kalerkantho


সেই হার ভুলে নবযাত্রা পিএসজির

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সেই হার ভুলে নবযাত্রা পিএসজির

ন্যু ক্যাম্পের ভূত নিশ্চয়ই তাড়া করে বেড়াবে উনাই এমেরিকে। চ্যাম্পিয়নস লিগের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ‘কামব্যাক’-এর ইতিহাসে আছে প্যারিস সেন্ত জার্মেইর নাম, তবে সেটা জয়ী দল হিসেবে নয়।

পার্ক দ্যু প্রিন্সেসে ৪-০ গোলে জেতার পর ন্যু ক্যাম্পে গিয়ে একটা গোল করেও শেষ পর্যন্ত ৬-৫ গোলে হেরে আসাটাই যে ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগে প্যারিসবাসীর সবশেষ স্মৃতি! সেই অবিশ্বাস্য জয়ের কারিগর নেইমারকে তারা এই মৌসুমে দলে নিয়েছে অবিশ্বাস্য অঙ্কে। সঙ্গে মোনাকোর তরুণ তুর্কি কিলিয়ান এমবাপ্পেকেও। ফ্রেঞ্চ লিগে পাঁচে পাঁচ করেই সেল্টিকের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমে মাঠে নেমেছিল প্যারিসবাসীরা। শুরুতেই ৫-০ গোলের বড় জয়ে আপাতত সেই হারের ভূত কিছুটা হলেও মাথা থেকে তাড়িয়েছেন এমেরি, তবে এত তারকাখচিত দল যে স্রেফ ফ্রেঞ্চ লিগ জয়ের জন্য নয় সেই উচ্চাশা তো স্পষ্টই। ‘এমএনসি’কে নিয়ে পিএসজির স্বপ্ন ইউরোপ সেরা হবার, সেল্টিকের মাঠে সেই স্বপ্নের পথেই প্রথম পদক্ষেপ।

এমন নয় যে সেল্টিক একেবারেই দুর্বল প্রতিপক্ষ। স্কটিশ লিগে ২০১১-১২ মৌসুম থেকে তারা টানা ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন। ইউরোপিয়ান কাপ জেতারও রেকর্ড আছে। দলে ভালো ফুটবলারও আছে আর কোচ ব্রেন্ডন রজার্সও প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুল, সোয়ানসির মতো দলকে কোচিং করিয়েছেন।

প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ হিসেবে সেল্টিক তাই সমীহ জাগানোর মতোই। কিন্তু গ্যালারি ভরা সমর্থকদের সামনে তাদের উচ্ছ্বাস স্তব্ধ করে দিয়েছেন ‘এমএনসি’ ত্রয়ী। প্রথম গোলটা নেইমারের, এরপর এমবাপ্পে, তারপর কাভানির জোড়া গোল। ‘লা পারিসিয়ান’ পত্রিকা এই ত্রিমূর্তির ছবি ছেপে প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘তারা একটা বার্তা দিয়ে রাখল। তাদের পারফরম্যান্স ছিল আতশবাজির মতো। ’ বলের দখলের ৬০ শতাংশ ছিল পিএসজির পায়ে, গোলমুখী আক্রমণ ছিল ১০টি, যার ছয়টিই ছিল সঠিক নিশানায় আর গোল হয়েছে পাঁচটি। এতেই বোঝা যাচ্ছে, কতটা নিখুঁত ছিল এমেরির কৌশল। পিএসজির ফুটবলারদের বেশির ভাগেরই পাস গেছে সঠিক নিশানায়, ফাউলও তারা করেছে কম। সব মিলিয়ে দুর্দান্ত শুরু। এমন ম্যাচের পর এমেরি বলছেন, ‘সেল্টিক অনেক সমর্থন পেয়েছে, তাদের বিপক্ষে আমার দল দারুণ দেখিয়েছে। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমরা নিতে চেয়েছিলাম আর তা-ই হয়েছে। আমি খুবই খুশি। ’ ম্যাচ শেষে মাঠেই টিভি ক্যামেরার সামনে নেইমারও বলে গেছেন নিজের সন্তুষ্টির কথা, ‘খুবই খুশি। চমৎকার একটা ম্যাচ খেললাম আর  দলের জন্য খুব ভালো লাগছে। গুরুত্বপূর্ণ একটা জয় পেলাম। ’ এমবাপ্পের সঙ্গে খেলা নিয়ে নেইমারের মন্তব্য, ‘গ্রেট ফুটবলারদের সঙ্গে খেলাটা সব সময়ই আনন্দ দেয়। যদিও সে এখনো তরুণ, আমার কাছে তো সে খুবই উঁচুমানের ফুটবলার আর তার আরো বিকশিত হওয়ার সুযোগ আছে। ’

পরের ম্যাচটি নিজ মাঠে, বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে। তাতে আরো স্পষ্ট বোঝা যাবে, ইউরোপ সেরা হওয়ার দৌড়ে ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে পিএসজি। মোনালিসা, ল্যুভ জাদুঘর আর আইফেল টাওয়ারের আকর্ষণে ইউরোপে সবচেয়ে বেশি পর্যটক টানে প্যারিস। নতুন শক্তিতে প্যারিসবাসীরা ফুটবল মানচিত্রেও জায়গা খুঁজছে শীর্ষ মহলে, সেটা কতটা বাস্তব আর কতটা কল্পনা তার আঁচ পাওয়া যাবে প্রথাগত ইউরোপিয়ান পাওয়ারহাউস বায়ার্নের বিপক্ষে লড়াইটা দেখেই। উয়েফা


মন্তব্য