kalerkantho


চেনা রিয়াল আর পুরনো আর্সেনাল

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



চেনা রিয়াল আর পুরনো আর্সেনাল

ম্যাচের ৮ মিনিট গড়াতেই লরেঞ্জো ইনসাইনের গোলে হতভম্ব রিয়াল মাদ্রিদ। আগের রাতে বার্সেলোনার স্তব্ধভাব আর কাটেনি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালও না কোন নাটকীয়তার শিকার হয়! নাহ্, তেমন কিছু হয়নি। রিয়াল খেলেছে রিয়ালের মতোই। পিছিয়ে পড়ে নাপোলির বিপক্ষে জিতেছে ৩-১ গোলে।

চ্যাম্পিয়নস লিগে সাম্প্রতিক সময়ে বার্সা-পিএসজির দ্বৈরথ যেমন ছিল, তেমনি বায়ার্ন-আর্সেনালের। বারবার হারছিলই গানাররা। পিএসজি হিসাব-নিকাশ বদলে দেওয়ার পর আর্সেনালও কোথায় ভিন্ন কিছু করে দেখাবে, তা না, উল্টো এদিনও হেরেছে ৫-১ গোলে। ঠিক একই ব্যবধানে গত বছর গ্রুপ পর্বেও হেরেছিল আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল। রিয়াল-নাপোলির সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। সে ম্যাচে দর্শকশূন্য বার্নাব্যুতে খেলা ডিয়েগো ম্যারাডোনা পরশু রাতে ভরা গ্যালারির এক কোণে নিশ্চুপ হয়ে বসে ছিলেন। তাঁর নাপোলি স্বাগতিকদের একের পর এক আক্রমণের কোনো জবাবই যে দিতে পারছিল না। কেইয়ালর নাভাসকে এগিয়ে থাকতে দেখে ৩৫ গজ দূর থেকে করা ইনসাইনের গোলটাই ম্যাচে তাদের একমাত্র আনন্দের উপলক্ষ। এর পরের পুরোটা সময়ে রিয়ালেরই আধিপত্য। ইনসাইন নাপোলিকে এগিয়ে দেওয়ারও আগে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই করিম বেনজিমাকে গোলের সুযোগ করে দিয়েছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, কিন্তু বেনজিমার শট ফাঁকি দিতে পারেনি পেপে রেইনাকে। পরে দানি কারভাহালের মুগ্ধ করা এক ক্রসে বেনজিমাই লস ব্লাংকোদের সমতায় ফিরিয়েছেন ১৮ মিনিটে। দ্বিতীয়ার্ধে আবারও সহায়তাকারীর ভূমিকায় রোনালদো। এবার প্রায় গোললাইনের কাছ থেকে তাঁর কাট ব্যাক, বক্সের ওপর থেকে গড়ানো শটে তা জালে পাঠিয়েছেন টনি ক্রোস। বেনজিমা সমতা ফেরানোর পর থেকেই ম্যাচের নাটাই রিয়ালের হাতে, ২-১ হয়ে যাওয়ার পর সেটি আরো পোক্ত । ৫৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ক্যাসেমিরোর ভলিতে করা গোলটি ফুটবল-পিপাসুদের জন্য ম্যাচে বাড়তি প্রাপ্তি। নেপলসে দ্বিতীয় লেগের কথা মাথায় রাখলে রিয়ালের জন্যও ব্যবধানটা স্বস্তির।

অ্যালিয়েঞ্জ এরেনায় ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি পেয়েছিল আর্সেনাল। অ্যালেক্সিস সানচেস সেই সুযোগ নষ্ট করলে ১১ মিনিটে আরিয়েন রবেনের ২৫ গজি শটে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। প্রথমার্ধে সেই গোল শোধ করেন সানচেসই। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে চোট পেয়ে ডিফেন্ডার লরা কসিয়েলনি বেরিয়ে যাওয়ার মিনিট পাঁচেক পর থেকে পরের দশ মিনিটেই গানারদের পরিণতি লেখা হয়ে যায়। ৫৩ মিনিটে ২-১ করেন রবার্ত লেভানদোস্কি, ৫৬ ও ৬৩ মিনিটে জোড়া গোল থিয়াগো আলকান্তারার। ৮৬ মিনিটে লেভানদোস্কির বদলি নেমে টমাস ম্যুলারও নাম তোলেন গোলের খাতায়। এ নিয়ে টানা সপ্তমবারের মত চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় এখন ইংলিশ ক্লাবটি। এএফপি


মন্তব্য