kalerkantho


কলম্বো টেস্টে 'ঘূর্ণিঝড়'; চালকের আসনে লঙ্কানরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ জুলাই, ২০১৮ ১৯:৩৪



কলম্বো টেস্টে 'ঘূর্ণিঝড়'; চালকের আসনে লঙ্কানরা

৫ উইকেট শিকারী আকিলা ধনাঞ্জয়া। ছবি : এএফপি

কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিনও স্পিনারদের দাপট অব্যাহত রয়েছে। দ্বিতীয় দিন পতন হওয়া ১৪ উইকেটের মধ্যে স্পিনাররাই নিয়েছেন ১৩টি। এর মাঝেই কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে চালকের আসনে বসে গেছে শ্রীলঙ্কা। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ৩৬৫ রানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ইনিংসে ৩৩৮ রানে অলআউটের পর দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১২৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে ২১৪ রানের লিড পায় লঙ্কানরা। এই লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে আরও ১৫১ রান তুলে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করে স্বাগতিক দল।

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৯ উইকেটে ২৭৭ রান তুলেছি শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের পতন হওয়া ৯টির মধ্যে ৮ উইকেটই শিকার করেন দক্ষিণ আফ্রিকার বাঁ-হাতি স্পিনার কেশব মহারাজ। ম্যাচের প্রথম দিন ১১৬ রানে ৮ উইকেট শিকার করে স্বাগতিক লঙ্কানদের টুটি চেপে ধরেন তিনি।

দ্বিতীয় দিন বাকী ১ উইকেট থেকে ৬১ রান যোগ করতে পারে শ্রীলঙ্কা। আকিলা ধনানঞ্জয়া ১৬ ও রঙ্গনা হেরাথ ৫ রান নিয়ে দিন শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত হেরাথ ৩৫ রানে ফিরলেও, ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন ধনানঞ্জয়া। লঙ্কানদের প্রথম ইনিংসে ৪১.১ ওভারে ১২৯ রানে ৯ উইকেট নেন মহারাজ। যা বিদেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের সেরা বোলিং ফিগার।

এতদিন এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন ল্যান্স ক্লুজনার। ১৯৯৬ সালে কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ৬৪ রানে ৮ উইকেট শিকার করেছিলেন ক্লুজনার। এ ইনিংস দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টেস্টে সেরা বোলিং ফিগারে হাগ টেফিল্ডের পাশে বসলেন মহারাজ। ১৯৫৭ সালে টেফিল্ড জোহানেসবার্গে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১৩ রানে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন।

এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে মহাবিপদে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের ঘুর্ণিতে ১৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। মিডল-অর্ডারে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন হাশিম আমলা, অধিনায়ক ফাফ ডু-প্লেসিস, তেম্বা বাভুমা ও উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি কক। কিন্তু তাদেরকে বেশিক্ষণ লড়াই করতে দেয়নি শ্রীলঙ্কার তিন স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরা-ধনাঞ্জয়া ও হেরাথ। ফলে ১২৪ রানেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস।

দলের পক্ষে ডু-প্লেসিস ৪৮, ডি কক ৩২, আমলা ১৯ ও বাভুমা ১১ রান করেন। ১৯ রানের ইনিংস খেলার পথে দক্ষিণ আফ্রিকার তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৯ হাজার রান করেন আমলা। প্রোটিয়াদের প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার পক্ষে ধনাঞ্জয়া ৫টি, পেরেরা ৪টি ও হেরাথ ১টি উইকেট নেন।

স্পিনারদের দৃঢ়তায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১২৪ রানে অলআউট করে দিয়ে ২১৪ রানের বড় লিড পায় শ্রীলঙ্কা। সেই লিডকে দিন শেষে আরও বড় করেছে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসের মত দ্বিতীয় ইনিংসেও শ্রীলঙ্কাকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার দানুস্কা গুনাথিলাকা ও দিমুথ করুনারত্নে। প্রথম ইনিংসে ১১৬ রান যোগ করা গুনাথিলাকা-করুনারত্নে এবার ৯১ রানের সূচনা এনে দেন।

৬১ রান করা গুনাথিলাকাকে শিকার করে শ্রীলঙ্কার উদ্বোধণী জুটি ভাঙ্গেন দক্ষিণ আফ্রিকার মহারাজ। শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় উইকেটও দ্রুত তুলে নেন মহারাজ। তিন নম্বরে নামা ধনানঞ্জয়া ডি সিলভাকে মহারাজ শুন্য হাতে ফেরত পাঠালে ১০২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।

দিনের শেষ ভাগে আরও একটি উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তবে সেটি রান আউট। ১৮ রান করে ফিরেন কুশল মেন্ডিস। এরপর দিনের শেষভাগে আর কোন উইকেটের পতন হতে দেননি করুনারত্নে ও সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। দুজনে অপরাজিত থেকেই দিন শেষ করেন। করুনারত্নে ৫৯ ও ম্যাথুজ ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন। এই ইনিংসে মহারাজ ২ উইকেট নিয়েছেন।



মন্তব্য