kalerkantho


জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসাই ওজিলের অবসরের কারণ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ জুলাই, ২০১৮ ১৫:৩৭



জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসাই ওজিলের অবসরের কারণ!

আর কখনও জার্মানির জার্সিতে দেখা যাবে না ঝাঁকড়া চুলের সুদর্শন এই তারকাকে। ছবি : এএফপি

ফুটবলবিশ্বকে অনেকটা চমকে দিয়েই জার্মানির হয়ে আর মাঠ না নামার ঘোষণা দিয়ে দিলেন মেসুত ওজিল। রবিবার রাতে এই চরম সিদ্ধান্ত জানিয়ে এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, জার্মান ফুটবল সংস্থা তার সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে, তার পরে সে দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্বকাপে জার্মানির অপ্রত্যাশিত হারের জন্যও তাকেই দায়ী করা হয়েছে। 

বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, 'দল জিতলে আমি জার্মান আর দল হারলে আমি অনুপ্রবেশকারী। বারবার আমাকে এই কথা শুনতে হয়েছে।' 

তুরস্কের সঙ্গে জার্মানির কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো না হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয়েছিল ওজিল ও ইলখাই গুন্ডোয়ানকে। রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরুর  আগে গত মে মাসে লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান। সেখানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পান ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন এমন দুই তুর্কী বংশোদ্ভুত জার্মান ফুটবলার মেসুত ওজিল ও ইলখাই গুন্ডোয়ান। দুজনে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছবিও তোলেন। যে ঘটনার জেরে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হয় পুরো জার্মানিতে।

ওজিলদের সমর্থন করেননি অনেক জার্মানই। ওজিলরা জার্মানির হয়ে খেলতে নেমে এই ঘটনার জন্য প্রচণ্ড কটূক্তিও শুনতে হয় তাদের। গুন্ডোয়ান বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেও ওজিল এত দিন মুখ খোলেননি। রবিবারই প্রথম আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেন আর জার্মানির হয়ে খেলবেন না।

ওজিল তার টুইটারে লেখেন, 'তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার ছবি তোলার সঙ্গে রাজনীতি বা নির্বাচন প্রক্রিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।আমার দুটি হৃদয়। একটি জার্মান। অন্যটি তুরস্কের। মনে রাখবেন ওই অনুষ্ঠানে যাওয়ার অর্থ ছিল আমার পরিবারের আদি বাসভূমিকে সম্মান জানানো।'

তুরস্কের প্রতি নিজের দুর্বলতার কথাও গোপন করেননি ওজিল, 'ছোটবেলায় আমার মা আমাকে শিখিয়েছিলেন কখনও ভুলে যেও না তোমার জন্ম কোথায়। তোমার আগমন কোথা থেকে। আমার কাছে সেই শিক্ষার মূল্য আজও একই রকম গুরুত্বপূর্ণ।'

বিবৃতিতে ওজিল জানান, 'দলে থাকা পোলান্ডের খেলোয়াড়দের তো কখনও জার্মান-পোলিশ বলা হয় না। আমাদের কেন জার্মান-তূর্কি বলা হয়! কারণ, আমরা অন্য ধর্মের বলে?'

ওজিল আরও জানিয়েছেন, তুরস্ক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করার সেই দিনটায় তাদের মধ্যে শুধুই ফুটবল নিয়ে কথা হয়েছিল। কিন্তু জার্মানরা এখনও তার প্রতি সদয় নয়। এই মানসিকতা তৈরি হওয়ার কারণ তুরস্কে তাদের সেই ছবি নিয়ে নির্বাচনী প্রচারের কাজে লাগানো হয়েছিল। তাই তাদের বেশি সমালোচনা হয়।



মন্তব্য