kalerkantho


বিশ্বকাপের একশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২০:০৭



বিশ্বকাপের একশ

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পুরুষ বিভাগের ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বাকি মাত্র একশ’ দিন। টুর্নামেন্টের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ক্রিকেট ভক্তদের উন্মাদনাও ততই বাড়ছে। ক্ষণ গণনার একশ দিন উপলক্ষ্যে আমরা বিশ্বকাপের শকগুলোর দিকে চোখ বুলাবো।

১৬৫ এবং গণনা

১৯৭৫ সালে পুরুষ বিভাগে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত মোট সেঞ্চুরি হয়েছে ১৬৫টি। আইসিসি বিশ্বকাপে এই ১৬৫টি সেঞ্চুরি করেছেন ১০৩ জন খেলোয়াড়।

সেঞ্চুরি কিং

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছয়টি সেঞ্চুরি করেছেন ভারতীয় লিটল মাস্টার শচিন টেন্ডুলকার। পাঁচটি করে সেঞ্চুরি হাকিয়ে টেন্ডুলকারের পরের অবস্থানে যৌথভাবে আছেন অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং এবং শ্রীলংকার কুমার সাঙ্গাকারা। বিশ্বকাপে চারটি করে সেঞ্চুরি করা পাঁচ খেলোয়াড় দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স, শ্রীলংকার তিলকরত্নে দিলশান-মাহেলা জয়াবর্ধনে, ভারতের সৌরভ গাঙ্গুলি এবং অস্ট্রেলিয়ার মার্ক ওয়াহ।

২০১৫ বিশ্বকাপ-সেঞ্চুরি উৎসব!

অন্য যে কোন আসরের চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি হয়েছে ২০১৫ বিশ্বকাপে। এ আসরে পর পর চার ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন শ্রীলংকার কুমার সাঙ্গাকারা। চার বছর আগের এ আসরে ৩৪টি সেঞ্চুরি হয়েছে। যা ২০১১ বিশ্বকাপের চেয়ে ১৪টি বেশি। পুরুষ বিশ্বকাপের প্রথম আসর ১৯৭৫ সালে সেঞ্চুরি হয়েছিল মোট ছয়টি। দ্বিতীয় আসর ১৯৭৯ সালে শত রানের ইনিংস ছিল দু’টি। এরপর ১৯৮৩ সালে ১১, ১৯৮৭ সালে ৮, ১৯৯২ সালে ১৬ এবং ১৯৯৬ সালে সেঞ্চুরি হয় ১৬টি। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে সেঞ্চুরি হয় ১১টি। ২০০৩ এবং ২০০৭ সালের সেঞ্চুরি সংখ্যা যথাক্রমে ২১ এবং ২০টি।

প্রথম সেঞ্চুরিয়ান

বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি করা খেলোয়াড় ইংল্যান্ডের ডেনিস এ্যামিস এবং নিউজিল্যান্ডের গ্লেন টার্নার। উভয়েই ১৯৭৫ বিশ্বকাপের প্রথম দিন সেঞ্চুরি করেন। লর্ডসে ভারতের বিপক্ষে ১৩৭ রানের ইনিংস খেলেন এ্যামিস এবং এজবাস্টনে ইস্ট আফ্রিকার বিপক্ষে অপরাজিত ১৭১ রানের ইনিংস খেলেন টার্নার।

দ্রুততম সেঞ্চুরি

সবচেয়ে কম ৫০ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন আয়ারল্যান্ডের কেভিন ও’ব্রায়ান। ২০১১ বিশ্বকাপে তার সেঞ্চুরির সুবাদে ইংল্যান্ডকে হারায় আইরিশরা। ৫০ বলে রসঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ১১৩ রানে আউট হওয়া ইনিংসে এ অলরাউন্ডার ১৩টি বাউন্ডারি এবং ৬টি ওভার বাউন্ডারি হাকান। ৫০ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করে বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক বনে যান ও’ব্রায়ান।

সবচেয়ে কম বয়সের সেঞ্চুরিয়ান

পুরুষ বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়স মাত্র ২০ বছর ১৯৬ দিনে সেঞ্চুরি করেন আয়ারল্যান্ডের পল স্টালির্ং। ২০১১ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে এ রেকর্ড গড়েন তিনি। বিশ্বকাপে ২১ বছরের কম বয়সে সেঞ্চুরি করা একমাত্র খেলোয়াড় স্টার্লিং।

বেশি বয়সে সেঞ্চুরি

বয়স ৩০ বছরের পার হওয়ার পথেও সেঞ্চুরি করছেন শ্রীলংকার তিলকরতেœ দিলশান। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়স ৩৮ বছর ১৩৫ দিনে সেঞ্চুরি করেছেন দিলশান। ২০১৫ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে শত রান করার রেকর্ড গড়েন তিনি।

সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি অস্ট্রেলিয়ার

আইসিসির পুরুষ বিশ্বকাপে অন্য যে কোন দলের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ২৬টি সেঞ্চুরি করেছে পাঁচ বারের শিরোপা জয়ী অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে একটি কম ২৫টি সেঞ্চুরি আছে ভারতের। শ্রীলংকার ২৩, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৭, নিউজিল্যান্ডের ১৫ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের সেঞ্চুরি সংখ্যা ১৪টি করে। ২০১৯ বিশ্বকাপ আয়োজক ইংল্যান্ডের সেঞ্চুরি সংখ্যা ১১টি।

ফাইনাল ম্যাচের সেঞ্চুরিগুলো

বিশ্বকাপ ফাইনালে সেঞ্চুরি করার চেয়ে আর কোন বড় মঞ্চ হতে পারেনা। ক্রিকেট ইতিহাসে কেবলমাত্র ৬ জন খেলোয়াড় এ কৃতিত্ব অর্জন করতে পেরেছে। উদ্বোধনী আসর ১৯৭৫ বিশ্বকাপ ফাইনালে সেঞ্চুরি করা প্রথম খেলোয়াড় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড। মাত্র ৮৫ বল মোকাবেলায় ১০২ রানের ইনিংস খেলেন এ কিংবদন্তী। পরের আসরের ফাইনালেও সেঞ্চুরিয়ান ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্যার ভিভ রিচার্ডস। ১৯৭৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে অপরাজিত ১৩৮ রান করেন তিনি। ফাইনালে সেঞ্চুরি করা ক্লাবে এরপর যুক্ত হন শ্রীলংকার অরবিন্দ ডি সিলভা। স্বাগতিক হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করা ১৯৯৬ আসরে ডি সিলভা ১০৭ রান করেন। এরপর ২০০৩ এবং ২০০৭ বিশ্বকাপ ফাইনালে সেঞ্চুরি করেন যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়ার লিজেন্ড রিকি পন্টিং (১৪০*) এবং এডাম গিলক্রিস্ট (১৪৯)। সম্মানজনক এ ক্লাবের সর্বশেষ ও ষষ্ঠ সদস্য হন শ্রীলংকার মাহেলা জয়াবর্ধনে। ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৮৮ বল খেলে অপরাজিত ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

সেঞ্চুরির শহর

বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করতে চাইলে আপনাকে মেলবোর্নের মত কোন স্থান খুঁজে নিতে হবে। এখানে এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাতটি সেঞ্চুরি হয়েছে, যা অন্য যে কোন শহরের চেয়ে বেশি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয়টি সেঞ্চুরি হয়েছে করাচিতে। এছাড়া লর্ডস ও ওভালে সেঞ্চুরি হয়েছে পাঁচটি করে।



মন্তব্য