kalerkantho



যে রেফারি না থাকলে হয়তো আরও একটি বিশ্বকাপ পেত ফ্রান্স...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জুলাই, ২০১৮ ১৭:২৫



যে রেফারি না থাকলে হয়তো আরও একটি বিশ্বকাপ পেত ফ্রান্স...

লাল কার্ড দেখে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়ছেন সুপারস্টার জিনেদিন জিদান (বামে)। জিদানকে লাল কার্ড দেখতে হয়েছিল চতুর্থ রেফারি লুইস মেদিনা কান্তালেহো (ডানে)। ছবি : ইন্টারনেট

অধিনায়ক দিদিয়ের দেশ্যম আর মহাতারকা জিনেদিন জিদানের হাত ধরে ১৯৯৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল ফ্রান্স। এর ২০ বছর পর ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে শিরোপা পুনরুদ্ধার করে ফরাসিরা। এই দলের কোচ সেই দিদিয়ের দেশ্যম। এর মাঝে ২০০৬ বিশ্বকাপেও শিরোপা জিততে পারত ফরাসিরা; দ্বিতীয় শিরোপা জিততে পারতেন জিদান। কিন্তু সবকিছু গোলমাল করে দিয়েছিলেন একজন রেফারি। শুধু তার কারণেই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল মহাতারকা জিনেদিন জিদানকে।

২০০৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে আছে ইতালিয়ান ডিফেন্ডার মার্কো মাতোরাজ্জিকে জিনেদিন জিদানের ঢুস। অগ্নিগর্ভ ফাইনালে শিরোপা মিশনে থাকা ফরাসি তারকা আচমকা এই কাণ্ড করে বসেন। ঢুস খেয়ে মাটিতে পড়ে যান মাতোরাজ্জি। ছুটে আসেন রেফারি, চিকিৎসক এবং বাকী খেলোয়াড়রা। কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, জিদানের মতো একজন মহাতারকা এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন! 

ওই ম্যাচে ফিল্ড রেফারি ছিলেন আর্জেন্টিনার হোরাসি্ এলিজোন্দো। সম্প্রতি তিনি কথা বলেছেন ফুটবল ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে থাকা ওই ম্যাচটি নিয়ে। এলিজোন্দো বলেছেন, জিদান এমন একটা কাণ্ড করার পর সবাই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন। এমনিতেই এতবড় একজন তারকাকে শাস্তি দেওয়ার আগে দুবার ভাবতে হয়। তার ওপর জিদান আসলে কী করেছিলেন, সেটা রেফারির দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। বাকী দুই রেফারিও ঘটনা দেখতে পাননি। এখন উপায়?

ঘটনার মূল কারণ জানতে এলিজোন্দো ইন্টারকমে কথা বলেন চতুর্থ রেফারি লুইস মেদিনা কান্তালেহোর সঙ্গে। এই স্প্যানিশ রেফারিই তাকে পথ খুঁজে দেন। এলিজোন্দোর ভাষায়, 'আমি দেখলাম মাতেরাজ্জি ৩০/৪০ মিটার দূরে মাটিতে শুয়ে আছে। তাই আমি খেলা থামালাম। আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম, কী হচ্ছে এখানে?  ইন্টারকমে আমার সহকারীদের জিজ্ঞেস করলাম ঘটনা কী? বিস্ময়কর ব্যাপার, দুজনই জবাব দিল, তারা কিছুই দেখেনি। আমি বুঝলাম, বিশাল ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছি।' 

ঠিক ওই মুহূর্তে এলিজোন্দোর কাছে দেবদূত হয়ে ধরা দেন কান্তালেহো। এলিজোন্দো বলেন, 'চতুর্থ রেফারির সঙ্গে ইন্টারকমে যোগাযোগ করতেই সে বলে উঠল, মাতেরাজ্জিকে মারাত্মকভাবে মাথা দিয়ে ঢুস দিয়েছে জিদান। আমি ঘটনা দেখেছি। হোটেলে গিয়ে সেই ভিডিও দেখলে তোমার কাছে অবিশ্বাস্য লাগবে।'

চতুর্থ রেফারির কাছে নিশ্চিত হয়ে এলিজোন্দো চলে যান ঘটনাস্থলে। অগ্নিগর্ভ গ্যালারির সামনে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে অবাক করে দিয়ে পকেট থেকে লাল কার্ড বের করেন তিনি। মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে মাঠ ছেড়ে চলে যান ফরাসি মহানায়ক। ম্যাচটি চলে যায় টাইব্রেকারে। জিতে যায় ইতালি। কান্তালেহো যদি ঘটনাটি না দেখতেন, জিদান যদি মাঠ না ছাড়তেন; হয়তো সেই বিশ্বকাপ জিতে যেত ফ্রান্স। যদিও সেটা আরেকটি 'হ্যান্ড অব গড' এর মতো বিতর্কিত ঘটনা হতো।



মন্তব্য