kalerkantho



ফাইনালের ভাগ্য মাঝমাঠের কর্তৃত্বে

মারিও কেম্পেস লিখছেন কালের কণ্ঠে   

১৫ জুলাই, ২০১৮ ১০:২৪



ফাইনালের ভাগ্য মাঝমাঠের কর্তৃত্বে

বিশ্ব ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও  ক্রোয়েশিয়া। একটা দল লড়বে ২০ বছর অপেক্ষার পর দ্বিতীয় শিরোপার জন্য, অন্য দলের লড়াই প্রথমবার বিশ্বজয়ের ইতিহাস লেখার জন্য। সে ফল নিষ্পত্তির আগে ক্রোয়েশিয়ার প্রতিটি খেলোয়াড়কে আমি অভিনন্দন জানাই। মাঠে যোদ্ধার মতো লড়েছে তারা, দেখিয়েছে শারীরিকভাবে কতটা ফিট, হূদয় সঁপে দিয়ে খেলার যে মানসিকতা আর চোখে সাফল্যের যে আগুন দেখছি; এককথায় অসাধারণ। রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেই এক দফা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ক্রোয়েশিয়া।

এবারের বিশ্বকাপে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে সেট পিস দারুণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডেড-বল পরিস্থিতি থেকে এবার অনেক গোল হয়েছে। সব দলই চেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষের বিপজ্জনক সীমানায় ফ্রি কিক কিংবা কর্নার আদায়ের জন্য। সেটাকে উৎস বানিয়ে গোলের চেষ্টা করেছে সব দল। তা ছাড়া দুই উইং দিয়ে আক্রমণে গিয়ে বক্সের মধ্যে বল ফেলে গোলের সুযোগ খুঁজেছে দলগুলো। সে কারণে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঝলক সেভাবে দেখিনি এবার। দারুণ মুভমেন্ট থেকে গোল হয়েছে কমই।

ফ্রান্স আর ক্রোয়েশিয়া ফাইনালে উঠে এসেছে তাদের শক্তিশালী মাঝমাঠের কল্যাণে। লুঝনিকিতে যা-ই হোক না কেন, তার অনেকটাই নির্ভর করবে কান্তে-পগবা আর মডরিচ-রাকিটিচের লড়াইয়ের ওপর। ফ্রান্স প্রতিটি ম্যাচেই কর্তৃত্ব করেছে মধ্যমাঠের শক্তিতে। ক্রোয়েশিয়ারও চালিকাশক্তি দলটির মাঝমাঠ। তাই আজ যে দল মাঝমাঠের দখল নিতে পারবে, এগিয়ে থাকবে তারাই।

এবারের গোল্ডেন বল জেতার অন্যতম দাবিদার লুকা মডরিচ। বয়স ৩৩, তবু মাঝমাঠে এই টুর্নামেন্টের সেরা সে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়েও এ মৌসুমে দারুণ খেলেছে মডরিচ। বিশ্বকাপেও এসেছে সেরা ফর্ম নিয়ে। সেমিফাইনালের মোড় ঘুরিয়েছে মডরিচ, অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচটাকে নিয়ে ইংল্যান্ডকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছে মডরিচ। ও অনেক পরিণত ফুটবলার, জানে প্রতিপক্ষের আক্রমণগুলোকে ভেঙে দিতে পারলেই অর্ধেকটা কাজ হয়ে যায়। বলের দখল হারায় না মডরিচ। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙে, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং সুযোগ পেলেই বিপজ্জনক সব পাস দেয়। মোদ্দাকথা, প্রতিপক্ষকে ম্যাচের কর্তৃত্ব করতে দেয় না মডরিচ। দেখে মনে হবে খুব সহজে কাজগুলো করছে ও, যেকোনো খেলায় এটাই সবচেয়ে কঠিন। নিজেদের গোলের সামনে প্রতিপক্ষকে কখনোই জায়গা ছেড়ে দেয় না মডরিচ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পুরো দলকে নিয়ে কাজটা করেছে ও। আমি মনে করি, মডরিচই বিশ্বসেরা মিডফিল্ডার। তিনজনের মাঝমাঠে তাকে সাহায্য করে মার্সেলো ব্রোজোভিচ। ওর প্রথম পাস নিখুঁত, যা দলকে নির্ভরতা দেয়। সবচেয়ে বড় কথা ব্রোজোভিচ সারাক্ষণই দৌড়ায়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২০ মিনিটে ও দৌড়েছে ১৬ কিলোমিটার। এরপর রয়েছে ইভান রাকিটিচ। মডরিচের সঙ্গে জুটি বেঁধে মাঝমাঠে ক্রোয়েশিয়ার আধিপত্য বিস্তারে দারুণ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

তার পরও ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। বিশেষজ্ঞদের বেশির ভাগের কাছেই ফাইনালের ফেভারিট ১৯৯৮ আসরের চ্যাম্পিয়নরা। তবে পূর্বাভাস মেনে তো আর সব হয় না। কখনো কখনো মনের সুতীব্র আকাঙ্ক্ষা দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলার কীর্তি তো কম নেই। তাই অন্য সবার মতো আমিও অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছি নতুন চ্যাম্পিয়ন (ক্রোয়েশিয়া) নাকি একটি দলের (ফ্রান্স) দ্বিতীয়বার শিরোপা জয় দেখার।  



মন্তব্য