kalerkantho


মিরাজের অন্য অভিজ্ঞতা এবং নিউজিল্যান্ড স্মৃতি

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মিরাজের অন্য অভিজ্ঞতা এবং নিউজিল্যান্ড স্মৃতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ছোট্ট টেস্ট ক্যারিয়ারে মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ, দুটিই দেখা হয়ে গেল মেহেদী হাসান মিরাজের। গত অক্টোবরে মিরপুরে তাঁর দ্বিতীয় টেস্টেই বনে গিয়েছিলেন টেস্টে ইংল্যান্ডকে হারানোর নায়ক।

দুই টেস্টের ওই অভিষেক সিরিজে তরুণ এই অফস্পিনার ১৯ উইকেট নিয়ে পেয়েছিলেন সিরিজ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও। সাফল্যের ফুলে ফুলে সুশোভিত বাগান দেখা তরুণ এবার হায়দরাবাদে দেখলেন খরা-প্লাবনের ফসলি জমিও। যেখানে ৪২ ওভার বোলিং করে একটিও মেডেন নেই তাঁর। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৬৫ রান খরচায় ২ উইকেট নেওয়া মিরাজকে এবার মুখোমুখি হতে হলো টেস্ট ক্রিকেটের কঠিন বাস্তবতারও।

তাঁর অভিষেক সিরিজ আর এই হায়দরাবাদ টেস্টের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে গতকাল দ্বিতীয় দিনশেষে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে আসা এ অফস্পিনার বলছিলেন, ‘আমার অভিষেক টেস্টটি ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। যারা কিনা টার্নিং উইকেটে খেলে অভ্যস্ত নয়। ভারত আবার এই ধরনের উইকেটে খেলে অভ্যস্ত। যদিও এখানে উইকেট এখনো সেভাবে স্পিন সহায়ক নয়। টার্নিং উইকেটে কিছু বাজে বল দিলেও বাঁচা যায়।

কিন্তু এ ধরনের উইকেটে পুরো সময়ই আঁটোসাঁটো বোলিং করে যেতে হয়। ’ বোলারদের ব্যর্থতায় ভারত রান পাহাড় গড়লেও মিরাজ বিচলিত হতে চাইলেন না এ জন্য, ‘নিউজিল্যান্ডে তো আমরাও ৫৯৬ করেছি। আমাদের তাই আত্মবিশ্বাস আছে। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা রান করলে বড় স্কোর গড়া সম্ভব আমাদের পক্ষেও। ’

অবশ্য ক্যারিয়ারের প্রতিটি দিনই যে ইংল্যান্ড সিরিজের মতো যাবে না, সেই মানসিক প্রস্তুতিও সম্ভবত আগে থেকেই নেওয়া ছিল মিরাজের। সে জন্যই হয়তো তাঁর প্রতিক্রিয়া একদম ভড়কে যাওয়া নয়, ‘চাপ সব সময়ই থাকে। প্রত্যাশাও অনেক বেশি থাকে। তবে সব সময়ই প্রত্যাশা পূরণ করা যায় না। আরো দু-একটি উইকেট পেলে ভালো হতো। কিন্তু সব দিন তো আর এক রকম যাবে না। চেষ্টা করব ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু করতে। ’ এই টেস্টে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষে ভালো কিছু না হওয়ার কারণ কিন্তু বোলাররাই। তাঁদের বাজে ও নির্বিষ বোলিংয়ের সঙ্গে স্টাম্পিং ও ক্যাচ মিস যোগ হয়ে ভারতের প্রথম ইনিংস এমন জায়গায় চলে গেছে যে বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরা কঠিনই। যদিও মিরাজ মানতে রাজি নন যে তাঁর বোলিং খুব খারাপ হয়েছে। তাঁর নিজের বক্তব্যটা এরকম, ‘আমার মনে হয় বোলিং খুব বেশি খারাপ হয়নি। মাঝে মাঝে একটু শর্ট বল হয়েছে কিন্তু সব মিলিয়ে ঠিক আছে। ’ সেই সঙ্গে তিনি আরো যোগ করেছেন, ‘ওরা র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল। ওদের দলে খুব ভালো ব্যাটসম্যানও আছেন। আমি ভালো জায়গায় বোলিং করারই চেষ্টা করে গেছি। ওরা ভালো বলগুলোও যেমন খেলেছে, তেমনি খারাপগুলোতে বাউন্ডারিও হয়েছে। ’

দ্বিতীয় দিন শেষ হয়ে গেলেও হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামের উইকেটে এখনো সেভাবে টার্নের দেখা মেলেনি। মিরাজের বিশ্বাস বল টার্ন করলে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদেরও খেলতে সমস্যা হতো, ‘ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা স্পিনে খুব ভালো ব্যাটিং করে। ফ্ল্যাট উইকেটে তো আরো ভালো ব্যাটিং করে। টার্নিং উইকেটে খেললে হয়তো একটু কষ্ট হবে। আজকে (গতকাল) মাঝে মাঝে যখন বল টার্ন করছিল, তখন কিন্তু ওদের সমস্যাই হচ্ছিল। ’ ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বিশেষ করে বিরাট কোহলির বিপক্ষে বোলিংকে নিজের জন্য অমূল্য অভিজ্ঞতা বলেও ধরছেন মিরাজ। দেশের মাটিতে অভিষেক সিরিজে অ্যালিস্টার কুক ও জো রুটদের বিপক্ষে বোলিং করে সফল হওয়া এ অফস্পিনার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধ কন্ডিশনেও খেলে এসেছেন। সেখানে রস টেলর ও কেন উইলিয়ামসনদের বিপক্ষে বোলিংয়ের পর এবার তাঁর সামনে র্যাংকিংয়ের এক নম্বর দলের লম্বা ব্যাটিং লাইন। কোহলির বিপক্ষে বোলিংটা তাঁর কাছে আলাদাই হয়ে থাকছে। এটিকে তিনি দেখছেন শেখার সুযোগ হিসেবেও, ‘সামনে থেকে কোহলির ব্যাটিং দেখা আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। আগে টেলিভিশনে দেখেছি, এখন দেখছি সামনে থেকে। তাঁর বিপক্ষে খেলছি এবং বোলিংও করছি। কিভাবে বোলিং করলে ভালো হবে, এখান থেকে সেটিও শেখার চেষ্টা করছি। ’ তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছেন মাস ছয়েকও হয়নি। এর মধ্যেই এই তরুণের চোখ নিজেকে সমৃদ্ধ করে নেওয়ার দিকে, ‘আমি অনেক বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে চাই। এখানে খেলার অভিজ্ঞতা আমার ক্যারিয়ারে যোগ হলে ভবিষ্যতে আমার জন্যই ভালো হবে। ’


মন্তব্য