kalerkantho


‘নতুন ক্ষুধা’ই এখনো চালিয়ে নিচ্ছে তুষারকে

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘নতুন ক্ষুধা’ই এখনো চালিয়ে নিচ্ছে তুষারকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : জাতীয় দলে হারানো জায়গাটা ফিরে পান বা না পান, রান করলে শাহরিয়ার নাফীস-নাঈম ইসলামরা এখনো খবর হন। ঘরোয়া আসরে নিয়মিত রান করার পুরস্কার হিসেবে তাঁদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফেরার সুযোগ না হলেও আলোচনা হয়।

সুবিচার হয়নি বলে মন্তব্যের ঝড়ও ওঠে কখনো কখনো। অথচ আরেকজনকে ঘিরে এসবের কিছুই হয় না। তবু সেই নিয়তি মেনেই নীরবে রান করে চলেছেন তুষার ইমরান।

যাঁর টেস্ট অভিষেক নাফীসের তিন বছর দুই মাস আগে। নাঈম নিজের অভিষেক টেস্ট খেলেছেন তুষারের ছয় বছর দুই মাস পর। আগে খেললেও আর সব ক্ষেত্রেই অবশ্য ওই দুজনের চেয়ে পিছিয়ে তুষার। নাফীস খেলেছেন ২৪ টেস্ট আর নাঈম ৮টি। নাঈমের অভিষেকের বছরখানেক আগেই তুষারের থেমে যাওয়া পাঁচ টেস্টের ক্যারিয়ার আর কখনোই সচল হয়নি। এই না হওয়ার দায়টা নিজের কাঁধে নিতেও দ্বিধা নেই গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) বিসিবি উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে নিজের ২২তম ফার্স্ট ক্লাস সেঞ্চুরি করা তুষারের, ‘বলতে পারেন নিজের টেস্ট (৮.৯০) এবং ওয়ানডে (৪১ ম্যাচে ১৪.৩৫) গড়ই সর্বনাশটা করে রেখেছে আমার।

ক্যারিয়ারের শুরুতে ভালো কিছু ইনিংস খেলে রাখলে হয়তো আমি এতটা পেছনে পড়ে যেতাম না। নাফীস ও নাঈমরা আবার সেরকম বেশ কিছু ইনিংসই খেলে রেখেছে। ’

তাই ওই দুজন ঘরোয়া আসরে সেঞ্চুরি করলে অনেকেই সরব হলেও তুষারের ক্ষেত্রে সবাই নীরব। আর নীরবেই তিনি যে কখন রানের চূড়ায় উঠে বসে আছেন, সেটি নিয়েও হইচই নেই। ফার্স্ট ক্লাস সেঞ্চুরি সংখ্যায় আগে থেকেই সবার ওপরে ছিলেন তিনি, শীর্ষে ছিলেন রানের দিক থেকেও। গতকাল বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে নিজেকে ছাড়িয়েই তুলে নিলেন অন্য উচ্চতায়। উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে ম্যাচটি শুরুই করেছিলেন প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ৯ হাজার ফার্স্ট ক্লাস রানের মাইলফলক থেকে মাত্র ১৪ রান পেছনে থেকে। সেটি তো পেরিয়ে গেলেনই, এমন উপলক্ষ স্মরণীয় করে রাখতেই কিনা বিসিএলের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচের প্রথম দিন শেষেও তুষার অপরাজিত ১২৭ রানে। যে সেঞ্চুরিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে ভাবলেও ভুলই হবে। কারণ সবশেষ জাতীয় ক্রিকেট লিগেও যথারীতি ঝলসে গেছে খুলনার এই ব্যাটসম্যানের ব্যাট। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতেই আসরে খুলনার শেষ তিন ম্যাচের তিনটিতেই করেছিলেন সেঞ্চুরি। বরিশাল, ঢাকা বিভাগ ও ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে তাঁর সেই ইনিংস তিনটি ছিল এরকম—১০৮, ১৪১ ও ১৩৮! এর মাসখানেকের মধ্যেই শুরু হয়ে যাওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ফার্স্ট ক্লাস আসর বিসিএলেও হাসছে তাঁর ব্যাট। কালই আসরে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন, তার মানে এই নয় যে আগের তিন রাউন্ডে নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি। তিন ম্যাচে তাঁর চারটি ইনিংস ছিল এরকম—৪৭, ৬২, ৮১ এবং ৪৪।

ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ে সবশেষে জাতীয় লিগে ৬ ম্যাচের ৭ ইনিংসে ৮৬.৩৩ গড়ে করেছিলেন ৫১৮ রান। প্রায় ৩৪ বছর বয়সে ঘরোয়া আসরে এমন নিয়মিত রান করে যাওয়ার অনুপ্রেরণা আসছে কোত্থেকে? তুষার জানালেন সেটি আসছে তাঁর ভেতরে তৈরি হওয়া ক্ষুধা থেকেই, ‘আমার মধ্যে নতুন এক ক্ষুধা জেগেছে। ক্ষুধাটা হলো ঘরোয়া আসরে জাতীয় দলের কেউ খেলুক বা না খেলুক, আমি যেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হতে পারি। চিন্তা থাকে টুর্নামেন্টেরই সেরা হওয়ার। তা না পারলেও চেষ্টা থাকে নিজের দলের সেরা ব্যাটসম্যান যেন আমি হই। বলতে পারেন সেই ক্ষুধাই আমাকে এখনো চালিয়ে নিচ্ছে। ’ শুধু চালিয়ে নিচ্ছে বললে ভুলই হবে, ব্যাট হাতে রানক্ষুধা মেটাতে থাকা তুষারকে বেশ ভালোই চালিয়ে নিচ্ছে।


মন্তব্য