kalerkantho



ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:০৩



ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

আফগানিস্তানের দেয়া ২৫৬ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। টাইগারদের হয়ে ওপেন করতে নামেন লিটন দাশ ও নামজুল হোসেন শান্ত।

এর আগে এশিয়া কাপে ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করা আফগানিস্তান নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেন হাসমাতুল্লাহ শাহিদী। অষ্টম উইকেট জুটিতে গুলবাদিন নবী ও রশিদ খানের ৯৫ রানের পার্টনারশিপ দলের ভালো সংগ্রহের কারণ হয়। 
শেষ দিকে ৩২ বলে ৮টি চার ও একটি ছক্কায় অপরাজিত ঝড়ো ৫৭ রান তোলেন রশিদ খান। তার সঙ্গে ৯৫ রানের জুটি বেধে দারুণ ব্যাটিং করা গুলবাদিন নবী হার না মানা ৩৮ বলে ৫টি চারে ৪২ রান করেন।

১৬০ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর ব্যাট করতে নামেন রশিদ খান। জুটি বাধেন গুলবাদিন নাইবের সঙ্গে। এই জুটিই ম্যাচটাকে কিছুটা বাংলাদেশের নাগালের বাইরে নিয়ে গেলো। বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত দিলো ২৫৬ রানের লক্ষ্য। রশিদ আর নাইব- দুজন মিলে ৫৭ বলে গড়েন ৯৫ রানের জুটি। শেষ ৫ ওভারে তারা তোলেন ৫৭ রান। শেষ ওভারে মাশরাফির কাছ থেকে তুলে নিলেন ১৯ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে সাকিব আল হাসান ৪টি উইকেট দখল করেন। আজ বল হাতে উইকেটে জাদু দেখিয়েছেন সাকিব আল হাসান। সর্বশেষ আফগানিস্তানের সেরা তারকা মোহাম্মদ নবীকে এলবির ফাঁদে ফেলে মাঠ ছাড়া করান তিনি। তার নজর কাড়া বোলিংয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে প্রতিপক্ষ।

এর আগে আফগানিস্তান ইনিংসে সর্বোচ্চ স্কোরার হাসমাতুল্লাহ শাহিদীকে ফেরান রুবেল হোসেন। দলীয় ৩৮ ও নিজের পঞ্চম ওভারে এসে উইকেটের পেছনে থাকা লিটন দাশের ক্যাচ বানিয়ে তাকে প্যাভিলিয়নে পাঠান এ ম্যাচে প্রথম উইকেট পাওয়া এই ডানহাতি। ৯২ বলে ৩টি চারে ৫৮ রান করেছেন হাসমাতুল্লা।

তার আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বল হাতে জ্বলে ওঠেন সাকিব আল হাসান। প্রতিপক্ষের প্রথম পাঁচ উইকেটের শেষ তিনটিই তিনি তুলে নেন। ৩৪তম ওভারে ১৮ রান করা সামিউল্লাহ শেনওয়ারিকে বোল্ড করে মাঠ ছাড়া করেন তিনি।

তার আগে দারুণ এক ঘূর্ণিতে আফগানিস্তান অধিনায়ক আসগর আফগানকেও ফেরান সাকিব আল হাসান। ৮ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে সরাসরি বোল্ড করেন তিনি। মোহাম্মদ শাহজাদ ও আসগরকে বিদায় করে বিশ্ব সেরা এই অলরাউন্ডার বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান।

দারুণ খেলতে থাকা আফগানিস্তান ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদকেও বিদায় করেন সাকিব আল হাসান। দলীয় ২০তম ওভারে নিজের প্রথম ওভার করতে এসে তৃতীয় বলেই তাকে তুলে নেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার। তবে বাউন্ডারি অঞ্চলে অসাধারণ ক্যাচ নিয়ে আলো কেড়ে নেন আবু হায়দার রনি। ৪৭ বলে ৪টি চারে ৩৭ করেন শাহজাদ।

আবু হায়দার রনি নেন ২ উইকেট। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আফগানিস্তানের ওপেনার ইহসানুল্লাহকে ফিরিয়ে দিয়ে দারুণ এক ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছিলেন অভিষিক্ত পেসার আবু হায়দার রনি। ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারে হেনেছিলেন দ্বিতীয় আঘাত। ফিরিয়ে দিয়েছিলেন আফগানদের আরেক ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান রহমত শাহকে। এ সময় তাদের রান ছিল ২৮।

এরপরই তৃতীয় উইকেট জুটিতে ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ এবং চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা হাশমতউল্লাহ শহিদি। দুজন মিলে ৫১ রানের দারুণ একটি জুটি গড়ে তোলেন। বাংলাদেশের কোনো বোলারকেই যেন পাত্তা দিচ্ছিলেন না তারা দুজন। ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন শাহজাদ এবং শহিদি।

ইনিংসের ২০তম ওভারে বাধ্য হয়ে সাকিব আল হাসানকে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। বোলিংয়ে এসে প্রথম বল থেকে সমীহ আদায় করতে পারলেও দ্বিতীয় বলে খেলেন বাউন্ডারি। তৃতীয় বলেও মোহাম্মদ শাহজাদ উড়িয়ে মারেন সাকিবকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আফগান ওপেনারের। বাউন্ডারি লাইনে লাফ দিয়ে উঠে ক্যাচটি তালুবন্দী করে নেন আবু হায়দার রনি।

নিজের অভিষেকটাকে সব ধরনের রঙে রাঙিয়ে দেয়ার জন্যই যেন আজ মাঠে নামেন রনি। শুরুতে দুই উইকেট নেয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধরলেন দুর্দান্ত এক ক্যাচ। বাউন্ডারি লাইনের ওপর লাফ দিয়ে অনেক ওপরে ওঠে বলটি তিনি তালুবন্দী না করলে আফগানদের ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা জুটিটিরও হয়তো সমাপ্তি ঘটতো না। ৪৭ বলে ৩৭ রান করে ফিরে যান মোহাম্মদ শাহজাদ।

আজ ফিল্ডিংয়ে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করে টাইগাররা। নিজের ওয়ানডে অভিষেকের প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নেয়ার পর তৃতীয় ওভারে রহমত শাহকে সরাসরি বোল্ড করে জোড়া উইকেটের আনন্দ উদযাপন করেন পেসার আবু হায়দার রনি।

এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নেমে ওপেনার ইহসানুল্লাহ জানাতকে মোহাম্মদ মিঠুনের ক্যাচ বানিয়ে মাঠ ছাড়া করেন এই বাঁহাতি। পরে দলীয় ষষ্ঠ ও নিজের তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে রহমত শাহ-র স্ট্যাম্প ভেঙে দেন তিনি।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নামে বাংলাদেশ। টাইগারদের একাদশে আজ নেই মুশফিক আর মোস্তাফিজ। আজকের ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হলো আবু হায়দার রনি ও নাজমুল হোসেন শান্ত।

এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় আবুধাবিতে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ-আফগানিস্তান।

এক ম্যাচ হাতে রেখেই দুই দলই সুপার ফোরে স্থান নিশ্চিত করেছে। এবার এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে একে অন্যের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান। দুই দলই গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সুপার ফোরে পা রেখেছে। তাই বলে এই ম্যাচের গুরুত্ব মোটেই কমে যাচ্ছে না। দুই দলই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে চাইবে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৫ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়ে তিন জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ওয়ানডেতে আফগানদের বিপক্ষে ১৪১ রানে বিজয়ী হয়েছিল টাইগাররা। ২০১৬ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচটি বাংলাদেশকে নিশ্চিতভাবে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

বাংলাদেশ দলে ফিরেছেন ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। প্রায় তিন বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরলেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্কখে মাঠে নেমেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

বাংলাদেশ একাদশ: মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিয়ানায়ক), আবু হায়দার রনি, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), রুবেল হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, মুমিনুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন।

আফগানিস্তান একাদশ: মোহাম্মদ শাহজাদ (উইকেটরক্ষক), ইহসানুল্লাহ জানাত, রহমত শাহ, আসগার আফগান (অধিনায়ক), হাসমাতুল্লাহ শাহিদী, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি, মোহাম্মদ নবী, গুলবদিন নায়িব, রশিদ খান, আফতাব আলম, মুজিব উর রহমান।



মন্তব্য