুঝে ওঠার আগেই ৭ গোল খেয়ে বসে স্বাগতিকরা। তাদের শেষ করে দিয়েছে ওই পরাশক্তির নামের ভয়টাই। নইলে এই পাকিস্তানের তূণে এত অনায়েসে জেতার মতো কোনো অস্ত্র নেই। পরের ম্যাচগুলোতে সেটা স্পষ্টও। জাপানের বিপক্ষেও তারা দাপট দেখাতে পারেনি। সেই ড্র ম্যাচের পর ভারতের কাছেও হেরেছে ১-৩ গোলে। জুনের ওয়ার্ল্ড হকি লিগে বড় ব্যবধানে লজ্জাকর দুই হারের পর এটা টানা তৃতীয় হারের ঘটনা। তাদের অধিনায়ক মোহাম্মদ ইরফান অবশ্য ভারতের ম্যাচে ‘তুলনামূলক ভালো খেলা’ এবং লড়াইয়ের ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে নিয়ে সুপার ফোর থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন।

হ্যাঁ, ধারা বদলের সামর্থ্য আছে বড় দলের। বদলে দিতে পারে পূর্বানুমিত সব অঙ্ক। তাই পাকিস্তান ও কোরিয়া নতুন চেহারায় ফিরলে জমে উঠবে সুপার ফোরের লড়াই। এর আগ পর্যন্ত এগিয়ে থাকবে ভারত ও মালয়েশিয়া।



মন্তব্য