kalerkantho


ইতালির জাতীয় দলে বাংলাদেশের ক্রিকেটার

ইফতেখার রাজীব, ইতালি থেকে   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ইতালির জাতীয় দলে বাংলাদেশের ক্রিকেটার

তখন তাঁর চোখের তারায় খেলা করত স্বপ্ন। রাকিবুল হাসানের বিশ্বাস ছিল, একদিন লাল-সবুজ জার্সিটা উঠবে তাঁর গায়েও। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের মতো তিনিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করবেন বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার স্বপ্নটা তাঁর পূরণ হয়েছে ঠিকই, তবে বাংলাদেশের নয়; ইতালির হয়ে। লাল-সবুজের বদলে ইতালির তেরঙ্গা আঁকা জার্সিতেই ক্রিকেট খেলেন প্রবাসে পাড়ি জমানো রাকিব। প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে তিনি ঠাঁই করে নিয়েছেন ইতালির ক্রিকেট দলে।

পিত্জা, পাস্তার দেশে ক্রিকেট কিন্তু নতুন অতিথি নয়। অবাক করা তথ্য হচ্ছে, ইতালির তো বটেই বিশ্বেরই অন্যতম সাফল্যমণ্ডিত ফুটবল ক্লাব এসি মিলান কিন্তু যাত্রা শুরু করেছিল ক্রিকেট ক্লাব হিসেবে! সিরি এ-র আলোচিত আরেক দল জেনোয়াও ছিল ক্রিকেটের ক্লাব। নানা কারণে ক্রিকেট ঠিক জনপ্রিয় খেলা হিসেবে জায়গা করে নিতে পারেনি ইতালিতে। তবে আশির দশকের গোড়ার দিক থেকে ছোট আকারে ক্রিকেটের চর্চা শুরু হয় সেখানে। এখন আইসিসির ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগ, বিশ্ব টি-টোয়েন্টির বাছাই পর্ব ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপসহ বেশ কিছু আয়োজনে খেলছে ইতালি, তবে দলে স্থানীয়দের চেয়ে অভিবাসীরাই সংখ্যায় বেশি। পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কা থেকে ভাগ্যান্বেষণে ইতালি যাওয়া অনেকেই ক্রিকেটের চর্চা চালিয়ে গেছেন বিদেশ বিভুঁইয়ে, ইতালি দলে তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের ভিড়েও নিজের জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের রাকিব।

একটা সময় সৌম্য সরকার, মমিনুল হক, এনামুল হক, তাইজুল ইসলাম, আবুল হোসেনদের সঙ্গে একই দলে ছিলেন রাকিব। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের জন্য ৩০ জনের স্কোয়াডে ছিলেন। জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে, ছয় বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত রাকিব নিয়েছিলেন ৪০ উইকেট। হয়েছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। এখান থেকেই হতে পারত স্বপ্নের উড়ান! কিন্তু দুর্ভাগ্য, তাঁকে ধরতে হয়েছিল ইতালির ‘ওয়ান ওয়ে’ টিকিট।

ইতালিতে অবস্থানের বৈধ কাগজপত্রও ছিল না তাঁর কাছে। তাইতো নিজে থেকেই দিয়েছিলেন পুলিশের কাছে ধরাও। বয়স সতেরোর নিচে হওয়াতে ইমিগ্রেশন পুলিশই তাঁর অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। এত ঝঞ্ঝাটের মধ্যেও ক্রিকেট থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেননি রাকিব। নাম লিখিয়েছিলেন বোলোনিয়া ক্রিকেট ক্লাবে। সেখানে তিন বছর খেলার পর ডাক আসে পিয়ানর ক্রিকেট ক্লাব থেকে। এখন থিতু হয়েছেন সেখানেই। সারা দিনের কাজ শেষে যতটুকু সময় পান, এর বেশির ভাগটাই কাটে অনুশীলনে, ‘আমি পরিবারের বড় ছেলে। বাবা মারা যাওয়াতে সব দেখভাল করতে হয় আমাকেই। তাইতো আগে কাজ, পরে অনুশীলন। একটু কষ্ট হয় ঠিকই। কিন্তু নিজেকে মানিয়ে নিতে শিখেছি।’ ইতালির হয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন রাকিব। এগিয়ে যেতে চান আরো, ‘আইসিসির ওয়ার্ল্ড লিগের পঞ্চম বিভাগ থেকে থেকে চতুর্থ বিভাগে যাওয়ার জন্য আমাদের বাছাই পর্বে খেলতে হয়েছিল। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচে আমরা ভালো খেলেও সেমিফাইনালে গিয়ে হেরে যাই। সামনে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ আছে, আশা করছি সেখানে ভালো কিছু করতে পারব।’

বাংলাদেশের পক্ষে না হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলা তো হচ্ছে! বাস্তবতার কাছে হার মেনে দেশ ছেড়ে যাওয়া রাকিবের কাছে তাই শত অপ্রাপ্তির ভিড়ে এটাই অনেক বড় পাওয়া।



মন্তব্য