kalerkantho


এবার টেস্টের কঠিন মঞ্চে

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



এবার টেস্টের কঠিন মঞ্চে

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফরম্যাটটা যখন ৫০ ওভারের, বাংলাদেশ তখন সমীহ জাগানিয়া শক্তি। পরাশক্তিদের হারিয়ে দেয় প্রায়ই; নিজেরা হারলেও লড়াই করে শেষ বিন্দু দিয়ে।

কিন্তু টেস্টে? অভিজাত আঙিনায় প্রবেশাধিকারের দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও পায়ের নিচের মাটি শক্ত করতে পারেনি এখনো।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া টেস্ট সিরিজে তাই নিজেদের নতুন করে চেনানোর উপলক্ষ মুশফিকুর রহিমের দলের।

মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের সামনে অমন দাবির ফর্দ ছিল না। তারা যে চেনা বামুন! ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠা শক্তি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সিরিজ জয়ের প্রত্যাশা তাই ছিল প্রবলভাবে। যদিও চট্টগ্রামে তৃতীয় ওয়ানডে হেরে সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে আবার সফরকারীদের হারিয়ে দেবে স্বাগতিকরা—এই আশায় তেমন কেউ বুক বাঁধছে না। তবে ব্যাটে-বলে লড়াইয়ে উন্নতির সোপান ডিঙানোর আশা বাড়াবাড়ি নয়।

সমস্যা হলো, প্রায় ১৪ মাস পর টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ।

হ্যাঁ, ইংল্যান্ডের ঠিক আগে আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ ছিল ওয়ানডেতে সাড়ে ১০ মাস বিরতিতে। মাঝের সময়টায় কেবলই টি-টোয়েন্টি খেলে কাটায়। ৫০ ও ২০ ওভারের ফরম্যাটের মেজাজ-মর্জিতে তবু না হয় মিল রয়েছে। পাঁচ দিনের ক্রিকেটের ধরন তো একেবারেই আলাদা। কাল সকালে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের অনুশীলনে কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে ও তাঁর কোচিং স্টাফের ব্যস্ততা ছিল অন্য রকম। তাতে মুশফিক-সাকিব-তামিমদের খেলার ধরন, মানসিকতা দীর্ঘ পরিসরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার তালিম। কিন্তু সপ্তাহখানেকের দীক্ষায় টেস্ট-দক্ষতা অর্জন যে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের, তা না বললেও চলছে।

২০১৫ সালের ৩০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটি হয়ে আছে বাংলাদেশের সর্বশেষ টেস্ট। পরের ১৪ মাসে পাঁচ দিনের ক্রিকেটের পথ আর মাড়ায়নি। এত দিনের অনভ্যস্ততায় পারফরম্যান্সে মরচে ধরার আশঙ্কা থাকছে। শঙ্কার আরেক জায়গা, ওয়ানডের চেয়ে টেস্ট স্কোয়াডের ভিন্নতা। ব্যাটিং-বোলিংয়ের বেশির ভাগ জায়গাতেই তো হবে পরিবর্তন।

ওপেনার হিসেবে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের জায়গা প্রশ্নাতীত। ওয়ানডেতেও ইদানীং ইনিংস শুরু করায় পরস্পরের বোঝাপড়া নিয়ে সমস্যা থাকার কথা নয়। ওয়ানডের তিন নম্বর জায়গাটি নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এখন তা সাব্বির রহমানের অধিকারে। টেস্টে সে জায়গা নেবেন মমিনুল হক। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান যে এখন রীতিমতো টেস্ট স্পেশালিস্ট! তাঁর ৫৬ গড়কে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ধরে রাখার দায় মমিনুলের। মিডল অর্ডারে মাহমুদ উল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান থাকছেন ওয়ানডের মতোই। এর মধ্যে মুশফিক শেষ ওয়ানডেতে ফিফটি করে দেন ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত। টেস্টে আবার তাঁর কাছে থাকছে অধিনায়কত্ব। সঙ্গে উইকেটকিপিং করবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশের খেলা সর্বশেষ তিন টেস্টে উইকেটের পেছনে ছিলেন লিটন কুমার দাশ। কিন্তু ফর্মের কারণে ছিটকে পড়েন তিনি জাতীয় দল থেকে।

টেস্ট বোলিং লাইনে থাকছেন না মাশরাফি বিন মর্তুজা। ইনজুরির কারণে যথারীতি নেই মুস্তাফিজুর রহমান। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলা মোহাম্মদ শহীদের ফিটনেস নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। তাসকিন আহমেদের টেস্ট অভিষেকের ব্যাপারে খানিকটা হলেও চিন্তাভাবনা রয়েছে নির্বাচকদের। রুবেল হোসেন, আল-আমিন হোসেনদের সামনে সুযোগ নিজেদের দাবি জানানোর। এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের অনুশীলন ম্যাচ দুটি শুধু ইংল্যান্ডের জন্য না, বাংলাদেশের এমন পেসারদের জন্যও বড় মঞ্চ। নিজেদের মেলে ধরার; প্রথম টেস্ট স্কোয়াডে নিজেদের অন্তর্ভুক্তির।

ওয়ানডের পেস বোলিং বিভাগের চেয়ে টেস্টেরটি যেমন ভিন্ন, স্পিন আক্রমণেও বলা যায় একই কথা। বাঁহাতি স্পিনার সাকিব আল হাসান এখানেও অধিনায়কের তুরুপের তাস। তাঁর সঙ্গী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আরেক বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওই সর্বশেষ টেস্টে খেলেননি তিনি। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই তরুণের দিকেই হয়তো ঝুঁকবে টিম ম্যানেজমেন্ট। সম্ভাবনা আছে অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসানেরও। কিন্তু সর্বশেষ টেস্টের একাদশে থাকা লেগ স্পিনার জুবায়ের আহমেদের সুযোগ নেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ঢাকার ওই ম্যাচে খেলা নাসির হোসেনও নেই এবার নির্বাচকদের পরিকল্পনায়।

চন্দিকা হাতুরাসিংহের কাজটি তাই সহজ নয়। আরো কঠিন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের দায়িত্ব। কোচ না হয় রণকৌশল সাজাবেন কিন্তু মাঠ থেকে দলকে যে নেতৃত্ব দিতে হবে তাঁকেই। আর দলটি ওয়ানডের চেয়ে অনেকটা ভিন্ন বলে বাংলাদেশের কাজও অনেক বেশি কঠিন।

 


মন্তব্য