kalerkantho


জাদুর রাতে অসম্ভব যেভাবে সম্ভব

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জাদুর রাতে অসম্ভব যেভাবে সম্ভব

সের্গি রবার্তোকে ঘিরে যখন নেইমার-সুয়ারেসরা উল্লাস করছেন, লিওনেল মেসি তখন হাঁটলেন উল্টো দিকে। গ্যালারিতে দর্শকদের সামনে দুহাত মেলে দাঁড়ালেন ফুটবল জাদুকর, যেন এই মাত্র মঞ্চে দেখিয়েছেন নিজের সর্বশ্রেষ্ঠ ইন্দ্রজাল।

আসলেই তো তাই! ইতিহাসের বিরুদ্ধে গিয়ে, পরিসংখ্যানের বিপরীতে গিয়ে, অসম্ভবকে সম্ভব বানিয়ে ৬-১ গোলে প্যারিস সেন্ত জার্মেইকে হারিয়ে দেওয়াটা তো ফুটবলের ইন্দ্রজালই।

ফ্রিকিকে দুরূহ কোণ থেকে গোল, কঠিন সময়ে পেনাল্টিতে মাথা ঠাণ্ডা রেখে গোল এবং সবশেষে জয়সূচক গোলের ঠিকানা লেখা পাস—এই সবই করেছেন নেইমার। সেটাও ম্যাচের শেষ ৭ মিনিটে। যখন সবাই ধরে নিয়েছিল, সকলই ফুরায়ে গেল! এমন অতিমানবীয় কীর্তির পর এই ব্রাজিলিয়ান বলছেন, ‘জীবনের সেরা ম্যাচটি খেললাম। আমরা জানি, এই দলটা যেকোনো কিছু করতে পারে, যেকোনো ব্যবধান ঘুচিয়ে দিতে পারে। ’ জানালেন, মাঝের দুটি সপ্তাহেই ধীরে ধীরে জোগাড় করেছেন জয়ের রসদ, ‘প্রথম একটি সপ্তাহ কেটেছিল দুঃস্বপ্নের ঘোরে, এরপর আমরা মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি এবং দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আমরা মুখিয়ে ছিলাম পরের লেগটা খেলার জন্য। ’ লুই এনরিকে জানতেন, চ্যাম্পিয়নস লিগে টিকে থাকতে হলে ন্যু ক্যাম্পে বেশি বেশি গোল করতে হবে। তাই তো শিষ্যদের প্রস্তুতিটা সেরে রাখেন লিগে স্পোর্তিং গিজন আর সেল্তা ভিগোর সঙ্গে ৬-১ আর ৫-০ গোলে জিতে। ফিরতি লেগে কিক অফের পর থেকেই তাই গোলের সুযোগে মরিয়া কাতালানরা।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই পিএসজি ডিফেন্সের অসতর্কতার সুযোগে হেডে সুয়ারেসের গোল। আরো গোলের চেষ্টায় নেইমার, মেসি দূর থেকে শট নিয়েছেন গোলে, ফ্রিকিকেও চেষ্টা ছিল গোলের। কিন্তু ব্যবধান যেন কমছিল না। অন্যদিকে পিএসজির ফরোয়ার্ডরাও যেন আক্রমণে আগ্রহী নন, হয়তো ভেবেছিলেন, অল্প ব্যবধানের হার নিয়েও দুই লেগ মিলিয়ে উতরে যাবে তাঁর দল। কিন্তু মেসিদের মাথায় যে ছিল ইতিহাস গড়ার ভাবনা।

৪০তম মিনিটে কুরাযাওয়ার আত্মঘাতী গোলে স্কোরলাইন হয় ২-০, বিরতির পর মিনিট পাঁচেকের মাথাতেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন মেসি। থমাস ম্যুনিয়ের পা হড়কে পড়লেন ডি বক্সে, তাঁর গায়ে লেগে পড়ে গেলেন নেইমারও। স্পটকিকে মেসি ৩-০ করে ফেলার পর গর্জন করে ওঠে ন্যু ক্যাম্পের নীল-মেরুন সমুদ্র! স্বপ্ন যে এখন হাতছোঁয়া দূরত্বে। এমন সময় দারুণ ভলি থেকে এদিনসন কাভানির গোল কঠিন করে তোলে সমীকরণ। প্রতিপক্ষের মাঠে পিএসজির গোল করার সুবাদে জিততে হলে বার্সাকে করতে হবে ৬ গোল। আশার বেলুনটা সেখানেই গেল চুপসে। ফেসবুক বলছে, এমন সময়ে অনেকেই বন্ধ করে দিয়েছিলেন টিভি!

৮৮ মিনিটে পিএসজির ডি বক্সের ধার ঘেঁষে যখন ফ্রিকিকটা পেল বার্সেলোনা, তখনো আশায় বুক বাঁধার মতো খুব বেশি কেউ ছিলেন না। নেইমারের ফ্রিকিকটা জালে জড়ানোর পরও সমর্থক তো দূরের কথা, বার্সার খেলোয়াড়দের মধ্যেও খুব বেশি আনন্দের প্রতিক্রিয়া নেই। কারণ তখনো যে দুটি গোল লাগে! ৯০তম মিনিটে সুয়ারেসকে বক্সের ভেতর ফাউল করায় ফের পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা, স্পটকিকে ৫-১ করে ফেলেন নেইমার। সেই নেইমারের বাড়ানো বলেই  জটলা থেকে সামনে এগিয়ে পায়ের আলতো ছোঁয়ায় বলটাই জালে পাঠিয়ে দেন সের্গি রবার্তো। তাতেই সমাধান জটিলতম সমীকরণের, সর্বকালের সেরা কামব্যাকের ইতিহাস গড়ে বার্সেলোনা পৌঁছে যায় চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে। উয়েফা


মন্তব্য