kalerkantho


বাংলাদেশ-ভারত: জেতা না জেতার হিসাব-নিকাশ

সাহিদ রহমান অরিন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:১৪



বাংলাদেশ-ভারত: জেতা না জেতার হিসাব-নিকাশ

একটা সময় প্রতিপক্ষের পেস অ্যাটাক সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেত বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তবে স্পিন সামলানো নিয়ে ছিল না কোনো মাথাব্যথা। কিন্তু কিভাবে যেনো সব ওলট-পালট হয়ে গেলো। স্বাচ্ছন্দ্যে স্পিন সামলানো সেই ব্যাটসম্যানদের কপালে এখন কিনা চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে প্রতিপক্ষের ঘূর্ণিবাজরা! 

চলতি বছরের জুনে আফগানদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে টাইগারদের ‘স্পিন ভীতি’ গল্পের শুরু। সেটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষে ফের এসে হাজির চলমান এশিয়া কাপে। 

গেল মাসে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলেও সাকিব-তামিম-মুশফিকদের চরম ভুগিয়েছে স্বাগতিক স্পিনাররা। তবে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে লঙ্কান স্পিনাররা পাত্তা না পেলেও কাল রশিদ-মুজিব-নবীর ত্রিমুখী চাপে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে টাইগারদের ইনিংস। গত রাতের পরাজয়ের ক্ষতে প্রলেপ লাগানোর আগেই এবার সামনে ‌ভারত, সঙ্গে আবারো সেই স্পিন পরীক্ষা।

অতীতে ভারতীয় স্পিনারদের হেসে-খেলেই পার করে দিয়েছেন বাংলাদেশের উইলোবাজরা। যুক্তিসঙ্গত কারণও ছিল নিশ্চয়ই। অশ্বিন-জাদেজাদের যে খেলে খেলে অভ্যস্ত মাশরাফিবাহিনী। কিন্তু এইবার যে সেটা হচ্ছে না! 

রঙিন পোশাকের টিম ইন্ডিয়ার স্পিন অ্যাটাকের দুই অস্ত্র এখন কুলদীপ যাদব-যুজবেন্দ্র চাহাল, যাদের কিনা কখনো খেলেইনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। বৈচিত্র্যময় বোলিং অ্যাকশনে ইতিমধ্যেই বিশ্বকে নিজের জাত চিনিয়েছেন কুলদীপ। তাকে ‘রিড’ করতে পারাটাও অনেক ব্যাটসম্যানের কাছে সৌভাগ্যের বিষয়। কম যান না চাহালও। সাবেক এই দাবাড়ু ক্রিকেটের ২২ গজেও হাত ঘুরিয়ে দারুণ চাল চালেন। 

প্রতিপক্ষের স্পিনের সঙ্গে টাইগার শিবিরে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জুনিয়রদের ফর্ম। ‘বহুকাল’ হলো নিয়মটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, দেশের পঞ্চপাণ্ডব (মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ) নিজেদের সেরাটা খেললে দল জেতে, নয়তো না। 

আফগানদের বিপক্ষে কালকের ম্যাচেই যেমন বিশ্রাম দেয়া হয়েছিল একাদশের ‘অটো চয়েস’ মুশফিকুর ও মুস্তাফিজুরকে। কবজির ইনজুরিতে পড়ে দেশে ফেরা তামিমও ছিলেন না। কিন্তু সিনিয়রদের অনুপস্থিতির এই সুযোগটা তরুণরা কাজে লাগাতে পারলেন কই? 

অথচ দুই শ’র গণ্ডি পেরোনোর আগেই অল-আউটের শঙ্কায় পড়া আফগানদের কাল খাদের কিনারা থেকে টেনে তুললেন দুই তরুণ রশিদ খান আর গুলবাদিন নায়েব। আজকের প্রতিপক্ষ ভারতের জুনিয়র খেলোয়াড়রাও কিন্তু দলের বিপদে ‘সম্মুখ যুদ্ধে’ এগিয়ে যায়। 

ভারতের শক্তিমত্তা ও সামর্থ্য নিয়ে সংশয় নেই একটুও। বাংলাদেশের শঙ্কাটা দ্বিগুণ, ‘স্পিন ভীতি’ আর ‘জুনিয়রদের ফর্ম খরা’। এই দ্বৈত সমস্যা কাটিয়ে উঠতে না পারলে আজ রাতেও বড় পরাজয় বরণ করতে হতে পারে বাংলাদেশকে। 



মন্তব্য