kalerkantho


গুহা থেকে মুক্তি

ফ্রান্সের জয় থাই খুদে ফুটবলারদের জন্যে

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৮ ১১:৪৫



ফ্রান্সের জয় থাই খুদে ফুটবলারদের জন্যে

ইনসেটে উদ্ধারের পর থাই খুদে ফুটবলাররা

রুদ্ধশ্বাস অভিযান। থাইল্যান্ডের থাম লুয়াং গুহায় ১৮ দিন আটকে থাকা ১২ কিশোর ফুটবলারকে উদ্ধার করা গেছে অবশেষে। তাদের মৃত্যুপুরী থেকে বের হয়ে আসাটা ছুঁয়ে গেছে পল পগবাকেও। এই অভিযানে নজর রাখছিলেন তিনি। বেলজিয়ামকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিতের পর জয়টা পগবা উৎসর্গ করলেন সেই কিশোরদেরই, ‘এই জয় উৎসর্গ করছি দিনের নায়কদের জন্য। দারুণ করেছ ছেলেরা, তোমরা ভীষণ শক্ত।’

কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধারের সময় প্রাণও হারান এক ডুবুরি। বন্যাকবলিত থাম লুয়াং গুহায় অভিযানে দেরি হলে প্রাণহানির শঙ্কা ছিল আরো। থাই নেভি সিল ও বিশ্বের সেরা কজন ডুবুরির প্রচেষ্টায় অভিযানের সফল পরিসমাপ্তি শেষ পর্যন্ত। এই খেলোয়াড়দের ফিফা আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বিশ্বকাপ ফাইনাল উপভোগ করতে। কিন্তু এত দিন একটা গুহায় আটকে থাকা কিশোররা শারীরিক দুর্বলতার কারণে থাইল্যান্ড থেকে আসতে পারবে না মস্কোয়। ফিফা তাই অন্য কোনো টুর্নামেন্টে তাদের আমন্ত্রণ জানাতে চেয়ে দিয়েছে বিবৃতি, ‘মস্কোয় ভ্রমণের মতো শারীরিকভাবে সুস্থ নয় কিশোর ফুটবলাররা। ফিফার অন্য কোনো অনুষ্ঠানে ওদের নিয়ে এসে আনন্দটা ভাগাভাগি করে নেব।’

পল পগবাও নিশ্চয়ই চাইবেন কিশোর ফুটবলারদের সঙ্গে কোনো এক সময় দেখা করতে। আপাতত তাঁর লক্ষ্য ফাইনাল। ১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স। তখন পগবার বয়স পাঁচ বছর। এরপর ২০০৬ সালে দেখেছেন ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারতে। এবার আর কোনো হৃদয় ভাঙার গল্প নয়। গত ইউরোয় ফাইনালে পৌঁছে শেষ মুহূর্তের গোলে হারার বেদনা আরো একবার পেতে চান না পগবা, ‘আমরা এখন ফাইনালে। বিশ্বকাপ ফাইনাল অনেক বড় একটা মঞ্চ। তবে এখনো শিরোপা থেকে এক পা দূরে আমরা। ইউরোতে শিরোপা জয়ের খুব কাছাকাছি ছিলাম। দেশের মানুষের সামনে আমরা নষ্ট করেছি সেটা। এবার আর কোনো ভুল নয়। শিরোপা জিতেই ফিরতে চাই দেশে।’

সমালোচনা মাথায় নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিলেন পগবা। প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেদের দেশের দর্শকই দিয়েছিল দুয়ো। বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়ে সমালোচনা পেছনে ফেলেছেন ফ্রান্সের মাঝমাঠের এই প্রাণ। কোচ দিদিয়ের দেশম প্রশংসায় ভাসালেন তাঁকে, ‘পগবা মাঠের সবখানেই ছিল। শুধু আক্রমণে নয়, দারুণ সহযোগিতা করেছে রক্ষণেও।’ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ হোসে মরিনহোও খুশি পগবাকে নিয়ে, ‘অনেক পরিণত ফুটবল খেলেছে পগবা।’ এই খুশিটা আরো বাড়াতে চান পগবা, ‘আমি জানি ফ্রান্সের সবাই খুশি। ১৫ জুলাই ফাইনালে সেই খুশিটা বাড়াতে চাই আরো।’ 



মন্তব্য