kalerkantho



এক হাতে ব্যাটিং করেছিলেন যারা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৪:০৬



এক হাতে ব্যাটিং করেছিলেন যারা

বাংলাদেশ ক্রিকেটে সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। দলের জন্য দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে বহুবার জয়ের নায়ক হয়েছেন তিনি। কিন্তু  দলের প্রয়োজনে আর স্বদেশ প্রেমের তাগিদেই ভাঙা আঙুল নিয়ে দ্রুতগতির বল মোকাবেলা করতে মাঠে নামবেন-এটা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এমন ঘটনাই ঘটালেন এই ড্যাশিং টাইগার তারকা। 

তামিম ছাড়াও আরো কয়েকজন ক্রিকেটার আছেন যারা ম্যাচ বাঁচাতে বা সতীর্থ ব্যাটসম্যানের সহযোগিতার জন্য এক হাতে ব্যাটিং করেছিলেন। তারা হলেন-গ্রায়েম স্মিথ (সাউথ আফ্রিকা), ম্যালকম মার্শাল(ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।   

তামিম ইকবাল
গত শনিবার দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী ম্যাচেই  শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতে মাত্র ১ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় টাইগাররা। এর মধ্যে হাতে ব্যাথা পেয়ে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরে ওপেনার তামিম ইকবাল।

কিন্তু দলের প্রয়োজনে আর স্বদেশ প্রেমের তাগিদেই আঙুলে ব্যান্ডেজ নিয়েই মুশফিককে সঙ্গ দিতে মাঠে নেমে সবাইকে অবাক করে দেন দেশসেরা এই ওপেনার। এর মধ্যে একটি শর্টবল ডিফেন্সও করেন তিনি। অপরদিকে বাকি বলগুলো থেকে মুশফিক তুলে নেন ৩২ রান। এর ফলে বাংলাদেশ পায় ২৬১ রানের লড়াইয়ের স্কোর। 

গ্রায়েম স্মিথ (সাউথ আফ্রিকা)
২০০৯ সালে টেস্ট ম্যাচ বাঁচাতে ভাঙ্গা হাত নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন প্রোটিয়া তারকা গ্রায়েম স্মিথ। যখন তিনি মাঠে নামেন তখন ম্যাচের ৮ ওভার ২ বল বাকি ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে মিচেল জনসন, ডগ বলিঞ্জারের মতো গতিতারকাদের একের পর এক বল এক হাতে ভর করে ঠেকিয়ে যাচ্ছিলেন স্মিথ। কিন্তু ঠিক ১০ বল বাকি থাকতে জনসনের একটি বল ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক দিয়ে বেড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচাতে না পারলেও স্মিথের এই ইনিংস এখনও মনে রেখেছেন ক্রিকেট প্রেমীরা।

ম্যালকম মার্শাল(ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলি টেস্টে সতীর্থ ব্যাটসম্যানের সহযোগিতার জন্য এক হাতে ব্যাটিং করেছিলেন ক্যারিবিয়ান তারকা ম্যালকম মার্শাল। পাশাপাশি তিনি বোলিং করে ৭ উইকেটেও নিয়েছিলেন। 

টেস্টের প্রথম দিনে ইংল্যান্ডের ক্রিস ব্রডের ব্যাট থেকে ছুটে আসা একটি বল ঠেকাতে গিয়ে মার্শালের বাঁ-হাতের বুড়ো আঙ্গুলে দু'টি চিড় ধরে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা তাকে পরামর্শ দেন, তিনি ওই টেস্ট তো বটেই, আরও অন্তত ১০ দিন ক্রিকেট থেকে দূরে থাকেন। 

কিন্তু তৃতীয় দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ল্যারি গোমেজ যখন ইংলিশদের বিরুদ্ধে একাই লড়ছিলেন তখন সফররতদের ৯ উইকেটের পতন ঘটে। অপরাজিত গোমেজ ৯৬ রানে প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটা শুরু করলে মার্শাল ব্যাট হাতে মাঠে নামেন। তাকে দেখে সবাইকে অবাক! পরবর্তীতে মারশাল অবশ্য বলেন, ব্যাট করার ইচ্ছা ছিল না তার। কিন্তু গোমেজ সেঞ্চুরির এত কাছে ছিল যে তাকে নামতে হয়।



মন্তব্য