kalerkantho


দেখছিলাম রক্তাক্ত মুসল্লিরা বেরিয়ে আসছেন : পাইলট

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ মার্চ, ২০১৯ ১৮:০৯



দেখছিলাম রক্তাক্ত মুসল্লিরা বেরিয়ে আসছেন : পাইলট

 

 

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভালের আল নূর মসজিদে খুব কাছের একটি মসজিদে আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা দেড়টায় গুলি বর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। অনুশীলন শেষ করে সে সময় ওই মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য যাচ্ছিলেন নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। কিন্তু স্থানীয়দের কাছ থেকে সন্ত্রাসী হামলার কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে মসজিদে না গিয়ে স্টেডিয়ামে ফিরে যান খেলোয়াড়রা। এতে অল্পের জন্য প্রাণ বাঁচে সবার।

এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৯ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। সন্ত্রাসীদের হামলা আর তিন-চার মিনিট পর হলেও বিপদে ঘনিয়ে আসতো বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের উপর। তাই ভাগ্যের কৃপায় বেঁচে যাওয়ায় নিজেদের ভাগ্যবান বলছেন বাংলাদেশের দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট। তিনি গণমাধ্যমের কাছে বর্ননা করেছেন সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।

জাতীয় দলের সাবেক এই তারকা পাইলট বলেন, 'এ ধরনের দুর্ঘটনা আমরা কেউই আশা করি না। কোনো দেশেই এমন ঘটনা যেন না ঘটে। আমরা সত্যিকার অর্থেই খুব ভাগ্যবান। বাসে আমরা ১৬-১৭ জন ছিলাম। ঘটনাস্থল থেকে আমরা ৫০ গজের মতো দূরে ছিলাম। আমরা ভাগ্যবান। আর ৩-৪ মিনিট আগেই যদি আমরা আসতাম, তাহলে হয়তো মসজিদের মধ্যে থাকতাম। তখন ভয়াবহ একটা ঘটনা ঘটে যেত। আমি শুকরিয়া আদায় করছি, আমরা খুব সৌভাগ্যবান বলেই বেঁচে গেছি।'

ওই সময় বাসে বসেই রক্তাক্ত মানুষদের মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতেও দেখেছেন সবাই, 'আমার মনে হচ্ছিল আমরা মুভি দেখছিলাম। বাসের মধ্যে থেকে দেখছিলাম, রক্তাক্ত অবস্থায় অনেকে বেরিয়ে আসছে। বেশ কিছু মানুষ বেরিয়ে আসতে পেরেছে। প্রায় ৮/১০ মিনিট আমরা বাসের মধ্যেই ছিলাম। ওখানে সবাই মাথা নিচু করে ছিল। যদি কোনো কারণে বাসে হামলা হয়, আমরা যেন বেঁচে যেতে পারি। অবশ্য পরে বাস থেকে বেরিয়ে এসেছি। কারণ সবার মনে হচ্ছিল সন্ত্রাসীরা বেরিয়ে এসে এলোপাতাড়ি গুলি করলে কেউই বাঁচব না।'

ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা দেখে খেলোয়াড়রা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বলেও জানান পাইলট, 'আমি খেলোয়াড়দের দেখেছি বাসের মধ্যে অনেকেই কান্নাকাটি করছিল। কী করা উ্চিত, কীভাবে কী করলে এখান থেকে বেরিয়ে আসা যাবে এসব নিয়েই চিন্তা করছিল সবাই।এটা খুবই কঠিন পরিস্থিতি। সবার ওপরেই মানসিক প্রভাব ফেলে। এটা খুবই স্বাভাবিক। এ অবস্থায় যে কোনো মানুষেরই ভেঙে পড়ার কথা।'



মন্তব্য