kalerkantho



বাংলাদেশকে লড়াকু স্কোর এনে দিলেন রিয়াদ-ইমরুল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২১:৪২



বাংলাদেশকে লড়াকু স্কোর এনে দিলেন রিয়াদ-ইমরুল

মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ এবং ইমরুল কায়েসের জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২৪৯ রান করেছে বাংলাদেশ। মাত্র ৮৭ রানে পাঁচ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে একটি সম্মানজনক ও মোটামুটি লড়াকু স্কোর গড়ে দেন এই দুই ব্যাটসম্যান। রিয়াদ আউট হলেও অপরাজিত ছিলেন ইমরুল।

রবিবার এশিয়া কাপের সুপার ফোরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১৮ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই চাপ কাটিয়ে ওঠতে না ওঠতে ফের নতুন চাপে পড়ে মাশরাফি বাহিনী।

পঞ্চম ওভারের শেষ বলে ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হন। আফতাব আলমের বলে রহমত শাহ-র হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। পরের ওভারেই মুজিব উর রহমানের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন মোহাম্মদ মিঠুন। এরপর তৃতীয় উইকেটে লিটনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মুশফিক।

আফগানদের প্রথম শিকারে পরিণত হন ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত। ৫ম ওভারে আফতাব আলমের একেবারে শেষ বলটি কাভারে উঠিয়ে দিলে তা তালুবন্দি করেন রহমত শাহ। ফিরে যান ব্যক্তিগত ৬ রানে।

ঠিক তার পরের ওভারেই মুজিব উর রহমানের স্পিনে ব্যক্তিগত ১ রানে এলবি’র ফাঁদে পড়েন মোহাম্মদ মিঠুন।

পা হড়কেছিলেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিকও। তখন তার ব্যক্তিগত সংগ্রহ ৯। ১২.৫ ওভারে মুজিব উর রহমানকে কাট করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকমতো খেলতে পারেননি। বল ব্যাটের কানা ছুঁয়ে কিপার মোহাম্মদ শাহজাদের পায়ে লেগে যায় প্রথম স্লিপে। কিন্তু মুঠোবন্দি করতে পারেননি।
 
তারপর পানি পানের বিরতি পর্যন্ত অবশ্য আর কোন বিপদ তাকে ছুঁয়ে যায়নি। লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে দলের ইনিংস মেরামত করে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের পথে নিজেদের ইনিংস এগিয়ে নেন।

তবে আফগান ইনিংসে রশিদ খান এলেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে দারুণ খেলতে থাকা লিটন দাশকে ইহসানউল্লাহ-র ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠান স্পিন বিস্ময় রশিদ। ৪৩ বলে ৩টি চারে ৪১ করেন লিটন। একই ওভারের শেষ বলে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে নামা সাকিব আল হাসান (০) রান আউটের শিকার হন।

রশিদের পরের ওভারে রান আউট হয়ে ফিরে যান মুশফিকুর রহিম। যদিও আউটটি অনেকটা বিতর্কিতই মনে হয়েছে। ক্যামেরায় দেখা যায় নন স্ট্রাইকে থাকা মুশফিক রানের জন্য দৌড়ে আবারও ফিরে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় রশিদ বল স্ট্যাম্পে বল লাগাতে গেলে তার হিপে লেগে বেল পড়ে যায়। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ার আউট দিয়ে দেন। ৫২ বলে ২টি চার ও একটি ছক্কায় ৩৩ করেন মুশফিক।

এরপর ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে হাল ধরেন ইমরুল কায়েস ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। 

রিয়াদের ব্যাট থেকে এসেছে অমূল্য ৭৪ রান। তবে শেষ পর্যন্ত উইকেটে থাকতে পারেননি। ৪৭তম ওভারে আফতাবের বলে রশিদ খানের ক্যাচ হয়ে ফেরেন। তবে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ছিলেন ইমরুল। দায়িত্বশীল ব্যাটে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সংগ্রহ করেছেন মহামূল্যবান ৭২ রান।

দুজনের এমন দায়িত্বশীল ব্যাটে ৭ উইকেটের বিনিময়ে আফগানদের বিপক্ষে এই সংগ্রহ পায় কোচ স্টিভ রোডসের শিষ্যরা।

তবেএও ঠিক ১৯তম ওভারে রশিদ ঘূর্ণিতে ক্রমাগত বিপদজনক হয়ে ওঠা লিটন ৪১ রানে ফিরে গেলেও তার ওই ওভারে হন্তদন্ত হয়ে ছোটা সাকিব (০) এবং একওভার বিরতিতে সেট ব্যাটসম্যান মুশফিকও (৩৩) রান আউট না হলে দলীয় সংগ্রহের ভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ হতে পারতো।

আর শতক, অর্ধশতক করতে না পারলেও এই ম্যাচটি দিয়েই বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫ হাজার রানে ঘরে ঢুকেছেন মুশফিকুর রহিম।

রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮) আফগানদের বিপক্ষে এই ম্যাচে রিয়াদ তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২০তম অর্ধশতক। এই রান সংগ্রহে তিনি খেলেছে ৫৯টি বল। যেখানে কোনো ৬-র মার ছিলো না। ছিলো শুধু ৩টি চারের মার।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে দুটি পরিবর্তন এসেছে। ভারতের বিপক্ষে সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে খেলা একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন পেসার রুবেল হোসেন ও অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তাদের পরিবর্তে যুক্ত হয়েছেন যথাক্রমে নাজমুল ইসলাম অপু ও ইমরুল কায়েস।

সুপার ফোরে আজ দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অপর ম্যাচে দুবাইতে ভারতের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করেছে পাকিস্তান। ভারতকে দিয়েছে  ২৩৮ রানের টার্গেট।

সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান উভয়ে প্রথম ম্যাচে হেরেছে। তাই এই ম্যাচে যারা হেরে যাবে তাদের বিদায়ও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে।

অপরদিকে পাকিস্তান ও ভারত দুদলই জিতেছে। তাই আজকের ম্যাচে যারা জিতবে তাদের ফাইনাল প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে।



মন্তব্য