kalerkantho



বাংলাদেশ রাঙানোর স্বপ্নে কলিনড্রেস

আমি যা চেয়েছি সবই পাচ্ছি বসুন্ধরা কিংস থেকে

সনৎ বাবলা   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৬:০৬



আমি যা চেয়েছি সবই পাচ্ছি বসুন্ধরা কিংস থেকে

জাতীয় দল হয়তো ফুটবলপিপাসুদের শেষ পর্যন্ত আমোদিত করতে পারেনি। নেপালে হারের হতাশা নিয়ে ফিরে যাওয়া দর্শকদের এবার মাঠে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন ড্যানিয়েল কলিনড্রেস। বিশ্বকাপ ফুটবলারের পায়ে জাদুকরী সম্মোহনের সঙ্গে দেশিদের তাল মিলে ফুটবল আবার নেশা ধরিয়ে দেবে জনতার মনে। সর্বশেষ তারকা সনি নর্দের কীর্তিকে লঘু করে সবই মজবে বসুন্ধরা কিংসের কলিনড্রেসে, ‘এটা নতুন জায়গা এবং সম্পূর্ণ নতুন অনুভূতি। তবে আমি বেশ উপভোগ করছি। আশা করি, নতুন জায়গায় মাঠের খেলাটাও আমি উপভোগ করতে পারব।’

গায়ে বিশ্বকাপের ট্যাগ, সেখানে দুটো ম্যাচ খেলেই এসেছেন ঢাকায়। কিন্তু কোস্টারিকানের কোনো নকড়া নেই, বাহানা নেই, স্থানীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গেও আমিত্বের অহমের প্রকাশ নেই। সাদাসিধে এক পরিপাটি ভদ্রলোক। মুখে স্প্যানিশ অনর্গল আর ইংরেজিটা কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো। দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলে (ব্রাজিল বাদে) স্প্যানিশের মতো ফুটবল খেলাটাও যেন জন্মসূত্রে পাওয়া। এই সুরভি তাদের ফুরোবার নয়। কিন্তু ওই অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপ শেষে এই মুলুকে পাড়ি জমানো, বিশেষত বিশ্বকাপ থেকে বসুন্ধরা কিংসে নাম লেখানোটা বিস্ময়কর। কলিনড্রেসের পেশাদারি জবাব, ‘এ ক্লাব ছাড়াও আমার কাছে আরো দুটো অফার ছিল। একটি দক্ষিণ আমেরিকায়, আরেকটি ভারতে। ইমরুল সাহেবের সঙ্গে কথা বলে সেই দুটো বাদ দিয়েছি, আমি যা চেয়েছি সবই পাচ্ছি বসুন্ধরা কিংস থেকে।’

তাঁর পাওয়ার চেয়েও বড় কথা হলো বসুন্ধরা কিংসের ঠেকানো। শুরু থেকে তারা বানের জলে বাঁধ দিয়েছিল। এ দেশে আফ্রিকান ফুটবলাররা আসছে বানের জলের মতোই। সেই বেনো জলকে ঠেকিয়ে কিংস চেয়েছে সুপেয় জল। যেটায় ফুটবলতৃষ্ণা মিটবে। সেই মান খুঁজতে গিয়েই ক্লাব প্রেসিডেন্টের মনে ধরেছে এই কোস্টারিকানকে, ‘দেশের ফুটবলের নতুন শক্তি বসুন্ধরা কিংস। আমাদের উদ্দেশ্য আসলে একটা ভালো দল গঠন করে সুন্দর ফুটবল উপহার দেওয়া এবং দর্শকদের মাঠে ফিরিয়ে আনা। আমাদের দেশি ফুটবলারদের মান উনিশ-বিশ, তাই পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো বিদেশি লাগবে। সে জন্যই কলিনড্রেসকে বেছে নিয়েছি। বিশ্বকাপের খেলোয়াড় এনে ভিন্ন স্বাদ উপহার দেওয়ার পাশাপাশি ফুটবল দর্শকদেরও মাঠে এসে খেলা দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।’ তাতে কেউ ঠকবে না নিশ্চিত। কারণ মাঠের লড়াইয়ে যোগ হচ্ছে ভিন্ন মাত্রা। ঘরোয়া ফুটবলের প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাবে নতুন শক্তি। জমে উঠবে কোস্টারিকান বনাম আফ্রিকানদের লড়াই। কলিনড্রেসও যেন এ লড়াইয়ের জন্য তৈরি হয়েই এসেছেন, ‘জানি, আমার কাছে দলের অনেক প্রত্যাশা। আন্তরিকতা, পারফরম্যান্স ও পেশাদারি দিয়ে ক্লাবকে সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছে দিতে চেষ্টা করব আমি।

প্রথাগত আফ্রিকানদের চেয়ে তাঁর খেলা ভিন্ন স্বাদের হবে, এটা ঠিক। তবে ২০১১ সালে কোস্টারিকার জার্সিতে অভিষেকের পর তাঁর ফর্মের উত্থান-পতন লেগেই আছে। এখন সময়টা কিন্তু তাঁর ভালো যাচ্ছে, সুবাদে বিশ্বকাপও খেলা হয়ে গেল। তবে গোল দিয়ে এই তাঁকে সামর্থ্য মাপতে চান না কিংসের কোচ অস্কার ব্রুজোন, ‘ড্যানিয়েল ঠিক স্ট্রাইকার নয়, মাঝমাঠে খেলা তৈরি করা এবং গোল বানিয়ে দেওয়াই তার মূল কাজ। জাতীয় দলে এ কাজটাই সে করে, তাই হয়তো তার খেলাটা চোখে পড়ে না। গোলের সংখ্যা দিয়ে তার পারফরম্যান্স যাচাই করলে ভুল হবে।’ মালদ্বীপের নিউ রেডিয়্যান্ট ক্লাব ছেড়ে স্প্যানিশ কোচ সদ্য যোগ দিয়েছেন কিংসে। দু-তিন দিন ট্রেনিং করিয়ে কোচ তাঁর সেরা অস্ত্রের ব্যবহারও ঠিক করে ফেলেছেন, ‘আমাদের দলের খেলাটা তৈরি হবে কলিনড্রেসকে ঘিরে। দলকে খেলাবে, অন্যদেরও খেলাবে সে। ফরোয়ার্ড লাইনের খেলাটা সহজ করে দেবে সে। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ ফুটবল দুর্দান্ত কিছু দেখবে তার পায়ে এবং সে-ই হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সেরা খেলোয়াড়।’

কিন্তু গতকাল যে নতুন খবর দিয়েছেন ইমরুল হাসান। বিশ্বকাপ খেলা আরেক ফুটবলারের সঙ্গে তিনি আলাপ শুরু করেছেন! ঘরোয়া ফুটবলের নিয়মানুযায়ী এক এশিয়ানসহ চার বিদেশি খেলতে পারবে এবার। সেখানে মাত্র একজন নিশ্চিত হয়েছে, বাকি তিনটি কোটায় থাকতে পারে আরো চমক। ক্যাম্পে ট্রায়ালে আছে তিন-চার বিদেশি, আলোচনার টেবিলে আছে কয়েকজন। লক্ষ্য অভিষেকে অপরূপ হওয়া। সব কয়টি শিরোপা জিতে আলোড়ন তোলা। বসুন্ধরা কিংসের ‘ফুটবল কিং’ হয়ে ওঠা। মৌসুমের শুরুতে যেকোনো কোচের জন্য এটা চাপ। কিন্তু অস্কার ব্রুজোন দেখছেন দুর্দান্ত সুযোগ, ‘ইমরুল এবং মিনহাজ সাহেবের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাঁরা এ দেশের ফুটবলে অন্য রকম কিছু করতে চান। চমৎকার সব ব্যবস্থা করেছেন বসুন্ধরা কিংস ক্লাবের জন্য। এখন আমাদের মাঠে ভালো পারফরম্যান্স দিয়ে ক্লাবটাকে এগিয়ে নেওয়া।’

কিছুর ঘাটতি নেই দলে। সেরা খেলোয়াড়, সেরা সুযোগ-সুবিধা এবং সেরা ট্রেনিং ব্যবস্থা—সব রসদ তাঁকে দেওয়া হয়েছে। পাকা রাঁধুনি হয়ে অস্কারকে সেরা স্বাদের ফুটবলটা উপহার দিতে হবে। সফল হলে বসুন্ধরা কিংস হয়ে উঠবে ঘরোয়া ফুটবলের নতুন কিং।



মন্তব্য