kalerkantho


মেসি পরিবারের আক্রমণে জেরবার ম্যারাডোনা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:০৯



মেসি পরিবারের আক্রমণে জেরবার ম্যারাডোনা!

দুদিন আগে লিওনেল মেসি সম্পর্কে নিজের ক্ষোভ  উগড়ে দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনা। ছিয়াশির বিশ্বকাপজয়ী এই মহাতারকা বলেছিলেন, মাঠে নামার আগে মেসি ২০ বার বাথরুমে যায়; তাকে দিয়ে নেতৃত্ব হবে না! এই মন্তব্যের পর বেজায় চটেছেন মেসিভক্তরা। মেসির আত্মীয় স্বজনরাও পাল্টা আক্রমণে তুলোধুনো করে দিচ্ছেন ম্যারাডোনাকে। 

মেসির কাজিন ম্যাক্সি বিয়ানকুচ্চি ম্যারাডোনার মন্তব্যকে পাত্তা দিচ্ছেন না। মাদক, মদ্যপানের নেশা থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য এক সময় লড়াই করা ম্যারাডোনার মন্তব্য নিয়ে পেশাদার এই ফুটবলার বলেন, 'মেসির কৃতিত্বকে স্বীকার না করা অজ্ঞতা। খুব দুঃখের কথা, নেতা হিসেবে নিজের কৃতিত্বের কথা সগর্বে বলে বেড়ানো এমন এক জন আর এক ফুটবলারকে নিয়ে এত খারাপ কথা বলতে পারলেন। উনি মন্তব্যটা এমন এক জনকে নিয়ে করেছেন, যে এখন সেরা ফুটবলার, হয়তো দীর্ঘদিন সেরা থাকবেও।'

তিনি আরও বলেছেন, 'উনি এমন একটা সময় মন্তব্যটা করলেন, যখন সত্যিই দেশকে ভালবাসলে তার জাতীয় দলকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করা উচিত।'

মেক্সিকোর একটি ক্লাবে কোচিং করানো ৫৭ বছর বয়সী ম্যারাডোনার মন্তব্যের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে আর্জেন্টিনায়। যেখানে মেসি কোনোদিন ক্লাব ফুটবলে খেলেননি। বরং তাকে শুনতে হয়েছে দেশের জার্সিতে নামলে মেসির মধ্যে ক্লাবের হয়ে খেলার মতো ব্যাপারটা পাওয়া যায় না।

এক আর্জেন্টিনীয় আইনজীবী ম্যারাডোনার মন্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, 'সমালোচনা যখন এক জন মাদকাসক্তের কাছ থেকে আসছে, তার কোনো মূল্য নেই।'

সে দেশের এক সাবেক শিক্ষক আবার বলেছেন, 'ডিয়াগোর মতো শারীরিক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ একজন মেসির সমালোচনা করতে পারেন না।'

তবে ম্যারাডোনা ভক্তদের মধ্যে কেউ কেউ আবার লিখেছেন, 'ডিয়াগো মিথ্যেটা কী বলেছেন! যা সত্যি, তা সত্যি। মেসিকে সেরা বলা বন্ধ হোক, কারণ ও সেরা নয়।' আর এক ম্যারাডোনা ভক্ত লিখেছেন, 'ম্যারাডোনা যা খুশি বলতে পারেন, কারণ উনি মাঠে নেমে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।'

২০১০ বিশ্বকাপে মেসিদের জাতীয় দলের কোচ থাকলেও ম্যারাডোনার সঙ্গে তার সম্পর্ক নষ্ট হয়েছিল ২০০৬ সালে প্যারিসে একটি অনুষ্ঠানে। সেখানে ম্যারাডোনাকে বলতে শোনা যায়, মেসির নেতা হওয়ার মতো ব্যক্তিত্ব নেই। কথাটা আবার ম্যারাডোনা বলেছিলেন কিংবদন্তি পেলেকে।  মাইক্রোফোনে ম্যারাডোনার মন্তব্য ধরা পড়ে গিয়েছিল। তখন থেকে সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে দুজনের। এমনকি গত বছর মেসির বিয়েতেও আমন্ত্রিতদের তালিকায় ছিল না ম্যারাডোনার নাম।



মন্তব্য