kalerkantho



‘মনে হচ্ছিল তামিমের জন্য কিছু করি’

দুবাই থেকে প্রতিনিধি    

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:১৯



‘মনে হচ্ছিল তামিমের জন্য কিছু করি’

তামিম ইকবালের এক হাতে ব্যাটিংয়ে নামার ঝুঁকি নিয়ে যখন ড্রেসিংরুমে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছিল, মুশফিকুর রহিম তখন মাঠে টেলএন্ডারদের নিয়ে দলের সংগ্রহ আরো বাড়ানোর একমাত্র ‘চাকা’ হয়ে উঠেছেন। মুস্তাফিজুর রহমান নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হতেই সেই চাকাও থেমে গেছে বলে ধরেই নিয়েছিল সবাই। তখনই সবাইকে চমকে দিয়ে নেমে যাওয়া তামিমকে দেখে অবশ্য মুশফিক চমকাননি। তাঁর কাছে যে সেই বার্তা পৌঁছেছিল আরো আগেই। গতকাল দুপুরে ফেস্টিভাল সিটির ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল থেকে কয়েকজন সতীর্থকে নিয়ে বাইরে মধ্যাহ্নভোজ সারতে যাওয়ার আগে বলে গেলেন, ‘আমি একটুও চমকাইনি। আমাকে লোক পাঠিয়ে বলা হয়েছিল যে তামিম নামবে।’

তামিমও নামলেন আর ততক্ষণে নিজের ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরি ১১২ রানে অপরাজিত মুশফিকের রক্তেও যেন আগুন খেলে গেল। এমনই সেই আগুন যে তাতে জ্বলেপুড়ে ছারখার থিসারা পেরেরা ও দাশুন শানাকা। ১৫ বলে তিনটি করে বাউন্ডারি আর ছক্কায় আরো ৩২ রান যোগ করা মুশফিক সেই বিধ্বংসী ব্যাটিংটা ওই সময়ে করতে চেয়েছিলেন শুধুই তামিমের জন্য। নিজের ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ইনিংসের চেয়ে সেই আনন্দই যেন কাল বেশি মিশে থাকল তাঁর কথায়, ‘তামিম যে অবস্থায় ব্যাটিং করতে নেমেছিল, মনে হয়েছিল ওর জন্য হলেও কিছু করা উচিত। সেই চেষ্টাই করেছি, সফলও হয়েছি।’

সেই সাফল্যেই বোলাররা পেয়ে যান প্রতিপক্ষকে দুমড়েমুচড়ে দেওয়ার বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস পেতে হলে স্কোরবোর্ডে পুঁজিও পর্যাপ্ত থাকা চাই। মুশফিকের ব্যাটে এলো সেটিই এবং একই সঙ্গে তাঁর ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরি দলকে এনে দিল জয়ও। এই নিয়ে তাঁর ছয়টি ওয়ানডে সেঞ্চুরির তিনটি দলের জয় দিয়ে আরো রঙিন হলো। হলো আরো উপভোগ্যও। সেঞ্চুরির বাইরে ওয়ানডেতে তাঁর ফিফটি আছে ২৯টি। সব মিলিয়ে এই ৩৫ ইনিংসের মধ্যে ১৫টি দলের জয়ভাগ্য লেখার ক্ষেত্রে রেখেছে দারুণ ভূমিকা।

যদিও ম্যাচ জেতানো ইনিংসের হিসাব তিনি নিজে রাখতে রাজি নন, ‘সত্যি কথা বলতে আমার কাছে কোনো হিসাব নেই। কখনো হিসাবও করতে চাই না। আমি চাই সামনে যেন এর চেয়ে বেশি ম্যাচ জেতাতে পারি। যাতে কোনোভাবেই আর হিসাব করতে না হয়। চেষ্টা থাকবে ভবিষ্যতে দলের জয়ে বেশির ভাগ অবদানই যেন রাখতে পারি।’ হিসাব না করলেও এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজের ইনিংসটি মূল্যায়ন করতে গিয়ে অবশ্য সেটিকেই আপাতত রাখছেন সবার আগে, ‘এই মুহূর্তে এটিকে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস বলাই যায়। অনেকেই তাই বলছে। ভবিষ্যতে এর চেয়েও ভালো ইনিংস খেলতে পারি। তবে এখন পর্যন্ত যদি বলেন, এটাই আমার ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং।’

তাও আবার সেটি খেলেছেন পাঁজরের ব্যথা নিয়েই। ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ব্যাটিংয়ে নামলেও ব্যথার প্রভাব ঠিকই ছিল। কারণ মাঝেমধ্যেই শট খেলার পর তাঁকে পাঁজরে হাত দিতে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে ব্যথা নিয়মিত বিরতিতেই মুশফিককে নাড়া দিচ্ছে। সেই সঙ্গে দুবাইয়ের প্রচণ্ড গরম মাংসপেশিতেও প্রভাব ফেলায় পরে আর ফিল্ডিংয়েই নামেননি। তাঁর জায়গায় উইকেটকিপিং করেছেন লিটন কুমার দাশ। সেই প্রসঙ্গ টানতেই তুললেন দলের প্রতি নিবেদনের বিষয়টিও, ‘তামিমের ব্যাটিংয়ে আসাটা ছিল অবিশ্বাস্য। আমার চোটটা একটু অন্য রকম। এখনো ব্যথা আছে। আসলে দলের প্রতি নিবেদন আমাদের সব সময়ই থাকে। চোটগ্রস্ত দুই ক্রিকেটারের জন্য ম্যাচ জেতা গেছে বলে হয়তো বিষয়টি এখন বেশি আলোচিত হচ্ছে। কিন্তু দলের প্রতি নিবেদন যে ম্যাচে আমরা হারি, তাতেও থাকে। কখনো আমরা পারি, আবার কখনো পারি না।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পারা গেল আর সেই সাফল্যের পর অনেকটা আড়ালে পড়ে যাওয়া একজনকেও টেনে আনলেন মুশফিকুর রহিম। তামিম বীরত্ব এবং মুশফিকের সেঞ্চুরির পর মোহাম্মদ মিঠুনের ৬৩ রানের ইনিংসটি নিয়ে আসলেই সেই রকম কোনো আলোচনা নেই। কিন্তু তরুণ সেই ব্যাটসম্যানকেও আড়াল থেকে বের করে আনলেন তাঁর সিনিয়র সতীর্থ, ‘তামিম তো নেমেছে অনেক পরে। এর আগে মিঠুনের ইনিংসটি অসাধারণ ছিল। ইতিবাচক ব্যাটিং করে আমার ওপর থেকে চাপ সে কমিয়ে নিয়েছিল অনেকটাই। আমি তখন রোটেট করে খেলছিলাম। আমাকে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলতে হয়নি। মিঠুনই রানরেটকে সচল রাখছিল। কৃতিত্ব তাই মিঠুন পেতেই পারে।’

বিশাল সেঞ্চুরির সঙ্গে সতীর্থ তামিমের জন্য কিছু করতে পারা মুশফিকও কৃতিত্ব পাচ্ছেন। তবে সেটি অন্য যে কারো চেয়ে বেশি তো বটেই।



মন্তব্য